আড়াল থেকে বের হচ্ছি: মিফতাহ জামান

শুধু তোমাকে’, ‘দ্বিতীয়া’, ‘আদরের শুকতারা’ অ্যালবামের গানগুলো দিয়ে ধীরে ধীরে শ্রোতামহলে পরিচিতি পেয়েছেন সংগীতশিল্পী মিফতাহ জামান। আজ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের মঞ্চে প্রথমবার একক কনসার্টে অংশ নেবেন এই গায়ক। গানসহ নানা প্রসঙ্গে গতকাল তাঁর সঙ্গে কথা বললেন মনজুরুল আলম

সংগীতশিল্পী মিফতাহ জামানআশরাফুল আলম

প্রথম আলো :

‘মিফতাহ জামান: অধরায় আরেকবার’ আপনার প্রথম একক কনসার্ট। এটি নিয়ে বিস্তারিত জানতে চাই।

মিফতাহ জামান: শুধু আমার গান নিয়ে এত বড় আয়োজন আগে হয়নি। দীর্ঘদিন ধরেই একক অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা ছিল। আমার মৌলিক গানের শ্রোতাদের সঙ্গে অনেক দিন ধরেই কানেক্ট করতে চাচ্ছিলাম। কিন্তু ব্যাটে-বলে মিলছিল না। ১৭ বছরের ক্যারিয়ারে সামনে আসার এটাই উপযুক্ত সময় মনে হয়েছে।

প্রথম আলো :

আপনার প্রথম অ্যালবামের গান ‘চির অধরা’। এবার আয়োজনের নাম রেখেছেন ‘অধরায় আরেকবার’, এটি কি পরিকল্পিতভাবেই?

মিফতাহ জামান: ঠিকই ধরেছেন। প্রথম অ্যালবামের গান থেকেই নামটি নেওয়া। প্রথম দিকে আয়োজনের নাম ছিল ‘ওয়ান্স এগেইন’। পরে সবার সঙ্গে বসে মনে হলো এর চেয়ে আরেকবার ফিরে আসা ধরনের কিছু একটা দিলে কেমন হয়? তখনই টিমের সবারই একমত পোষণ করল। তখন এই নামকরণ করি। সবাই প্রশংসা করেছেন।

মিফতাহ জামান। ছবি: ফেসবুক

প্রথম আলো :

বড় পরিসরে এভাবে সামনে আসার প্রস্তুতি কত দিনের?

মিফতাহ জামান: অনেক প্রস্তুতি নিতে হয়েছে, এখনো নিচ্ছি। কারণ, আমি চাকরি করি। সেটার বাইরে দীর্ঘ তিন মাসের বেশি সময় ধরে প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। আমার ব্যান্ডের কেউ কেউ চাকরি করে। অফিসের ক্লান্তি শেষে গান নিয়ে বসতাম। সব মিলিয়ে আমাদের প্রস্তুতি দারুণ হয়েছে। আমরা অনেক বড় গানের তালিকা তৈরি করেছিলাম। সেখান থেকে বাছাই করে আমাদের ও দর্শকদের পছন্দের গানগুলো নিয়েই এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

প্রথম আলো :

কোন গানগুলো গাইবেন?

মিফতাহ জামান: আমার মৌলিক গানগুলো বেশি থাকবে। পাশাপাশি সিলন মিউজিকে আমার গাওয়া কিছু গান করব। মান্না দে থেকে শুরু করে কিছু ধ্রুপদি গায়কদের গান করব, যেগুলো আগেও করেছি। এই গানগুলো শ্রোতারা পছন্দ করেছেন। আমি জানি গানগুলো দর্শকেরা আগ্রহ নিয়ে শুনতে চাইবেন, প্রত্যাশা থাকবে। তবে ‘তাই তোমার খেয়াল’ থেকে ‘ভালো থেকো’—আমার মৌলিক গানও থাকবে।

মিফতাহ জামান। ছবি: ফেসবুক

প্রথম আলো :

ভক্তদের সঙ্গে সব সময়ই আপনার আলাদা একটি যোগাযোগ থাকে, কিন্তু এবার সরাসরি সামনে আসা নিয়ে কেমন প্রতিক্রিয়া পাচ্ছেন?

মিফতাহ জামান: আমি আসলে নিভৃতচারী। এবার আড়াল থেকে বের হচ্ছি। কারণ, ভক্তরা প্রত্যাশা করেন, আরও বেশি সামনে থাকি। একক কনসার্ট দিয়ে তাই বেশি সক্রিয় হচ্ছি। এখন নিয়মিতই সামনে থাকতে চাই। কারণ, আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লক্ষ করেছি, ভক্তরা আমার গান শুনতে চান। সবার কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি। দেশের বাইরের অনেক ভক্তই মন খারাপ করেছেন। আগেই অনেকে অনুষ্ঠানের ভিডিও দেখতে চেয়েছেন।

প্রথম আলো :

অনুষ্ঠানে আপনার পরিবারের কেউ থাকবেন?

মিফতাহ জামান: আমার মা-বাবা, স্ত্রী, শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়স্বজন থেকে পরিচিত অনেকেই থাকবেন। তাঁরাও আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন।

মিফতাহ জামান। ছবি: ফেসবুক

প্রথম আলো :

আপনার পরিবারের সবাই তো সংগীতপ্রেমী, গানের প্রতি আগ্রহ কি তাঁদের মাধ্যমেই তৈরি হয়েছে?

মিফতাহ জামান: আমার মা-বাবা গানের ভক্ত। বাসায় গানের চর্চা হতো। মা, বোন গান শিখতেন। গান করা আমাদের পরিবারের খুবই স্বাভাবিক ঘটনা ছিল। হয়তো ক্রিকেট খেলতে যাচ্ছি, গানের ওস্তাদ ডেকে বললেন, ‘দুইটা গান গেয়ে যাও।’ আগ্রহ নিয়ে গাইতাম। পরিবার থেকেই আমার গানের শুরু। ওস্তাদের কাছে গান শিখেছি। রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি, ধ্রুপদি সংগীত সবই শিখেছি।

প্রথম আলো :

আপনি তো ক্যাডেট কলেজে পড়েছেন, সেখানে গান করতেন?

মিফতাহ জামান: আমি ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ কলেজে পড়েছি। সেখানে অনেক অনুষ্ঠান হতো। সেসব অনুষ্ঠানে আমি গান করতাম। মজার ব্যাপার হচ্ছে, আমি তখন অনেক ছোট ছিলাম। ঠিকমতো হারমোনিয়াম ধরতেই পারতাম না। তবুও হারমোনিয়াম ধরে গান করতাম। আমার অবস্থা দেখে তখন অনেকেই বলতেন, ‘‘ও এত ছোট, এবার গান না করুক।’’ স্টেজ থেকে আমাকে নামিয়ে দেবে ভেবে আমি কান্না শুরু করে দিতাম। স্টেজ থেকে নামতাম না। পরে গান করতাম। শৈশব থেকেই গানের মধ্যে দিয়ে বড় হয়েছি বলেই এখন গান নিয়ে থাকতে ভালো লাগে।

সংগীতশিল্পী মিফতাহ জামান
প্রথম আলো

প্রথম আলো :

এখন কি পরিকল্পনা করছেন?

মিফতাহ জামান: বেশ কিছু কাজ এগিয়ে নিয়েছি। সামনে আরও গান করব। সেসব পরিকল্পনা রয়েছে। এই সময়ে শুধু আজকের কনসার্ট নিয়েই ব্যস্ত আছি। আমার দর্শকেরা কীভাবে আমাকে নেবেন, এটাই ভাবছি। দেখা যাক।