‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে’ ঘিরে আলোচনায় মেসবা, দিলেন নতুন খবর

ইউটিউবে বা সংগ্রহে থাকা গানের তালিকা থেকে ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ শোনেন অনেকেই। ডিফ্‌রেন্ট টাচ ব্যান্ডের গানটি অনেককেই করে তোলে স্মৃতিকাতর। সম্প্রতি গানটি আবার আলোচনায় এসেছে। ব্যান্ডটির ভোকাল মেসবা রহমান-এর সঙ্গে প্রাসঙ্গিক নানা বিষয়ে কথা বলেছেন সুমন মাহমুদ

প্রথম আলো:

কেমন আছেন?

মেসবা রহমান: ভালো আছি।

প্রথম আলো :

বর্তমান ব্যস্ততা কী নিয়ে?

মেসবা রহমান: এই তো, দেশে-বিদেশে বিভিন্ন জায়গায় শো করছি। নতুন গানও করছি। ভিজ্যুয়াল কাজ হলে রিলিজ দেব।

প্রথম আলো :

সম্প্রতি কোথায় শো করেছেন?

মেসবা রহমান: সম্প্রতি শো অনেকগুলোই করেছি। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে অনুষ্ঠান করছি। স্টেজ শো করেছি গাজীপুর, কুমিল্লা, খুলনা, বগুড়ায়। সংসদ ভবনে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ কনসার্ট করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলে শো করেছি।

প্রথম আলো:

নতুন গান আসবে কি?

মেসবা রহমান: আমাদের বেশ কিছু নতুন গান স্টেজে করছি। গানগুলোর ব্যাপারে বেশ সাড়াও মিলছে। সবাই বলছে, গানগুলো মানুষের ভালো লাগার জায়গায় থাকবে। আমাদের সিগনেচার গান ‘শ্রাবণের মেঘ’, ‘দৃষ্টি প্রদীপ’, ‘মন কী যে চায়’—এই গানগুলো যেমন সবাই শোনেন, আশা করি, নতুন গানগুলোও তেমন কিছু হবে। মানে দীর্ঘ সময় থাকবে, এমন কিছু গান করছি।

আরও পড়ুন
প্রথম আলো:

নতুন গান রিলিজ দেওয়ার ব্যাপারে কী ভাবছেন?

মেসবা রহমান: কোন গান কীভাবে করব, এটার জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। আরও দু-একটা গান এখনো রেডি করছি, স্টুডিওতে কাজ চলছে। এখন তো সব ভিডিওর যুগ হয়ে গেছে, তাই গানগুলোর ভিজ্যুয়াল কাজ করব। আমরা তো আগে ভিজ্যুয়ালি আসিনি, লাইভ শো বেশি করা হয়েছে। এবার গানগুলো ভিজ্যুয়ালি রিলিজ দেব।

প্রথম আলো :

নিজস্ব চ্যানেলে, নাকি অন্য কোনো ব্যানারে?

মেসবা রহমান: অন্য কোনো ব্যানারে নয়। এগুলো আমরা ডিফ্‌রেন্ট টাচের নিজস্ব চ্যানেলেই রিলিজ দেব।

প্রথম আলো:

‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ গানটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনা হচ্ছে...

মেসবা রহমান: হ্যাঁ হ্যাঁ। বিষয়টা আমি গতকালই (রোববার) প্রথম জেনেছি। আজ (সোমবার) দেখেছি। অনেকেই আমার কাছে জানতে চাইছেন, বিষয়টা নিয়ে কী বলা যায়? আসলে যে ঘটনা ঘটেছে, এটা বিতর্ক হওয়ার মতো কোনো ঘটনা নয়। আমাদের গান না হয়ে অন্য কারও গানও হতে পারত, কিন্তু আমাদেরটা হয়েছে এবং এটা আমাদের প্রাপ্তি যে ডিফ্‌রেন্ট টাচের গানগুলো নতুন করে সবার কাছে যাচ্ছে। একটা প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে মানুষের কাছে যাচ্ছে। এটা ভালো লাগার একটা বিষয়। আর বিতর্ক হচ্ছে যে বিষয়টা নিয়ে, সেখানে তো আমি বিব্রতকর কোনো বিষয় আমি পাইনি। এটা নিয়ে বিক্ষুব্ধ হওয়ার কোনো কারণ দেখি না আসলে। এটা নিয়ে মানুষ যেহেতু প্রতিবাদী হয়েছেন, আশা করি, ব্যাপারটা বেশি দূর এগোবে না। সোশ্যাল মিডিয়া তো এখন আমাদের জীবনের একটা অনুষঙ্গ, এখানে যেকোনো ফিলিংস শেয়ার হয়, যেকোনোভাবে হয়। সেগুলোতে অনেক সময় একটু বিব্রতকর কিছু হয়, কিন্তু ওই শিক্ষকের রিলসে তো সে রকম কিছু দেখলাম না।

প্রথম আলো:

আপনার কণ্ঠেই তো ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। গানটার ব্যাপারে যদি বলতেন...

