এই দৃশ্যটার মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ...

সাফা কবির। ছবি: শিল্পীর সৌজন্যে

ঈদের নাটক ওয়ারিশ, উপ–সংসার, কমেন্ট সেন্স দিয়ে প্রশংসা পাচ্ছেন সাফা কবির। কাজ ও ব্যক্তিগত নানা প্রসঙ্গে গত বুধবার প্রথম আলোর মুখোমুখি হন এই অভিনেত্রী, সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মনজুরুল আলম

প্রথম আলো :

ঈদের পর কি আবার শুটিং শুরু করেছেন?

না না, এখনো শুরু করিনি। ঈদের আগে এত কাজ করেছি, কোনো ছুটিই ছিল না। এবার ঈদে বেশি করে ছুটি নিলাম।

প্রথম আলো :

দর্শক ‘ওয়ারিশ’ নাটকটি পছন্দ করছেন, কেন?

ফ্যামিলি–কেন্দ্রিক গল্পটার জন্য। প্রতিটি ফ্যামিলিতেই সম্পত্তি নিয়ে এ রকম একটা গন্ডগোল বা বিভক্তি থাকে। এই সম্পত্তির জন্য কিন্তু মানুষের বন্ধন নষ্ট হয়ে যায়। গল্পে বন্ধনটা এভাবে দেখানো হয়েছে যে যত যা–ই হোক, মা-বাবা, পরিবারই শেষ পর্যন্ত সারা জীবন থেকে যায়। দিন শেষে বন্ধুবান্ধব সবাই একসময় হারিয়ে যাবে। আমাদের শেষ জীবনে যা–ই থাকুক না কেন, পরিবার হচ্ছে এমন একটা জায়গা, যেটাকে আমরা অলওয়েজ আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকতে পারি। সেটাই আসলে আমাদের শেষ ঠিকানা, শেষ পরিচয়।

সাফা কবির। ছবি: শিল্পীর সৌজন্যে

প্রথম আলো :

নাটকে ব্যক্তিগত কোনো অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েছেন?

আমি যৌথ পরিবারে বড় হয়েছি। পাশাপাশি থাকতাম। ছোটবেলায় আমার ফ্যামিলিতে দেখেছি সবাইকে একসঙ্গে থাকতে। দিন শেষে সবাই একসঙ্গে বসে খাওয়া, একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়া বা একসঙ্গে একটা ফিল্ম দেখা। ভালো কিছু রান্না করলে সবাই মিলে খেতাম। যে কারণে পারিবারিক কোনো নাটকে আমি অ্যাকচ্যুয়াল ফিলিংসগুলো চরিত্রের মধ্যে প্রকাশ করতে পারি। নাটকে আমি বড় বউয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছি। ওয়ারিশ ঘিরে নাটকের কিছু দৃশ্যের সংলাপ আমার ইম্প্রোভাইজ করা।

প্রথম আলো :

কোন সংলাপের কথা বলছেন?

আদালতে ওয়ারিশের রায় হবে। আমরা একটি সিঁড়িতে দাঁড়ানো। তখন আমি বলি, ‘বাবা, মা, ভাইবোন এরাই আসলে লাস্টে থেকে যাবে।’ সেই মুহূর্তের সঙ্গে সংলাপটা দর্শক পছন্দ করেছেন। গল্পে ভিন্ন একটা মাত্রা যোগ হয়েছে। এটা কমপ্লিটলি সেই মুহূর্তে আমার নিজের ভেতর থেকে আসা একটা ডায়ালগ।

সাফা কবির। ছবি: শিল্পীর সৌজন্যে

প্রথম আলো :

দীর্ঘদিন পর আবার তৌসিফ মাহবুবের সঙ্গে জুটি হলেন। বিরতি কেন নিয়েছিলেন?

একসময় আমরা এত বেশি কাজ করেছিলাম যে আমাদের মনে হয়েছিল, দর্শককে দেওয়ার মতো নতুন কিছু আর নেই। সেই রকম গল্প আমাদের কাছে আসছিল না। সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, নতুন কিছু যত দিন দিতে না পারব, তত দিন পর্যন্ত ব্রেক নিই। আমার কাছে মনে হয়, ওয়ান কাইন্ড অব আমাদের ডিরেক্টর, প্রডিউসারদের ব্যর্থতা, আমাদের ইন্ডাস্ট্রিরও ব্যর্থতা যে আমাদের এত ভালো একটা জুটি ছিল কিন্তু এই জুটিটাকে গল্পের অভাবে প্রেজেন্ট করতে পারেনি।

প্রথম আলো :

নাকি কোনো অভিমান?

তেমন কিছু নয়। আমরা ভালো বন্ধু। আমাদের কোনো অভিমান নেই। ভালো নতুন কোনো গল্প, চরিত্র পেলে আমরা নিয়মিত অভিনয় করতাম। তবে এবার মনে হচ্ছে, ডিরেক্টররা আমাদের নিয়ে ভাববেন, আমাদের নিয়ে নতুন করে কোনো গল্প লিখবেন, যেখানে আমরা দর্শকদের নতুন কিছু উপহার দিতে পারব। ওয়ারিশ সেটাই বলছে।

প্রথম আলো :

বিরতির পর তৌসিফের মধ্যে কী পরিবর্তন দেখলেন?

