ফেলুদা হতে চাই, হিমু–বাকের ভাই করতে চাই
ভিকি জাহেদের ‘বিষ পাখি’ নাটকে অভিনয় করে আলোচনায় মীর রাব্বি। উত্তরায় নাটকের শুটিংয়ের ফাঁকে গতকাল হোয়াটসঅ্যাপে সাম্প্রতিক কাজ ও ক্যারিয়ারের নানা প্রসঙ্গে প্রথম আলোর মুখোমুখি হলেন এই অভিনেতা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মনজুরুল আলম
প্রথম আলো :
গরমে কাজের ব্যাঘাত হচ্ছে না?
মীর রাব্বি: প্রচণ্ড গরম। তবে এখন একটু বাতাস পাচ্ছি। এর মধ্যেই শুটিং করতে হবে, উপায় নেই।
প্রথম আলো :
আপনার প্রতিটি কাজে চরিত্র, অভিনয়, অভিব্যক্তি আলাদা করা যায়, কীভাবে করেন?
মীর রাব্বি: আমাকে নায়ক হতে হবে তেমন নয়। আমাকে নায়কোচিত লাগতেই হবে, এরও প্রয়োজন বোধ করি না। আমার মূল ইন্টারেস্টের জায়গা চরিত্র। ভালো চরিত্রের অপেক্ষায় থাকি, পরিচালকেরা সেসব চরিত্রের জন্য ডাকেন, আমি অভিনয় করি। এমন না যে আমি ফর্মুলাভিত্তিক অনেক কিছু করে ক্যামেরার সমানে দাঁড়াই। আমি পরিচালকের নির্দেশনায় কাজ করার চেষ্টা করি। তারপর সেই চরিত্র দর্শক আলাদা করতে পারলে নিজেকে লাকি ভাবি।
প্রথম আলো :
আর কী কী কারণে নিজেকে লাকি ভাবেন?
মীর রাব্বি: ডিরেক্টররা আমাকে বোঝেন, রিড করে চরিত্র দেন, যে চরিত্রে ভেরিয়েশন থাকে, চ্যালেঞ্জ থাকে, চরিত্রটিকে তুলে ধরার লেয়ার থাকে। যে কারণে ডিরেক্টর কী চাইছেন, সেই অ্যাপ্রোচ আমাকে বুঝতে হয়। ব্যাটে–বলে মিলে গেলেই কিন্তু একটি চরিত্র দাঁড়িয়ে যায়। সেই ভালো চরিত্রকে তুলে ধরতে পারছি, নিয়মিত এমন চরিত্রের প্রস্তাব পাচ্ছি, দর্শক সেসব চরিত্র নিয়ে কথা বলছেন। সেই জায়গা থেকে নিজেকে লাকি ভাবি।
প্রথম আলো :
শিল্পী হয়ে ওঠার পেছনে নানা রকম প্রস্তুতি থাকে, আপনার ক্ষেত্রটি কেমন?
এ প্রস্তুতি আমি শুটিংয়ে না থাকলেও চলমান থাকে। সব সময় নানা রকম কনটেন্টের সঙ্গে থাকি, পড়ি, প্রচুর দেখি। শৈশবে যে সিনেমা, চরিত্রগুলো আমার পছন্দের ছিল, সেসব এখনো নিয়মিত দেখি। নতুন কাজ দেখি। সিনেম্যাটিক একটা আবহের মধ্যে থাকার চেষ্টা করি। এর মধ্য দিয়ে একধরনের রিসার্চ, নতুন কিছু জানার চেষ্টা থাকে। অডিও ভিজ্যুয়ালে জার্নিটা চলতেই থাকে।
প্রথম আলো :
কখনো বিদেশের কোনো সিনেমা দেখে অভিনয়শিল্পীর জায়গা থেকে কিছু মিস করেছেন?
মীর রাব্বি: নানা রকম চরিত্র মিস করি। যত দেখি তত মিস করি। এই সমন্বিত শিল্পমাধ্যমে এত এত ভালো কাজ, দেখে, প্রতিটি সময়েই মনের মধ্যে একটা হাহাকার তৈরি করে। একটা ক্ষুধা তাড়না তৈরি হয়, এ কাজগুলোর মধ্য দিয়ে একটা প্রত্যাশা তৈরি হয়। আমার কাজের ক্ষেত্রে হয়তো সেই প্রত্যাশা ফুলফিল হয় না।
প্রথম আলো :
কখনো মনে হয়েছে ‘ইশ্’ এমন চরিত্রগুলো যদি করতে পারতাম?
মীর রাব্বি: আমি শার্লক হোমসের চরিত্র করতে চাই। যদি কখনো, এখানে যেকোনোভাবেই শার্লক হোমস নিয়ে কাজ হয়, তার সঙ্গে আমি থাকতে চাইব। আমি ফেলুদা হতে চাই, হিমু–বাকের ভাই চরিত্র করতে চাই। এগুলো আমার ভীষণ ভালো লাগার, ভালোবাসার চরিত্র। অভিনয়ে আসার আগে থেকেই এই চরিত্রে মুগ্ধ হয়েছি। আমার তো ক্যারিয়ার খুব বেশি দিনের নয়। বুক পকেটের গল্প দিয়ে নতুন করে ক্যারিয়ার শুরু। এখন নিয়মিত অভিনয় করে আরও বেশি মনে হয়, ইশ্, এমন চরিত্রগুলো যদি করতে পারতাম।
প্রথম আলো :
আপনার পছন্দের সিনেমা কী কী?
