যাদের সঙ্গে বেশি বন্ধুত্ব, তাদের সঙ্গে কম কাজ হয়
‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’সহ দুটি সিনেমার শুটিং শেষ করেছেন গত বছর। এ বছর শুরু করতে যাচ্ছেন নতুন আরেকটি সিনেমার শুটিং। প্রথম ধারাবাহিক ‘এটা আমাদেরই গল্প’ দিয়ে আলোচনায় সুনেরাহ্ বিনতে কামাল। নতুন বছরের পরিকল্পনাসহ নানা বিষয়ে শনিবার তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন মনজুরুল আলম
প্রথম আলো :
নতুন বছরে প্রত্যাশা কী?
সুনেরাহ্ বিনতে কামাল: নতুন বছরে আমার চাওয়া খুবই সাধারণ। ভালো ভালো কাজ। পরিবারকে ভালো রাখা। সবাই যেন সুস্থ থাকি, ভালো থাকি।
প্রথম আলো :
এ বছর শুটিং শুরু করেছেন?
সুনেরাহ্ বিনতে কামাল: নতুন বছরে এখনো শুটিং শুরু করিনি। বেশ কদিন ধরে আম্মু অসুস্থ। আম্মুকে আসলে দেখার তেমন কেউ নেই। আম্মুকে সময় দিতে হচ্ছে। আম্মু বেশ কদিন আগে হাসপাতালেই ভর্তি ছিলেন। এখন বাসায় থেকেই মেডিসিন নিচ্ছেন। আজ (গতকাল) আবার ডাক্তারের কাছে নিতে হবে। সোমবার থেকে আবার শুটিং শুরু হবে। সব নিয়ে বেশ চিন্তিত।
প্রথম আলো :
বছরটা মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে শুরু হলো?
সুনেরাহ্ বিনতে কামাল: মানসিকভাবে চিন্তায় থাকলেও চাপ অনুভব করছি না। শুটিং তো করতেই হবে। এটা আমার পেশা। শুটিংয়ের জন্য অনেক আগে থেকেই কমিটমেন্ট দেওয়া। প্রতিটা কাজ নিয়ে টিমের আলাদা একটি প্রস্তুতি থাকে, আরও অভিনয়শিল্পী থাকেন। মনোযোগ দিয়ে কাজটা করতে হয়। জীবনটা আসলে এমনই। সবকিছুই চালিয়ে যেতে হয়।
প্রথম আলো :
ক্যারিয়ারে প্রথম ধারাবাহিকে নাম লেখালেন। আগে লেখাননি কেন?
সুনেরাহ্ বিনতে কামাল: অনেক আগে থেকেই প্রস্তাব পেয়েছি। কিন্তু ধারাবাহিক করতে চাইনি। এবার যখন (মোস্তফা কামাল) রাজ ভাই গল্প শোনালেন, মনে হলো গল্পটা খুবই ভালো। রাজ ভাইয়ের ওপর আস্থা ছিল। এখন তো তুমুল সাড়া পাচ্ছি। প্রতি পর্ব কোটির বেশি দর্শক দেখছেন, ভাবা যায়! আমার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল না।
প্রথম আলো :
বিদেশে শুটিংয়ে তো প্রায়ই যেতে হয়। এবার নেপালে শুটিংয়ে নতুন কী অভিজ্ঞতা হলো?
সুনেরাহ্ বিনতে কামাল: নেপালে শুটিং করেছি একদম মাইনাস ডিগ্রিতে। শীতের মধ্যে গল্পের প্রয়োজনে হালকা পোশাক পরতে হয়েছে। তবে নেপাল বিমানবন্দরের অভিজ্ঞতা ছিল একদমই আলাদা। সেখানে ছোট ছোট বাংলাদেশি বাচ্চা, হয়তো মা-বাবার সঙ্গে ঘুরতে গিয়েছে, আমাকে দেখেই দৌড়ে কাছে আসে। বলে, ‘তুমি সায়রা না? আমি তোমার সিরিয়াল দেখি।’ এটা দারুণ ব্যাপার। এমন শিশুভক্ত কম পেয়েছি। আবার শিশুদের মায়েরা বলেন, ‘এই যে রাজকুমারী বউমা, পরের পর্ব কবে আসবে।’ নাটকটির কারণে প্রায়ই এমন মন্তব্য পাচ্ছি। ভালো লাগে, সবাই চরিত্রের নাম ধরে ডাকছে। দিন শেষে কোনো কাজ থেকে এমন প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষাতেই থাকি।
প্রথম আলো :
জনপ্রিয়তাকে কীভাবে দেখেন?
