শুধু এই দিনে কেন, প্রতিদিনই তো মৃত্যুর কথা ভাবতে হবে
অভিনয়জীবনের দুই যুগ পার করেছেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী। এরই মধ্যে বয়সও পেরিয়েছে তাঁর হাফ সেঞ্চুরির ঘর। আজ ৩ নভেম্বর দেশের চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় এই অভিনেত্রীর জন্মদিন। ১১ নভেম্বর মুক্তি পাচ্ছে তাঁর নতুন চলচ্চিত্র দেশান্তর। ব্যক্তিজীবন ও চলচ্চিত্রজীবন নিয়ে কথা হলো এই অভিনেত্রীর সঙ্গে
প্রশ্ন :
জন্মদিনের শুভেচ্ছা।
ধন্যবাদ। যত দূর জানি, এক দিন পর প্রথম আলোরও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। তাই প্রথম আলোর সবাইকে এবং পাঠকদের জন্যও আমার পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা আর ভালোবাসা।
প্রশ্ন :
আপনাকেও ধন্যবাদ। প্রসঙ্গ যখন এল, একটা কথা জানতে চাই। আচ্ছা, আপনার অভিনয়জীবন শুরুর কয়েক বছর পরই প্রথম আলো যাত্রা শুরু করে। এই দীর্ঘ সময়ের প্রথম আলোকে কীভাবে আপনার পাশে পেয়েছেন?
সত্যি কথা বলতে, আমার পেশাগত জীবনে প্রথম আলোকে সব সময় ইতিবাচকভাবেই পাশে পেয়েছি। একজন চলচ্চিত্রকর্মী হিসেবে বলতে পারি, চলচ্চিত্রের যেকোনো সংকটে প্রথম আলো সামনের সারিতে থেকে অসাধারণ ভূমিকা রেখেছে। ভুল তথ্য দিয়ে কেউ আস্থা অর্জন করতে পারে না, প্রথম আলো তা প্রমাণ করেছে। তারা বরাবরই সত্যটিই সুন্দরভাবে উপস্থাপন করে। একজন শিল্পীর ভুলভ্রান্তি হতে পারে বা আমি এবং অন্য কোনো শিল্পীর বলা বা বোঝানোর মধ্যে ভুল থাকলেও প্রথম আলো বারবার ক্রস চেক করে শেষ পর্যন্ত সঠিক তথ্যই পাঠকের কাছে পৌঁছে দেয়। ভবিষ্যতেও সেভাবেই পাশে পাওয়ার প্রত্যাশা করছি। দেশের বিনোদন অঙ্গনের খবরে আরও বেশি গুরুত্ব পেলে ভালো লাগবে।
প্রশ্ন :
কারও মতে জন্মদিন মানে জীবন থেকে একটি বছর কমে যাওয়া। কেউ বলেন মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়া। এই দিনকে আপনি কীভাবে দেখেন?
শুধু এই দিনে কেন, প্রতিদিনই তো মৃত্যুর কথা ভাবতে হবে। মৃত্যুকে ভয় পেলে তো চলবে না। জন্মেছি যখন, একদিন তো মরতেই হবে। তাই মৃত্যুকে জয় করতেই মৃত্যুর ভাবনা ভাবতে হবে। মৃত্যুর আগপর্যন্ত যতক্ষণই বেঁচে আছি, ততক্ষণ কাজ করব। তা ছাড়া আমি স্বপ্ন দেখতে পছন্দ করি। তাই জেগে জেগে স্বপ্ন লালন করি, যাতে স্বপ্নগুলো মরে না যায়।
প্রশ্ন :
আপনি যখন চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন, তখন ফেসবুক ছিল না। বিশেষ দিনে শুভেচ্ছা জানাতে ভক্তরা চিঠি লিখত, ফুল আর চকলেট পাঠাতেন। এখন ফেসবুকে অনেক লেখালেখি হয়। কেমন লাগে?