মীর রাব্বি: আকিরা কুরোসাওয়া আমার খুব পছন্দের নির্মাতা। তাঁর সেভেন সামুরাই অনেক পছন্দ। ফাইটক্লাব সেই সময়ে অন্য রকম একটা থ্রিলারের স্বাদ দিয়েছিল। এটাও পছন্দের সিনেমা। এ ছাড়া গাই রিচির স্ন্যাচ, বড় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগের গাই রিচি পরিচালিত অনেক সিনেমাই আমার পছন্দের। রিভলবার, রকঅ্যান্ডরোল্লা। ক্লিন্ট ইস্টউডের সিনেমাগুলো আমার পছন্দের। এ তালিকায় ফর আ ফিউ ডলারস মোর, মিলিয়ন ডলার বেবি পছন্দের সিনেমা। আরও যদি বলি, গুড ফেলাস, গডফাদার, চায়না টাউন, শাইনিং এগুলো আমার ভীষণ পছন্দের সিনেমা।
প্রথম আলো :
সিনেমা আপনার মধ্য কোনো পরিবর্তন ঘটিয়েছে?
মীর রাব্বি: যে সিনেমাগুলোর কথা বললাম, এগুলো আমার মধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটিয়েছে। আমার মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটিয়েছে, ভাবনার খোরাক দিয়েছে, অনেক চিন্তার সুযোগ করে দিয়েছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এ সিনেমাগুলো আমি প্রায়ই দেখি। এগুলো স্কুলে পড়ার সময় এক রকম মনে হয়েছে, কলেজে পড়ার সময়ে মনে হয়েছে আরেক রকম, এখন দেখে মনে হয়, আরও নতুন কিছু শিখলাম, জানলাম। প্রতিবারই সিনেমাগুলোর মধ্যে নতুন কিছু পাই।
প্রথম আলো :
এখানে তো ছাড় দিয়েই কাজ করতে যেতে হয়, এটা নিজের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি করে?
মীর রাব্বি: সেটা তো করেই। বারবার আশাহত হই। অনেক সময় দেখা যায়, বাধ্য হয়েই কোনো একটি গল্প করতে হচ্ছে। আবার নিজের পছন্দের গল্পেও কাজ করার সুযোগ পাই; কিন্তু একটি কাজে সবার এনগেজমেন্ট খুবই জরুরি। আমি শুধু ভালো অভিনয় করে গেলাম মানেই কাজটি যে ভালো হবে, তা নয়। সব বিভাগের এনগেজমেন্ট দরকার। যে কারণে অনেক কাজ আশাহত করে।
প্রথম আলো :
গত দুই মাস শুটিংয়ে তেমন দেখা যায়নি কেন?
মীর রাব্বি: অসুস্থতার কারণে। জন্ডিস, ডেঙ্গুতে ভুগেছিলাম। সেই সময়ে কাজ না করায় একটা অনীহা চলে এসেছিল; এত পরিশ্রম করি কিন্তু অনেক সময়ই সেটা কাজে দেয় না। যে কারণে উৎসাহ একটু কম ছিল। পরে তরুণদের সঙ্গে কিছু ইন্ডি সিনেমার কাজ করছি, শর্ট ফিল্ম, নাটক করছি। ভালো কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা সব সময় থেকেই যায়।
প্রথম আলো :
ভিকি জাহেদের ‘বিষ পাখি’ দর্শক পছন্দ করছেন, আপনার কেমন লেগেছে?
মীর রাব্বি: ভিকি জাহেদের কাজগুলো একটু আলাদা হয়। সে কখনো হরর, কখনো থ্রিলার বানায়। আমি নিজেও তার কাজের ভক্ত। তার বিষ পাখি নাটকটি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার। যদিও অনেক দৌড়ের ওপর কাজটি করেছি। তবে চরিত্রটি আমার পছন্দের ছিল।
প্রথম আলো :
অভিনীত সিনেমাগুলোর খবর কী?
মীর রাব্বি: বেশির ভাগই আমাকে দারুণ সব গল্পের ইন্ডি সিনেমায় দেখা যাবে। এর মধ্যে বকুলের বুকে রক্তকরবী, কূরকাব, দুঃসাহস সিনেমাগুলোর কাজ শেষ। এগুলো কোনোটি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে, কোনোটি আবার আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে যাচ্ছে। হয়তো আগামী দিনে সুখবর পাব।
প্রথম আলো :
এখন কোনো নাটকের শুটিং করছেন?
মীর রাব্বি: পরিচালক সাজিন আহমেদের পছন্দ হয়নি কিন্তু ভালোবাসি নাটকের কাজ করছি। আমার সহশিল্পী আয়শা খান।