আমি আর তৌসিফ একসঙ্গে ক্যারিয়ার শুরু করেছি। আমরা দুজন ছোট ছিলাম। আমরা দুজনে আসলে ধাক্কা খেয়ে খেয়ে শিখছিলাম। দুজন দুজনকে সব সময় হেল্প করেছি। তখন আমাদের জ্ঞান বা আমাদের জানার ক্ষমতা খুবই কম ছিল। এখন মনে হয়েছে, আমরা বড় হয়ে গেছি। সেই জায়গা থেকে এবার একসঙ্গে অভিনয় করতে এসে মনে হলো, সে নিজেকে অনেকটুকুই ডেভেলপ করেছে। সে এখন অনেক ম্যাচিউরডলি একটা সিকোয়েন্স হ্যান্ডল করে। ওর নিজের আলাদা প্রিপারেশন থাকে, যেটা আমাকে আসলে অনেক ইন্সপায়ার করেছে। আমি এটা দেখে অনেক মুগ্ধও হয়েছি, তৌসিফ এখন ওর কাজগুলো কত সিরিয়াসলি, কত গুছিয়ে, কত প্যাশনেটলি করে।

সাফা কবির। ছবি: শিল্পীর সৌজন্যে

প্রথম আলো :

ফেসবুকে মিম বানিয়ে অনেকেই লিখেছেন আপনার মতো বউ চাই?

ওয়ারিশ নাটকে একটা দৃশ্য রয়েছে, আমি ছেলের বাড়িতে গিয়ে ছেলের মা–বাবাকে বলি, ‘আমাকে আপনাদের ছেলের বউ হিসেবে পছন্দ কি না’, কারণ ছেলেটা পছন্দের কথা বলতে পারছিল না। সো মেয়েটা ওভাবে বিয়ের কথা প্রকাশ করে। এই দৃশ্যটার মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ। ফেসবুকে দর্শকেরা অনেকেই লেখালেখি করছেন, এ রকম বউই চাই। এ রকম মেয়ে হওয়া উচিত।

প্রথম আলো :

অভিনয়শিল্পী হিসেবে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন, এবার ঈদের তেমন একটি নাটকে অভিনয় করলেন...

সাইবার বুলিং নিয়ে অনেকেই ভুক্তভোগী। বিশেষ করে আই অ্যাম ওয়ান অব দ্য ভিকটিম অব ইট। আসলে কিছু মানুষ থাকে ফেসবুকে, শুধু মেয়েদের উল্টাপাল্টা কথা লেখে। কমেন্ট সেন্স নাটকে আসলে নিজের কিছু বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। অনেক সময় এমন অনেক সাইবার বুলিংয়ের শিকার হই, অনেক রং নিউজের শিকার হই, যার সঙ্গে আমার কোনো যোগসূত্রই নেই। কোনোভাবে আমি এটার মধ্যে জড়িয়ে যাই হয়তো। এটা একটা সময় পর্যন্ত আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, বাট অ্যাট দ্য সেম টাইম এটা কিন্তু আমাকে থামিয়ে রাখতে পারবে না। আমার কাছে মনে হয়েছে যে এই কাজটাও আমার খুবই পছন্দের। এখানে আমার সহশিল্পী ছিলেন (জিয়াউল হক) পলাশ।

আরও পড়ুন
মা ও বাবার সঙ্গে সাফা কবির। ছবি: শিল্পীর সৌজন্যে

প্রথম আলো :

আবার কবে শুটিং শুরু করবেন?

শুটিং শুরু করতে একটু লেট হবে। আমার বাবা জার্মানিতে থাকেন, ঈদে দেশে এসেছেন। পরিবারসহ ঘোরাফেরা করছি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে শুটে যেতে পারি।

প্রথম আলো :

অভিনেত্রী মেয়েকে নিয়ে আপনার বাবা কী বলেন?

এবার বাবাকে চা গরম দেখালাম। বাবা বললেন, ‘তুমি এত ভালো অভিনয় করো।’ অনেক বাস্তবমুখী, অনেক ন্যাচারাল, অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন। এটাও বলেছেন, এবার জার্মানিতে গিয়ে সবাইকে চা গরম দেখাবেন। বাবা আমার কাজ নিয়ে অনেক বেশি এক্সাইটেড থাকেন।

‘চা গরম’ ওয়েব সিনেমার পোস্টারে সাফা। ছবি: ফেসবুক থেকে

প্রথম আলো :

‘চা গরম’ কেন দেখালেন?

আসলে কিছু কাজ থাকে ক্ষণিক সময়ের নয়, দীর্ঘ সময়ের। চা গরম খুবই ইন্সপায়ারিং একটা গল্প। অনেক দিন পর আমার দর্শক আমার একটা সোলো ভালো কাজ দেখলেন। যেখানে আমি আমার অভিনয় বা আমার স্কিল শো করতে পেরেছি। যেটা আসলে অনেক বছর পর্যন্ত পারছিলাম না।

প্রথম আলো :

মা-বাবা আপনার নাটক দেখে সমালোচনা করেন?

একটা কাজ দেখে, নামটা মেনশন করতে চাই না, আমার বাবা একবার বলেছিলেন, ‘এই ধরনের কাজ আর কখনো করবা না।’ আবার আম্মাও কোনো নাটক প্রকাশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখেন। কোনো কারণে ভালো না লাগলে সঙ্গে সঙ্গে ফিডব্যাক জানান। ভালো না লাগলে বলেন, ‘হইছে মোটামুটি।’ ভালো লাগলে বলেন, ‘খুব ভালো লাগছে। এমন কাজ করবে।’ আমার প্রতি তাঁদের ভালোবাসাটা খুবই সহজ–সরল, যেটা আমার খুবই ভালো লাগে।

সাফা কবির। ছবি: শিল্পীর সৌজন্যে