২-৩ বছর হলো কাজলের প্রতি টান বেড়েছে: তটিনী

তাঁর বেশির ভাগ নাটকের ভিউই কোটির ওপর। সর্বশেষ কাজল চোখের মেয়ে নাটক দিয়ে আলোচনায় তানজিম সাইয়ারা তটিনী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মনজুরুল আলম

প্রথম আলোকে নির্ভরযোগ্য সূত্র হিসেবে পেতে হলেএখানে ক্লিক করুন
প্রথম আলো:

সামাজিক মাধ্যমে আপনার কাজল চোখের অনেক প্রশংসা করছেন ভক্তরা...

তানজিম সাইয়ারা তটিনী : হা হা, সেটাই দেখলাম। কাজল চোখে দর্শক আমাকে পছন্দ করেছে। অনেকেই বলছে, কাজলের চোখে অন্য রকম লাগছে।

প্রথম আলো :

নিজের কাছে কেমন লাগছিল?

তানজিম সাইয়ারা তটিনী : কাজল এখন আমার খুবই পছন্দ। কাজল দিয়ে নিজের দিকে তাকালে মনে হয় একটু মায়াবী সুন্দর লাগছে। আমার বিশ্বাস, সবারই সুন্দর লাগে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, যখন ছোট ছিলাম, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার সময়ও কাজল আমার অপছন্দ ছিল। দুই–তিন বছর হলো কাজলের প্রতি টান বেড়েছে।

প্রথম আলো :

আগে অপছন্দ করতেন কেন?

তানজিম সাইয়ারা তটিনী : কেন যেন মনে হয়, আমার চোখ অনেক ছোট। একসময় আমার কাছে মনে হতো, চোখে কাজল দিলে চোখ আরও ছোট দেখায়। এখন অবশ্য সেটা আর মনে হয় না।

তানজিম সাইয়ারা তটিনী
ছবি: ফেসবুক থেকে

প্রথম আলো :

‘আপনি অনেক ভালো অভিনয় করেন’—শুনতে কেমন লাগে?

তানজিম সাইয়ারা তটিনী : এটা তো প্রায়ই শুনতে হচ্ছে। ‘এত ভালো অভিনয় করেন কীভাবে’, ‘আপনার অভিনয় ভালো লাগে, হাসি সুন্দর’ এসব শুনি। ভালো লাগে, দায়বদ্ধতা বেড়ে যায়। আমি মনোযোগ দিয়ে অভিনয় করার চেষ্টা করছি, সেই পথেই রয়েছি।

আরও পড়ুন
প্রথম আলো:

ইউটিউবে আপনার বেশির ভাগ নাটকের ভিউই কোটি ছাড়িয়ে যায়, এতে আপনার অবদান কতটা?

তানজিম সাইয়ারা তটিনী : এটি পুরো টিমের চেষ্টা। আর আমি নিজের জায়গা থেকে কাজের প্রতি সৎ থাকি বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। আমি সব সময় ভালো গল্প, চরিত্র, পছন্দ হলেই কাজটি করি। দর্শক হিসেবে কাজটি নিয়ে ভাবি। কাজটি আমি নিজে দেখব কি না, সেটা ভেবেই সিদ্ধান্ত নিই। যে কারণে ধারাবাহিকভাবে ভালো কাজগুলোই করতে পারছি। একটা অভিজ্ঞতা হয়েছে, কাজ ভালো হলে দর্শক দেখবেই।

প্রথম আলো :

আপনার সিদ্ধান্তে আগে কখনো কি ভুল ছিল?

তানজিম সাইয়ারা তটিনী : একসময় সব কাজই করেছি। দেখা গেল একটা কাজ ভালো হয়েছে, হয়তো পরের কাজটা অতটা গুরুত্ব দিলাম না। তখন ধারাবাহিকভাবে ভালো কাজ করতে পারিনি। এ বিষয়ে এখন আমি অনেক সচেতন।

তানজিম সাইয়ারা তটিনী
ছবি: তটিনীর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে

প্রথম আলো :

প্রতিটি কাজের ভিউ বেশি, এটা কি পরবর্তী কাজ করতে বাড়তি চাপ তৈরি করে?

তানজিম সাইয়ারা তটিনী : প্রতিটি কাজ দর্শক পছন্দ করছে, এ জন্য আমি ভাগ্যবান। পরের কাজ করার আগে অবশ্যই বাড়তি চাপ তৈরি হয়। দর্শক আগের মতো কাজটি নেবে কি না, ভাবতে হয়। এ জন্য আলাদা শ্রম দিতে হয়। তবে এই চাপ পজিটিভ। এই চাপের মধ্যে প্রত্যাশা আছে। নতুন কিছু করার চেষ্টা আছে।

প্রথম আলো :

ক্যারিয়ারে কখনো কোনো ঘটনায় মনে জেদ চেপে বসেছিল?

