default-image

প্রায় দুই বছর পর একক কনসার্টে ফিরছে ‘মেঘদল’...

করোনাভাইরাস আসার আগে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে নিকেতনে ‘জাংশন’ নামের একটি সংগঠনের আমন্ত্রণে একটা সফল শো করেছিলাম। তারপর আর একক কনসার্ট করা হয়নি। এবার ঢাকার সাভার উপজেলার বিরুলিয়ায় ‘ঝিড় ঝিড়’ নামের একটি সংগঠনের আয়োজনে একক কনসার্ট করছি।

default-image

কনসার্টের ভেন্যু হিসেবে বিরুলিয়া বেছে নেওয়ার কারণ কী?

প্রথম কথা হলো, আমরা আয়োজকদের আমন্ত্রণে গান করছি। আয়োজকেরা এটা ভালো বলতে পারবেন। তা ছাড়া আমাদের আগেও অন্য ব্যান্ড এই আয়োজনের সঙ্গে ছিল এবং মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছে। ঢাকা থেকে দূরে একটা নতুন ভেন্যু—আমার মনে হয় মানুষ গান শুনতে একটু দূরে হলেও যেতে চায়। শহরের ভেতরে নির্দিষ্ট একটি জায়গার মধ্যে সব সময় অনুষ্ঠান হয়—তার বাইরে আয়োজন হলেও শ্রোতারা যেতে চায়—বিশেষ করে তরুণেরা। নতুন ভেন্যুতে অনুষ্ঠানকে আমরা স্বাগত জানাই। যেমন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে নিয়মিত কনসার্ট হচ্ছে। তা ছাড়া ভেন্যুর বিকেন্দ্রীকরণ করা গেলে শ্রোতাদের জন্য খুব ভালো। আমরা যেমন বলি, আমরা গান নিয়ে মানুষের কাছ যেতে চাই; সে ক্ষেত্রে এটি সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

করোনাভাইরাস মহামারি পেরিয়ে কনসার্টে ফিরছেন দর্শকেরা, মাঝে কয়েকটি সম্মিলিত কনসার্টে পাওয়া গেছে আপনাদের। দর্শকদের প্রতিক্রিয়া কেমন দেখছেন?

‘এ হাওয়া’ যখন মুক্তি দিলাম, তখন সেটা ট্রেন্ডে এক নম্বরে চলে এল। আমাদের জন্য এটা বিশাল ব্যাপার। আমরা কখনোই ট্রেন্ডের মধ্যে ছিলাম না। মানুষ অনেক দিন বিরতির পর একটা গান পেয়েছে। সেই গানের যে প্রতিক্রিয়া পেয়েছি—তা আমাদের উজ্জীবিত করল। আমরা ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ শ্রোতাদের কাছে। যা-ই হোক, আমাদের ২৩ সেপ্টেম্বরের শো নিয়ে যদি বলি তাহলে আশার কথা হচ্ছে, মানুষ সব ব্যস্ততার মধ্যেও টিকিট কাটছে, বিশেষ ব্যবস্থায় গাড়ি ভেন্যুতে যাচ্ছে। বিষয়টিকে দর্শকেরা গ্রহণ করেছেন। সবকিছু মিলিয়ে আমরা আশাবাদী বলতে পারেন।

হাওয়া সিনেমাকে উৎসর্গ করে ‘এ হাওয়া’ গানটি বেশ আলোচিত হয়েছে, সামনে সিনেমার গানে ‘মেঘদল’-কে পাওয়া যাবে কি না?

সিনেমার গান গাইতেই চাই, অবশ্যই গাইতে চাই। ‘হাওয়া’ সিনেমার প্রচারণায় গানটি উৎসর্গ করেছে মেঘদল। সিনেমার মধ্যে গানটি ছিল না। এর বাইরে গিয়ে সিনেমার জন্য যে গান করা, সেটা তো করতেই চাই। যদি গল্প, নির্মাতা ইত্যাদি বিষয়গুলো পছন্দ হয়, তাহলে সিনেমার জন্য গান করতেই চাই।

default-image

‘অ্যালুমিনিয়ামের ডানা’ অ্যালবামের একটি করে গান মুক্তি দিচ্ছেন, একসঙ্গে না দিয়ে এভাবে মুক্তি দেওয়ার ভাবনা এল কীভাবে?

