আপনার সহকর্মী ছিলেন মোশাররফ করিম। তাঁর সঙ্গে প্রথম কাজ?

তাঁর সম্পর্কে জানতাম, সময়মতো সেটে আসেন, চরিত্রের সঙ্গে বোঝাপড়া নিয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান। বর্তমান গুণী অভিনেতাদের মধ্যে একজন মোশাররফ করিম। তিনি আমাদের সম্পদ। এমন একজন মানুষ এতটা সহযোগিতাপূর্ণ হবেন, এটা অপ্রত্যাশিত ছিল। চরিত্র বুঝতে আমাকে নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন তিনি। প্রশ্ন করেছেন, ইরা হয়ে উঠতে পেরেছি কি না। কখনো ভুল ধরিয়ে দিয়েছেন। তিনি চাইতেন, শুটিংয়ে আমি চরিত্রের মধ্যে থাকি, এ জন্য আড্ডায় ডাকতেন না। অনেক সময় মোশাররফ ভাইয়াকে প্রশ্ন করতাম, চরিত্রায়ণ, এক্সপ্রেশন, লুকসহ আর কী ইনপুট দেওয়া যায়। তিনি বুঝিয়ে বলতেন। মোশাররফ ভাই, সঞ্জয়দা, বরুণ ভাই ইরা হয়ে উঠতে সব সময় আমাকে সাহায্য করেছেন। চরিত্র নিয়ে তাঁদের অবজারভেশনগুলো আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

‘দাগ’ ক্যারিয়ারে কিছু যোগ করবে?

আমার ক্যারিয়ারে দাগ পড়েছে। বুঝতে পারছি, আমার কাজ নিয়ে দর্শকের প্রত্যাশা বেড়েই চলেছে। নাটক করেছি, ওয়েব সিরিজ ফিল্ম করলাম। সর্বশেষ দাগ মুক্তি পেয়েছে। প্রতিটি কাজ নিয়ে দর্শকদের মন্তব্য ছিল আগের চেয়ে ভালো। এই আরেকটু প্রত্যাশার বিষয়টা আমিও চাই। শতভাগ দিয়ে অভিনয় করতে চাই। এখন দাগ মোছার জন্য আরও ভালো ভালো কাজ করে যেতে হবে।

অভিনয়ে আপনাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেন কে?

মা আমাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেন। তিনি সব সময়ই বলতেন, আগে পড়াশোনা, তারপর অন্য কিছু। আমাকে স্বাধীনতা দিয়েছেন। শৈশব থেকে অভিনয় করেছি। সেভাবেই আমি লক্ষ্য ঠিক করেছি।

তাহলে অভিনয়ই এখন ক্যারিয়ার?

না। আমি ফার্মাসি নিয়ে পড়াশোনা করেছি। হয়তো ফার্মাসিস্ট বা তার আশপাশে কোনো পেশায় যাব। কিন্তু অভিনয় আমার নেশা। মাঝেমধ্যে অভিনয় করব। তবে যখন অভিনয় করব, তখন শুধু অভিনয় নিয়েই থাকতে চাই। এ জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। কদিন আগে একটি ওয়ার্কশপ করেছি। সেখানে গিয়ে বুঝলাম, অভিনয় ভালোভাবে না শিখে করা সম্ভব নয়। স্কুলিংটা গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য দেশের প্রেক্ষাপটে থিয়েটারের বিকল্প নেই।

বর্তমান ব্যস্ততা কী নিয়ে?

আমি খুবই কম কাজ করি। চরকির ‘ক্যাফে ডিজায়ার’ মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। আমি খুবই অলস। অনেক কম কাজ করি। ‘দাগ’, ‘কন্ট্রাক্ট’, ‘কাইজার’—সময় নিয়ে করেছি।