তানজিম সাইয়ারা তটিনী : ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পুরস্কার পরপর দুই বছর পাই। এটা পাওয়ার পরে অনেকেই কিছু একটা বলার চেষ্টা করেছে। হয়তো প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করেছে, কেন আমিই পুরস্কার পাচ্ছি। কিন্তু আমার কথা হচ্ছে, যে যোগ্য সে তো অবশ্যই পুরস্কার পাবে। সেই থেকে আমার মধ্যে একটা জেদ রয়েছে, নিজেকে আরও বেশি প্রুভ করতে হবে। যেন আমার সফলতাকে সবাই মূল্যায়ন করে। এ কারণেও প্রতিটি কাজে বাড়তি সময় ও শ্রম দিই। এর ফল, আজকের দর্শকের ভালোবাসা। আমি চাই না কেউ বলুক, ‘ও কেন সাকসেস হলো।’ আমি চাই তারা আমার কাজ দেখেই বলবে, ‘ও যোগ্য।’

তানজিম সাইয়ারা তটিনী
ছবি: তানজিম সাইয়ারা তটিনীর সৌজন্যে
প্রথম আলো:

বিশেষ কোনো কারণে কি অভিনয় কমিয়ে দিয়েছেন?

তানজিম সাইয়ারা তটিনী : অভিনয় কমাইনি। দুই ঈদে বড় একটা চাপ তৈরি হয়। বেশি কাজ হয়। ঈদের পরে একটা বিরতি নিয়ে আবার পুরোদমে শুটিং শুরু করছি। কাজগুলো সামনে আসবে। আজও (গত রোববার) শুটিং আছে। আমার সহশিল্পী তৌসিফ মাহবুব। আমি একটু অসুস্থ। শুধু একটা দৃশ্যের জন্য যেতে হবে। এ ছাড়া (জাকারিয়া) সৌখিন ভাইয়ের নাটকের কাজ করলাম। (মোস্তফা কামাল) রাজ ভাইয়ের কাজ করলাম। (সাজ্জাদ হোসেন) বাপ্পীসহ অনেকের কাজই করলাম। এগুলো ধারাবাহিকভাবে মুক্তি পাবে।

প্রথম আলো :

জুটি হিসেবে সহশিল্পীদের মধ্যে কাকে এগিয়ে রাখবেন?

তানজিম সাইয়ারা তটিনী : সবাই আমাকে সহায়তা করেন। সবার সঙ্গেই দর্শক আমাকে দেখতে চান। সহশিল্পীরা সবাই আমার পছন্দের। এটা বুঝতে পারি, এক শ্রেণির ফ্যান জুটি হিসেবে ইয়াশের সঙ্গে আমাকে বেশি পছন্দ করে। কেউ তৌসিফের সঙ্গে পছন্দ করে। আবার বড় একটা দর্শক জুটি হিসেবে আমাকে আর জোভানকে খুবই পছন্দ করে। তাদের চোখে আমি ও জোভান পপুলার। আমার কাছে মনে হয়, আমার সঙ্গে দর্শক জোভানকেই বেশি পছন্দ করে। কারণ, আমাদের পরপর সব নাটকের ভিউ অনেক বেশি। বলা যায় আমরা পপুলার জুটি (হাসি)।

প্রথম আলো:

প্রতিটি নাটকেই আপনার হাসি, খুনসুটি দর্শক পছন্দ করেন...

তানজিম সাইয়ারা তটিনী : কীভাবে হাসলাম, কীভাবে একটু খুনসুটি করলাম এগুলো দর্শক পছন্দ করে—এ জন্যই আমাকে চরিত্র নিয়ে প্রচুর ভাবতে হয়। কারণ, কেউ যেন বলতে না পারে টাইপড কাস্ট হয়েছে। এগুলো আমি আলাদা করার চেষ্টা করি।

তানজিম সাইয়ারা তটিনী
ফেসবুক থেকে

প্রথম আলো :

সিনেমায় প্রস্তাব পাননি?

তানজিম সাইয়ারা তটিনী : গত দুই ঈদ থেকে অনেক প্রস্তাব পাচ্ছি। কিন্তু এখন সিনেমায় যেতে চাই না। তবে শৈল্পিক ঘরানার সিনেমায় অভিনয়ের ইচ্ছা আছে। সেটা এখন নয়। এখন আমি নাটক নিয়েই ভালো আছি। কাজ করছি, শিখছি, নিজেকে আরও যোগ্য করে তখন সময় আসবে।

প্রথম আলো :

বাণিজ্যিক সিনেমা কেন করতে চান না?

তানজিম সাইয়ারা তটিনী : এটার পরিসর অনেক বড়। সেখানে আমি কী, সেটা ভালোই বুঝতে পারি। এর জন্য যে অভিনয় দরকার, ড্যান্স দরকার, গ্ল্যামার, সেসব আমার মধ্যে আছে—এমন দাবি করি না। আপাতত নাটকেই ভালো আছি।

প্রথম আলো :

খুব কাছের কেউ কখনো কাজল চোখের প্রশংসা করেছে?

তানজিম সাইয়ারা তটিনী : (একটু ভেবে) সেভাবে কেউ তো কখনো প্রশংসা করেনি (হাসি)।