বিভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম চরকির ওয়েব ফিল্ম ‘ক্যাফে ডিজায়ার’-এ অভিনয় করে প্রশংসা পাচ্ছেন। শুরু করতে যাচ্ছেন নতুন সিনেমার কাজ। আছে ঈদ ও ভালোবাসা দিবসের কাজগুলো নিয়ে ব্যস্ততা। এসব নিয়েই কথা বললেন অভিনেতা খাইরুল বাশার
প্রশ্ন :
‘ক্যাফে ডিজায়ার’-এ আপনি কতটা ‘আইনজীবী’, কতটা ‘প্রেমিক’—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন এ প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে।
কাজটি নিয়ে ভালো সাড়া পাচ্ছি। খুবই মজার একটি চরিত্র। মন চাইলেও যে ভালো লাগার কথা বলতে পারে না। এই যে কাউকে পাওয়া না-পাওয়ার দোদুল্যমানতা, এটা সবার জীবনেই আছে। এই না-পাওয়া কাউকে কাউকে আজীবন তাড়িয়ে বেড়ায়। সেখানে অনেকেই গল্পের সঙ্গে নিজের মিল পেয়েছেন।
প্রশ্ন :
সারিকার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
চরকির এই কাজ আমরা সময় নিয়ে করেছিলাম। একাধিকবার গল্প নিয়ে বসেছি। সহশিল্পীর সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে কাজের একটা ফ্লো চলে আসে। তখন অভিনয়টা জমে যায়। সারিকা সিনিয়র হলেও অনেক বন্ধুসুলভ। শুটিংয়েও আমাদের মজার অনেক ঘটনা ছিল।
প্রশ্ন :
দু-একটা শেয়ার করবেন কি?
শুটিংয়ে লাইট-ক্যামেরা সব প্রস্তুত। সেটে দাঁড়িয়ে আছি। এর মধ্যেই বোরকা পরা এক মহিলা ঢুকে পড়েন। তাঁকে দেখে বললাম, ‘আপনি ওই দিকে সরে যান। আমরা এখানে শুটিং করব।’ হিজাব পরা মহিলা আমার দিকে তাকিয়ে থাকেন। তখন বুঝতে পারি, আরে এটা তো সারিকা। আসলে ওর চরিত্রটি ছিল বোরকা পরা একটি মেয়ের। এ ছাড়া আমরা একটি রেস্টুরেন্টে শুটিং করছিলাম। সেখানে আমার ডায়ালগ ছিল, জয়-পরাজয় ছাড়াও জীবনে আরও অনেক কিছু আছে। আমাদের কথা শুনে সবাই ঘুরে তাকাচ্ছিলেন। আমাদের আচরণ তাঁরা বুঝতে পারছিলেন না। এই রিয়েলিস্টিক অভিনয় সম্ভব হয়েছে শুধু গোছানো টিমের কারণে।
প্রশ্ন :
কখনো কি মনে হয় না নিজেকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাই?
ক্যারিয়ার কোথায় যাবে, এটা নিয়ে আমি কখনোই ভাবি না। আমি চাই, মানসিক শান্তি পাব, এমন কাজ। যে কাজগুলোর মধ্যে দায়িত্বশীলতার জায়গা থাকবে। ভালো চরিত্র করব, কাজ শেষে ভালো অনুভূতি হবে—এসবের দিকে মনোযোগ থাকে। চাই, কাজই আমার কাজ নিয়ে আসবে। সেই চেষ্টা করি।
প্রশ্ন :
প্রায়ই আপনাকে এই সময়ের তরুণ অভিনেত্রীদের সঙ্গে কাজ করতে দেখা যায়। তাঁদের সঙ্গে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা কেমন?
আমি সাদিয়া আয়মান, আয়শা খান, তটিনীর সঙ্গে কাজ করেছি। তাঁরা কী করছেন, সেটা সম্পর্কে তাঁরা সচেতন। কাজের প্রতি তাঁরা খুবই মনোযোগী। চরিত্রগুলো লজিক দিয়ে বিচার করেন। এসব কারণে অল্প সময়েই তাঁরা ভালো করছেন। আর তাঁরা সব সময় ঠিকঠাক গল্প দেখে কাজ করতে চান। এ ক্ষেত্রে তাঁদের রুচি অনেক ভালো। কোন কাজটি করা উচিত, এই প্রশ্ন তাঁরা নিজেদের করতে পারেন।
প্রশ্ন :
সম্প্রতি প্রচারিত হলো বছরের প্রথম নাটক ‘বড় ভাবি’...
এটা আমার প্রথম বলব না, আমি দুই বছর আগে নাটকটিতে শুটিং করেছিলাম। এর মধ্যে তো অনেক কাজ করেছি। সেগুলো কিছু মুক্তি পেয়েছে, কিছু মুক্তি পাবে। আর এখন আমি ফিকশন খুবই কম করছি। ঈদেও খুব বেশি কাজ করা হবে না।
প্রশ্ন :
নিজের সঙ্গে সহকর্মীদের কাছ থেকে বেশি কী শোনেন?
তাঁরা সবাই আমার এত প্রশংসা করেন, এটা খুবই ভালো লাগে। তাঁরা বলেন, আমি সময়মতো শুটিংয়ে আসি, একটু নরম স্বভাবের, সহযোগিতাপরায়ণ, সিরিয়াস। এই কথাগুলো তাঁরা আমার সামনে বলেন না। অন্যদের কাছ থেকে শুনেছি।
প্রশ্ন :
নারী সহকর্মীদের সঙ্গে আপনার নাকি দ্রুত বন্ধুত্ব হয়ে যায়?
হা হা হা। এটা অনেকেই মজা করে হয়তো বলেন। শুধু নারী অভিনয়শিল্পীই নন, সব অভিনয়শিল্পীর সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ জায়গা তৈরি করে অভিনয় করতে চাই। প্রতিটা দৃশ্যের আগে তাঁদের সঙ্গে কথা বলি। আলোচনা বন্ধুসুলভ না হলে মাঝে দেয়াল থেকে যায়।
প্রশ্ন :
বর্তমানে কী নিয়ে ব্যস্ততা?
কাউকে এখনো এটা জানাইনি। নতুন একটি সিনেমায় ১২ তারিখ থেকে শুটিং শুরু করব। এটা আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম কাজ হতে যাচ্ছে, আশা করি। কিন্তু এটা নিয়ে এখনই কিছু বলতে বারণ করেছেন পরিচালক। আগামী মাসে তামিম ভাইয়ের একটা সিনেমার শুটিং করার কথা। আর সামনে ঈদ ও ভালোবাসা দিবস। এবার হয়তো ফিকশন কিছুটা কম করব। ভালো চরিত্র আর বাছবিচার করে কাজ করব।
প্রশ্ন :
শেষ প্রশ্ন বিয়ে নিয়ে ভাবনা কী...প্রেম...?
এখনো বিয়ে করিনি। প্রেম নিয়ে কী বলব...যখন মনে হবে, কারও প্রতি খুব বেশি কেয়ারিং মনে হলে তাকেই বিয়ে করে ফেলব। যখন মনে হবে কাউকে খুব মিস করছি, কথা বলা দরকার, কারও প্রতি আমি আলাদা দায়িত্বশীল, তখন বিয়ের সিদ্ধান্ত নেব। সবকিছু ঠিকঠাক থাকতে হবে। এটা কবে হবে, এখনো বলতে পারছি না।