সুনেরাহ্ বিনতে কামাল: আরও জনপ্রিয় হতে হবে ভাবি না। পাল্লা দিয়ে আমাকে আরও ভালো কাজ করতে হবে, এমন চ্যালেঞ্জ কখনোই নিইনি। কাজটাই শুধু মনোযোগ দিয়ে করতে চাই। ভালো কাজ করলেই দর্শক আমাকে মনে রাখবে। আমি মন দিয়ে কাজ করি।
প্রথম আলো :
শোনা যায়, চলচ্চিত্রের অভিনয়শিল্পীরা নাটক করলে বড় পর্দায় দর্শক তাঁদের দেখতে চান না...
সুনেরাহ্ বিনতে কামাল: আপনার প্রশ্নের বড় একটা ব্যাখ্যা আছে। আগে মৌসুমী, শাবনূর আপুদের সময়ে নিয়মিত সিনেমা হতো। তখন হয়তো ধারণা ছিল, যাঁকে টিভি খুললেই দেখা যায়, তাঁকে টাকা দিয়ে দেখতে যাব কেন। আমি কিন্তু শুরু থেকেই সিনেমার শিল্পী। প্রথম সিনেমা করেই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছি। করোনার সময় দুই বছর বসে থেকেছি, তবু সিনেমা ছাড়া কাজ করিনি। অনেক পরে নাটকে এসেছি। এখন আমার ক্ষেত্রে মনে হয়, সিনেমা থেকে নাটকে আসাটা ভালো সিদ্ধান্ত। অনেক কিছু শিখতে পারছি। এখন সময় বদলেছে।
প্রথম আলো :
কখনো কোনো পরিচালকের ছবিতে কাজ করতে না পারার আফসোস থাকে?
সুনেরাহ্ বিনতে কামাল: আমার ক্ষেত্রে এমনটা কম হয়। কারণ, আমাকে যে নির্মাতা গল্পে নিতে চান, তাঁরা বেশ আগে থেকেই আমাকে বলে রাখেন। যেমন আমি শিহাব শাহীন ভাইয়ের দাগি সিনেমায় ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করেছি। আমাকে দরকার বলে তিনি আমাকে রাজি করিয়েছেন। আবার তানিম নূর ভাইয়ের উৎসব সিনেমার ক্ষেত্রেও একই কথা বলা যায়। সিনেমা নিয়ে প্রত্যেক পরিচালকেরই একটা আলাদা চিন্তাভাবনা থাকে। ডিরেক্টররা চান না ছাড় দিয়ে সিনেমা বানাতে। তাঁরা সিনেমার জন্য যাঁকে দরকার, তাঁকেই কাস্টিং করেন।
প্রথম আলো :
সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হওয়ার সময় নাকি অনেক শর্ত দেন?
সুনেরাহ্ বিনতে কামাল: আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিনেমার টিমে কারা আছেন, সেটা জানা। সিনেমার কস্টিউম কে দেখছেন, আমার কো–আর্টিস্ট কে, ক্যামেরাম্যান কে, আমরা কত দিন রিহার্সাল করব—এগুলো জেনে পছন্দ হলেই আমি চুক্তিবদ্ধ হই। কারণ, টিম আমাকে শুরুতে কনফিডেন্ট করে তোলে। আরেকটা কথা, পরিচালকেরাই চিত্রনাট্য দেওয়ার সময় জানান আমার কথা ভেবে লেখা। সেখানে আমি সব জেনে সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি। কারণ, শুনতে যেন না হয় আমার ঘাটতি ছিল।
প্রথম আলো :
পরিচিত নির্মাতাদের কখনো কাস্টিংয়ের কথা বলেন?
সুনেরাহ্ বিনতে কামাল: বিনোদনজগতে আমার অনেক বন্ধু পরিচালক আছে। তাদের সঙ্গে নিয়মিত কথা হয়। কিন্তু তাদের কাছে কাজের কথা আমি বলতে পারি না। আমার যাদের সঙ্গে বেশি বন্ধুত্ব, তাদের সঙ্গে কম কাজ হয়। অনেকে মনে করে নুহাশ হুমায়ূনের অনেক কাজে অভিনয় করেছি। আসলে তা না।
প্রথম আলো :
আর ব্যস্ততা...
সুনেরাহ্ বিনতে কামাল: এর মধ্যে শেষ করেছি ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার কাজ। দারুণ একটি গল্প। পরিচালক রুবাইয়াত হোসেনের সঙ্গে প্রথম কাজ। নারীপ্রধান এ গল্পটি আমার জন্য অনুপ্রেরণার। শিগগির আরও একটি সিনেমার শুটিং শুরু করব। সেটা এ মুহূর্তে বলা যাবে না। ধারাবাহিক ও সিঙ্গেল নাটক নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকব।