বিয়ের গুঞ্জন নিয়ে মৌসুমীর ক্ষোভ, ‘মিথ্যাকে রংচং মিশিয়ে ছড়ানো হচ্ছে’

মুক্তির কথা শোনা যাচ্ছে চিত্রনায়িকা মৌসুমী অভিনীত নতুন সিনেমা ‘অর্ধাঙ্গিনী’র। প্রেক্ষাগৃহ কিংবা ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নয়, এটি মুক্তি দেওয়া হবে ইউটিউবে। তবে মৌসুমী জানালেন ভিন্ন কথা। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে আরেকটি নাটকের শুটিংও করছেন তিনি। মাঝে একজন অভিনয়শিল্পীকে নিয়ে তাঁর বিয়ের গুঞ্জনও ছড়িয়েছে। আড়াই বছর ধরে দেশের বাইরে থাকা নব্বই দশকের এই জনপ্রিয় নায়িকা সাম্প্রতিক সব ইস্যু নিয়ে নিউইয়র্কের বাসা থেকে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলেছেন প্রথম আলোর সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মনজুর কাদের

প্রথম আলো:

কেমন আছেন?

মৌসুমী : আমি ঠিকঠাক আছি, আলহামদুলিল্লাহ।

মৌসুমী
ছবি: ফেসবুক থেকে

প্রথম আলো :

আড়াই বছর হয়, দেশে ফিরছেন না...

মৌসুমী : ফিরে তো আসতাম আরও আগে। আমি এখানে যে কাজে এসেছিলাম, তা অনেক আগে শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু আম্মার কারণে এখন আসতে পারছি না। আম্মা অনেক দিন ধরে অসুস্থ, তাঁর দেখাশোনার বিষয়টা আছে।

প্রথম আলো:

আপনার সময় তাহলে মাকে নিয়ে কাটছে?

মৌসুমী : নিজের নিয়মিত কাজের পাশাপাশি আম্মার দেখাশোনার বিষয়টা তো অবশ্যই আছে। আম্মার বয়স হয়েছে, তিনি এখন আর একা চলতে পারেন না। তাঁর সহযোগিতার দরকার হয়। দেখা গেল, একদিন নিজে নিজে হাঁটতে পারছেন, পরদিন অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন। এই হচ্ছে এখন আমার অবস্থা। কিছুদিন আগেও আম্মার সব চেকআপ করা হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ কোনো সমস্যা নেই। ডিমেনশিয়া আছে একটু, এটাও বয়সের কারণে। এর বাইরে অন্য কোনো জটিল সমস্যা নেই। একটা সময় তো আম্মাকে সময় দিতে পারিনি, এখন দিচ্ছি। চোখের সামনে আম্মাকে শিশুর মতো হয়ে যেতে দেখছি। এই সময়টায় আম্মার পাশে থাকতে পারছি, এটাই অনেক বেশি আনন্দের ও ভালো লাগার।

আরও পড়ুন
মৌসুমী
ছবি : সংগৃহীত
প্রথম আলো:

হঠাৎ করে আপনার অভিনীত একটি সিনেমা ‘অর্ধাঙ্গিনী’ নিয়ে কথা হচ্ছে। শোনা যাচ্ছে, এটি প্রেক্ষাগৃহ কিংবা ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নয়, ইউটিউবে মুক্তি পেতে যাচ্ছে?

মৌসুমী : এ বিষয়ে রিসেন্ট কোনো আলাপ আমার জানা নেই। তবে কিছুদিন আগে পরিচালক আমাকে জানিয়েছিলেন, মুক্তির পরিকল্পনা করছে, কোনো একটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে শুরুতে যাবে। এরপর টেলিভিশনে দেখানো হবে। চিন্তাভাবনা সে রকমই। অর্ধাঙ্গিনী ছবিটা ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য বানানো হয়েছে। প্রথমে ভেবেছিল, সিনেমা হলে মুক্তি দেবে। পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে এটা জানি। এই ছবির পুরো শুটিং হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও নিউজার্সিতে। তীব্র শীতে কষ্ট করে শুটিং করতে হয়েছে সবার। মাইনাস ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় শাড়ি পরে আট ঘণ্টা পাহাড়ের ওপর প্রচণ্ড বাতাসে শুটিং করেছি!

আরও পড়ুন
প্রথম আলো:

ছবির গল্পটা কী রকম?

মৌসুমী : এটা নিউইয়র্ক সিটির গল্প—একটা মধ্যবিত্ত পরিবারের জীবনের নানা দিক এই গল্পে উঠে এসেছে।

মৌসুমী
ছবি : প্রথম আলো।

প্রথম আলো :

শোনা যাচ্ছে, হাসান জাহাঙ্গীরের একটি সিনেমায়ও নাকি অভিনয় করছেন?

মৌসুমী : হাসান জাহাঙ্গীরের কোনো সিনেমায় তো অভিনয় করছি না। একটা নাটকের শুটিং আগে করেছি, সেটা প্রচারও হয়েছে। মাঝে আরেকটা নাটকের শুটিং শুরু করেছি, সেটার কাজ এখনো শেষ হয়নি।

আরও পড়ুন
প্রথম আলো:

মাঝে আপনাকে জড়িয়ে অভিনয়শিল্পী ও পরিচালক হাসান জাহাঙ্গীরের বিয়ের খবর চাউর হয়েছে...

মৌসুমী : এ ধরনের প্রোপাগান্ডা নিয়ে আমি কী বলব। যে কথা বলিই না কেন, মিথ্যা খবরটাই মানুষের কাছে মুখরোচক মনে হবে। তবে এ ধরনের প্রোপাগান্ডা আমার কাছে খুবই বিরক্ত লাগে, এসব নিয়ে কথা বলাটাও এক রকম মূল্যহীন মনে হয়। আমি তো এসব নিয়ে কোনো ধরনের পাবলিসিটি চাচ্ছি না। যার দরকার সে হয়তো এটা নিয়ে কথা বলছে, বলুক। জগতে কিছু নিন্দুক থাকবে, তারা মানুষকে নিয়ে বানিয়ে বানিয়ে গল্প বলে মজা পায়,  তারা এসব গল্প বলতেই থাকবে। এ ধরনের মানুষ এখন ভিউ চায়, সবার একটু মনোযোগ চায়—তারা কোনো কিছু না জেনে মিথ্যাকে সত্য বানিয়ে রংচং মিশিয়ে উপস্থাপন করে ফেসবুকে—কখনো পোস্ট আকারে লেখে আবার কখনো ভিডিও বানায়। শিল্পী ও পরিচিত মানুষদের নাম ব্যবহার করে এসব ভিডিও বানালে বা পোস্ট করলে ফেসবুকে রিচ বাড়ে, ইউটিউবে ভিউ হয় বেশি—এই সুযোগটা তারা নেয়। এটার প্রতিকারে যদি আইনে থাকত, আইনের সঠিক প্রয়োগ থাকত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি আগে কখনো দেওয়া হতো, তখন এসব নিয়ে ভিউখোর মানুষের গুজব ছড়ানো বন্ধ হয়ে যেত। ভিউখোর মানুষেরা ব্যক্তিগত স্বার্থের লোভে শিল্পীদের ব্যক্তিগত জীবন ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

মৌসুমী
ছবি : প্রথম আলো
প্রথম আলো:

আপনার কি এসবে মন খারাপ হয়?

মৌসুমী : শিল্পীরাও মানুষ, তাদেরও জীবন আছে। তারাও সমাজে থাকে, সংসার করে। একজন শিল্পী দীর্ঘ সময়ে তৈরি হয়। যারা মিথ্যাচার করছে, তারা আমাকে মৌসুমী বানায়নি। তারা চাইলেও আমি মানুষের মনে যে জায়গায় আছি—সেখান থেকে এক চুলও নাড়াতে পারবে না। কথায় আছে না, আমার অর্জন তো আমার ভেতরকার, দান করেছে আমার সৃষ্টিকর্তা, আমি এটাকে কীভাবে ব্যবহার করছি, সেটা একান্তই আমার ব্যাপার। একান্তই আমার। এসবে আমি পাত্তা দিইনি কখনো, ভবিষ্যতেও পাবে না।