মেসবা রহমান: সে সময় তো একটাই মাধ্যম ছিল। গানটা যখন আমরা বিটিভিতে প্রথম করি, তারপর মানুষ আমাদের সম্পর্কে জানতে শুরু করে। তখন অ্যালবামের যুগ ছিল, আমাদের অ্যালবামটা বেশ পরিচিতি লাভ করে। জনপ্রিয়তা পাওয়ার শুরুটা মূলত বিটিভির মাধ্যমে। একটা ঈদের অনুষ্ঠানে সেখানে পারফর্ম করেছিলাম। এ-ই হলো আমাদের যাত্রা শুরুর গল্প।

প্রথম আলো :

গানটা রচনার সময় বৃষ্টির একটা ঘটনা নাকি ঘটেছিল?

মেসবা রহমান: হ্যাঁ, এটা যিনি লিখেছেন, উনি ভালো বলতে পারবেন। যদিও শুধু লেখা আর সুরই মূল বিষয় নয়। কম্পোজিশনও একটা বিরাট বিষয়। সে ক্ষেত্রে যাঁরা কম্পোজিশনে ছিলেন, তাঁরাও সমান ভাগীদার। তাঁরা যদি এ রকম কম্পোজিশন না করতেন; আপনি খেয়াল করেছেন কি না, জানি না, গানের যে শুরুটা, ওখান থেকেই মানুষ আন্দোলিত হওয়া শুরু করে। যখন ওই পিচটা, মানে শুরুতেই গিটারের যে সাউন্ড বাজে, তখন থেকেই মানুষ বুঝতে পারেন যে গানটা এখন শুরু হচ্ছে এবং মানুষ আন্দোলিত হতে শুরু করেন। তাই আমি মনে করি, যাঁরা কম্পোজিশন করেছেন, গানটার সফলতার পেছনে তাঁদের অবদানও অনেক বেশি। কারণ, কম্পোজিশন যদি খারাপ হয়, অনেক সময় ভালো গানও আমাদের কাছে পৌঁছায় না ঠিকভাবে। কম্পোজিশন একটা বড় ফ্যাক্ট। আমরা তো আসলে ইনডিভিজ্যুয়ালি ওইভাবে চিন্তা করি না। চিন্তা করি যে এটা আমাদের ব্যান্ডের গান এবং মানুষ এটাকে পছন্দ করেন। আমাদের কাছে ওইটাই প্রাপ্তি, আমাদের গান মানুষ পছন্দ করেন এবং এখনো শোনেন। নতুন প্রজন্মের যারা, তারাও আমাদের সঙ্গে কানেক্ট করতে পারছে।

প্রথম আলো:

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কনসার্টের সময় কী ঘটেছিল?

মেসবা রহমান: দুবার একই ঘটনা ঘটেছে। প্রথমবার যখন গানটা শুরু করি, অদ্ভুত ব্যাপার, অঝোরে বৃষ্টি হলো এবং প্রোগ্রামটা হলো না। যেহেতু প্রোগ্রামটা মুক্তমঞ্চে ছিল, এত দামি দামি ইকুইপমেন্ট ছিল, সেগুলো যেহেতু ভিজে যাবে, তাই প্রোগ্রামটা বাতিল করতে হলো। আয়োজকেরা যেহেতু প্রোগ্রামটা করতে পারলেন না, কষ্ট করে আমাদের নিলেন, তাঁরা বললেন, ‘ভাইয়া, পরের বছরে আপনাদের একটু আসতে হবে।’ আমরা যথারীতি যাই এবং দু-একটা গান গাওয়ার পর যখন ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ শুরু করি, বিশ্বাস করবেন না, আবার একই ঘটনা ঘটল। সবাই তো অবাক, ঘটনাটা তাহলে কী ঘটছে! বেশ মজার একটা ঘটনা। এটা আমাদের মধুর স্মৃতি।

প্রথম আলো :

ঢাকার বাইরের কোনো ঘটনা যদি বলেন...

মেসবা রহমান: ঢাকা হোক কিংবা বিদেশ, গানটা যখন শুরু করি, আমাদের গাইতে হয় না। আমি হয়তো গানটার মাঝখানে কোনো একটা কথা ভুলে গেছি, কিন্তু দর্শক গাইছেন। এটাও বেশ মজার ঘটনা।

প্রথম আলো:

এই যে সাম্প্রতিক ঘটনার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ কিংবা ডিফ্‌রেন্ট টাচ ব্যাপকভাবে ছড়াল, নতুন গান তৈরির ক্ষেত্রে কোনো দায়বোধ তৈরি হলো কি না?

মেসবা রহমান: এটা ভালো বলেছেন। বিষয়টাকে খুব ভালোভাবেই দেখছি এবং দ্রুতই নতুন কাজগুলো সেরে ফেলব আমরা। কথা দিচ্ছি, দ্রুতই কাজগুলো তৈরি করে আমাদের প্ল্যাটফর্মে রিলিজ দেব।

প্রথম আলো :

সিঙ্গেল, নাকি অ্যালবাম হিসেবে গানগুলো রিলিজ দেবেন?

মেসবা রহমান: অ্যালবাম আকারে করার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু আগের মতো ট্রেন্ড তো নেই। আপাতত সিঙ্গেল ছাড়ব। পরে যদি অনুষ্ঠান করি, তখন হয়তো একসঙ্গে সাত-আটটা গানের প্রকাশনা উৎসব করব।