পরিবর্তন সবাইকে মেনে নিতে হবে। আমরা এখন নতুন অনেক কিছুর সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি। তার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অন্যতম। ফেসবুকে বিশেষ এই দিনে নানা কিছু লেখা হয়। এমন সব স্মৃতি উসকে দেয়, যা অকল্পনীয়। যখন ফেসবুকে নানা ধরনের লেখা ও পুরোনো ছবির স্টিল, ক্লিপিংস দেখি, নস্টালজিক হই। আবেগতাড়িত করে। ভাবতে থাকি, মানুষ কত ব্যস্ত, তারপরও নিজে থেকে মনে করে আমাকে নিয়ে লিখছে, এ তো পরম প্রাপ্তি। অনেক লেখা আছে হৃদয় নাড়িয়ে যায়। পত্রপত্রিকা ও টেলিভিশনে এই দিনে লেখা হয় এবং বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করে। অভিনয়শিল্পী হিসেবে এসব তো আশীর্বাদ। একজীবনে কয়জনের ভাগ্যে এমনটা জোটে।
প্রশ্ন :
আপনি ও ওমর সানী দুজনই আপাদমস্তক চলচ্চিত্রের মানুষ। আপনাদের সন্তান ফারদীনকেও নির্মাণ ও প্রযোজনায় দেখা গেল। মেয়ে ফাইজাকে নিয়ে কী ভাবনা?
ফারদীন কিছু কাজ করেছে। আমরা তাকে উৎসাহ দিয়েছি। পরে আমরা দুজন বলেছি, প্রতিষ্ঠিতও হতে হবে। আমাদের দুজনের যা কিছু, সবই তো ওদের দুই ভাইবোনের। ফারদীন সিনেমা নিয়ে পড়াশোনা করেছে, তাতে আমরা খুশি। এখন পারিবারিক ব্যবসা দেখাশোনা করছে। অভিনয় না করলেও মা-বাবার অভিনয়জীবনের যা কিছু আছে, সবকিছু ফারদীনকেই ধরে রাখতে হবে। আর মেয়ে ফাইজার ইচ্ছা পাইলট হবে। আমরা কিছু বলছি না। কারণ, তার চাওয়া আমাদের কাছে বড়। ফাইজা সিনেমার আশপাশেও নেই, ব্যবসাও পছন্দ করে না।
প্রশ্ন :
১১ নভেম্বর নতুন চলচ্চিত্র ‘দেশান্তর’ মুক্তি পাচ্ছে। ছবিটি নিয়ে দর্শকদের আপনার কিছু বলার আছে?
এই ছবির গল্পের ভাবনাটা খুব সুন্দর। চরিত্রও বেশ মনে ধরেছে। এ ধরনের গল্পে কাজ করার মধ্যে চ্যালেঞ্জ যেমন আছে, আনন্দও আছে। আমার বিশ্বাস, আমরা শুটিংও ঠিকঠাক করেছি। দর্শকেরা প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে ছবিটি দেখলে নিশ্চয়ই তাঁদের ভালো লাগবে। এটা দেশপ্রেমের গল্প। একটা কথা কি, সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমাদের সিনেমার পরিবর্তন হচ্ছে। নানা ধরনের গল্পের ছবি হচ্ছে। এই সময়টাতে অভিনয়ে ফেরার জন্য যে ধরনের গল্প ও চরিত্র খুঁজছিলাম, দেশান্তর–এ তা পেয়েছি।
প্রশ্ন :
চলচ্চিত্রে সফলতা যেমন পেয়েছেন, তেমনি ব্যর্থতাও ছিল নিশ্চয়। দুটি বিষয়কে কীভাবে দেখেন?
একজন ‘মৌসুমী’ হয়ে মানুষের মনে জায়গা করতে পেরেছি। সবাই আমাকে ভালোবাসেন—এটা তো অনেক বড় অর্জন। পেছন ফিরে তাকালে দেখি, আমি যা চেয়েছি, তা-ই পেয়েছি। অনেকে ক্ষেত্রে বাড়তি অনেক কিছুও পেয়েছি। তবে জীবনে সফলতা যেমন আছে, তেমনি ব্যর্থতাও আছে। তবে ব্যর্থতার সেসব বলতে চাই না। আমি মনে করি, এসব বললে সৃষ্টিকর্তা নারাজ হন। কারণ, আমি বিশ্বাস করি, যা পাইনি, তা আমার জন্য ছিল না।