হিসাবটা খুবই সহজ। শৈশবে আমরা একটা অ্যালবাম কিনে গান শুনতাম। অ্যালবামের ভেতরে তখন একটা স্টোরি থাকত। শ্রোতারা তখন টাকা দিয়ে গান শুনত। মনে আছে, একটা ক্যাসেটের দাম ছিল ৪০ টাকা। বলতে পারেন গান নিয়ে সম্মানীর জায়গাটা ছিল। পরবর্তী সময় গান ফ্রি হয়ে গেল। মাধ্যমগত জায়গা থেকে এমন জায়গায় চলে গেল, সেখানে আটটা কিংবা দশটা গান একসঙ্গে দিলেও যায়-আসে না। কারণ, আপনি তো ফ্রি পাচ্ছেন। শ্রোতাদের সেইভাবে মনোযোগ দেওয়ার সময় ও সুযোগ কোনোটাই নেই। ফলে ওখান থেকে একটা-দুইটা গান পিক করে। ওটা নিয়েই থাকে, আর অন্য গানগুলো অবহেলায় পড়ে থাকে। এটা বিশ্বজুড়েই ঘটছে। আর একক গান প্রকাশের ধারণা আছে। সম্ভবত এই কারণেই শ্রোতারা দশটা গানে মনোযোগ দিতে পারে না। তা ছাড়া গানের সঙ্গে একটা ভিজ্যুয়াল লাগে, ভিজ্যুয়াল ছাড়া গান আরও তলানিতে চলে যায়।
কেউ যদি বিপ্লবী জায়গা থেকে ভাবে, আমি আটটা কিংবা দশটা গান নিয়ে অ্যালবাম করব, কোনো ভিডিও দেব না—সেটা কিন্তু হতে পারে। তার ভাবনাকে কুর্নিশ জানাই। পাশাপাশি আমি এটাও মনে করি, এটা বাস্তবসম্মত নয়। সাম্প্রতিক সময়ে যতগুলো ব্যান্ড অ্যালবাম রিলিজ করেছে, খেয়াল করে দেখবেন, এ-জাতীয় অভিযোগ তাদের আছে। তবে স্পটিফাই যখন আসল, তখন আবার ভিডিও ছাড়া মানুষ গান শুনতে আগ্রহী হলো। তা ছাড়া স্পটিফাইতে সাউন্ডের গুণগত মান খুব ভালো, সেখানেও ইউটিউবের মতো সাবস্ক্রিপশন সুবিধা আছে। সেখান থেকে শিল্পীরা টাকা পাচ্ছেন। এটার মধ্যে নতুন দিনের সূচনা হচ্ছে বলে আমি মনে করি। এগুলো মাথায় রেখেই মনে করি, একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর যদি গানগুলো প্রকাশ করি, সেটাতে মানুষ মনোযোগ দিতে পারে।

default-image

‘অ্যালুমিনিয়ামের ডানা’র কয়টা গান সামনে আসবে?

অ্যালুমিনিয়ামের ডানা অ্যালবামের আরও চারটি গান আসবে। হতে পারে, একটা গান বাড়তেও পারে। কয়েকটা গানের রেকর্ড হয়েছে, ভিজ্যুয়ালের কাজ চলছে। আমরা হয়তো ডিসেম্বর নাগাদ একটা কিছু রিলিজ করতে পারি। এর মধ্যে অন্য গানের কাজগুলোও চলবে।

সামনে ‘মেঘদল’-এর একক কনসার্ট কবে আছে?

১৪ অক্টোবর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ‘এই সময়ে’ শিরোনামে একটা শো আছে। এ ছাড়া আরও কয়েকটা শো নিয়ে কথা চলছে। চূড়ান্ত না হলে বলা কঠিন।

আলাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন