এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা যায় কীভাবে?

এই ধরনের উৎসব বেশি বেশি করা উচিত। একটা দেশকে যখন কেউ জানতে চায়, চলচ্চিত্র দিয়েই সেই দেশকে অনেক বেশি জানা যায়। একটা দেশের মানুষ কেমন, তাদের ভাবনাচিন্তা কেমন এবং তাদের সাংস্কৃতিক যোগাযোগ আরেকটা দেশের সঙ্গে চলচ্চিত্রের মাধ্যমেই হয়। আমার মনে হয়, একটা দেশকে ভালোভাবে জানার জন্য সে দেশের চলচ্চিত্র দেখা খুব জরুরি। আমি মনে করি, এমন উৎসব খুবই দরকার ছিল। আমার মনে হয় যে একটানা আরও বেশি চলচ্চিত্র উৎসব দরকার। আমাদের দেশে আরও ভালো ছবি আছে, ওখানকার দর্শক এসব ছবি এখনো দেখতে পায়নি। সিলেক্টিভ কিছু ছবি উৎসবে গেছে, পুরোনোও আরও ক্ল্যাসিক কিছু ছবি দেখানো প্রয়োজন। ইউটিউবে তো ভালো ছবি তো থাকে না। ইউটিউবে ছবি দেখাটা আমরা যারা ছবির সঙ্গে যুক্ত, তাদের জন্য মোটেও ভালো বিষয় নয়। ছবি বড় পর্দায় একসঙ্গে বসে দেখতে হয়। আরও বেশি বেশি বাংলাদেশি চলচ্চিত্র উৎসব হওয়া দরকার কলকাতায়, যাতে করে ওরা বুঝতে পারবে, আমাদের জায়গা কতটা স্ট্রং, কতটা ভালো ভালো কনটেন্ট ও কাহিনিচিত্র তৈরি হচ্ছে।

ওখানকার অভিনয়শিল্পী, নির্মাতারা আমাদের সিনেমা নিয়ে কী ধারণা রাখেন বলে মনে হয়?

আমাদের শিল্পী, পরিচালক ও কলাকুশলীদের নিয়ে ভীষণ শক্তিশালী ইতিবাচক ধারণা আছে বরাবরই। আমি তো ধরুন কাজ করেছি, যারা কাজ করে না, তাদের কাজও সেখানে খুব দেখা হয়। তাই তো মনে হয়, তাদের প্রচণ্ড রকম গ্রহণযোগ্যতা আছে। চঞ্চল কিংবা যার কথাই বলি না কেন, যারা হিরোইন আছে, তাদের সবারই গ্রহণযোগ্যতা আছে। ওখানে তো আসলে হিরো বা সেলিব্রিটি কনসেপ্টের চেয়ে যারা ভালো কাজ করে, ওদের ঠিকই নিজ দায়িত্বে দর্শক বেছে নেয়। যারা এখন কাজ করছে, তাদের ছবিগুলো যখন মুক্তি পাবে, তারা বুঝতে পারবে, আমাদের শিল্পীরা কতটা ডিটারমাইন্ড ও শক্তিশালীভাবে কাজ করে।

পশ্চিমবঙ্গের দর্শকেরা আমাদের সিনেমা নিয়ে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। দুই দেশের সিনেমা একসঙ্গে দুই দেশে মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি কি এখন নতুন করে বিবেচনা করা যেতে পারে?

এটা হলে তো খুব ভালো হয়। দেখুন, প্রায় ৩৫ কোটি মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলে। তাই যারা বাংলা ছবি বা ভাষা নিয়ে কাজ করে, তাদের দর্শক কিন্তু ৩৫ কোটি। এটা বিশাল ব্যাপার। এই দুটো জায়গায় যদি ছবি একসঙ্গে মুক্তি দেওয়া যায়, ব্যবসায়িক জায়গা থেকেও ভালো, ছবির প্রসারের ক্ষেত্রেও ভালো।

দেশে সর্বশেষ আপনার ‘বিউটি সার্কাস’ মুক্তি পেয়েছে। ছবিটি নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কতটা পূরণ হয়েছে?

আমি দেখলাম, লোকে ছবিটি প্রচুর দেখেছে। ইন্ডিয়াতেও দেখলাম, লোকে লাইন দিয়ে বিউটি সার্কাস দেখেছে। ছবিটার প্রচার–প্রসার কিন্তু সেভাবে করেনি। আমার প্রত্যাশা ছিল আসলে আরও কম, তার চেয়ে অনেক বেশি লোকে দেখেছে।

আপনার কাজের শুরু সেই ১৯৯৮ সালে। একই বছরে যাত্রা শুরু করে প্রথম আলো। ৪ নভেম্বর প্রথম আলো ২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন করেছে। প্রথম আলোর দুই যুগ কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

প্রথম আলো যখন যাত্রা শুরু করল, তখন এটুকু বুঝতে পেরেছি, ঠিক মানুষগুলো ঠিক জায়গায় আছে। পৃথিবীতে ঠিক মানুষগুলো ঠিক জায়গায় থাকলে, ঠিক চেয়ারে বসলে অনেক কিছু করা সম্ভব—সেটা আমরা প্রথম আলো পড়লে বুঝতে পারি। এ কারণে সঠিক মানুষ সঠিক জায়গায় খুব প্রয়োজন। এ জন্যই আজ প্রথম আলো মহিরুহ হয়ে উঠেছে। শুধু আমাদের শোবিজ অঙ্গন নয়, তারা সব সময় সব ক্ষেত্রে গাইডলাইনের মতো কাজ করেছে। সব ক্ষেত্রে নির্ভীকভাবে, নির্ভয়ে নিজের কাজটা করতে পারা, কথা বলা, সততা নিয়ে কাজ করা, যেটা আমাদের নিজেদের যে শিল্পের ভ্রমণ, সেখানেও আমি করার চেষ্টা করেছি। প্রথম আলোও তা সততার সঙ্গে ভয় না পেয়ে করে চলছে, সেটাই হচ্ছে বড় কথা। অসম্ভব ভালো লাগে, যখন ঠিক মানুষগুলোকে ঠিক জায়গায় দেখি। এটা সত্য, ঠিক মানুষদের কমিটমেন্ট থাকে। কাজের প্রতি প্রচণ্ড কমিটমেন্টের ব্যাপারটির প্রমাণ প্রথম আলোর সবার মধ্যে প্রতিনিয়ত পেয়েছি। শুধু নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের তাঁরা নন, একদম সব ক্ষেত্রের সবাইকে এখনো ঠিকঠাক দেখেছি—সে কারণে প্রথম আলো আজ এই অবস্থানে।

পশ্চিমবঙ্গে আপনার বেশ কয়েকটি সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় আছে, সেগুলো কী কী? কবে মুক্তি পেতে পারে?

‘অর্ধাঙ্গিনী’, ‘ভূতপরী’, ‘ওসিডি’, ‘কালান্তর’সহ আরও দুটি ছবি রয়েছে। এগুলো আস্তে আস্তে মুক্তি পাবে। করোনার কারণে আরও কয়েকটি ছবি আটকে আছে, তাই কবে এগুলো মুক্তি পাবে, নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। তবে এগুলো তাড়াতাড়ি মুক্তি দেবে বলে আমার বিশ্বাস।

দেশে সামনে কোন কোন কাজে আপনাকে দেখা যাবে?

‘জয়া আর শারমীন’ ও ‘পেয়ারার সুবাস’ দুটো আগে মুক্তি পাবে। নতুন কাজের কথাও চলছে।