অভিমান সব শিল্পীর একটু থাকেই...

নাচে তাঁর ২২ বছরের ক্যারিয়ার, অভিনয়ে ১০। দুই মাধ্যমেই সমানতালে কাজ করে চলেছেন। ঈদে মি. বাদলসহ বেশ কিছু নাটক প্রশংসিত হয়েছে। এখন ঈদ নাটকের শুটিং নিয়ে ব্যস্ত। একফাঁকে প্রথম আলোর মুখোমুখি পারসা ইভানা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মনজুরুল আলম

প্রথম আলো :

অনেক শব্দ, কোথায় আপনি  

পারসা ইভানা: একটি বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ে। সেট থেকেই কথা বলছি। কিছু সময়ের মধ্যে আবার ব্যস্ত হয়ে যেতে হবে।

প্রথম আলো :

ঈদে এবার কয়টি নাটক করবেন

পারসা ইভানা: কদিন আগেই একটা ঈদের নাটক শেষ করলাম। সহশিল্পী ছিলেন ইয়াশ রোহান। সামনে আরও কিছু কাজ করব।

পারসা ইভানা। ছবি: খালেদ সরকার

প্রথম আলো :

নাটকে আপনার ১০ বছরের ক্যারিয়ার। কিন্তু কাজ তুলনামূলক কম

পারসা ইভানা: একই ধরনের গল্পে আমি অভিনয় করতে চাই না। বারবার দেখা যায়, কোনো ক্যারেক্টার দর্শক একটু পছন্দ করলে একই টাইপের গল্প অনেক নিয়ে আসে। যে কারণে বেছে কাজ করার চেষ্টা করি, যেন একেকটা গল্প অন্য রকম হয়। আবার আমাদের মিডিয়ার একটা নিজস্ব স্ট্র্যাটেজি আছে। আমি আসলে খুব একটা বেশি স্ট্র্যাটেজি ফলো করি না। আমি আমার নিজের মতো করেই থাকতে পছন্দ করি। খুব একটা সিন্ডিকেটও মেইনটেইন করি না। খুব বেশি নায়কদের সঙ্গে শিডিউলও মেলানো হয় না। বাছবিচার করেই কাজ করি। সবকিছু মিলে হয়তো একটু কম কাজ আমার।

প্রথম আলো :

কখনো শোনা যায় অভিমানের কথা...

পারসা ইভানা: অভিমান সব শিল্পীর একটু থাকেই। কারণ, অনেক সময় মনে হয় কোনো কাজ নিয়ে আমাকে কেন বলা হলো না বা অনেক সময় লাস্ট মোমেন্টে চেঞ্জ হয়ে যায় অনেক কিছু। এগুলো অভিমান তৈরি করে। এগুলো বেশি সময় মাথায় রাখি না।

পারসা ইভানা। ছবি: কবির হোসেন

প্রথম আলো :

সময়ের অনেক অভিনেতার সঙ্গেও আপনাকে দেখা যায় না...

পারসা ইভানা: এটা তো আসলে আমার কল না, আমি তো ডিরেক্টরস কলে কাজ করি। অনেক আর্টিস্টের দেখা যায় নিজস্ব প্রেফারেন্স থাকে—একে নিতে হবে, ওকে নিতে হবে। অমুকের সঙ্গে ওমুক অভিনয় করতে চায়। এই জুটি প্রথার ব্যাপার আছে আমাদের দেশে। সেই জায়গা থেকে আমার জুটি বেঁধে কাজ করাটা হয় না। যখন যার সঙ্গে ডিরেক্টররা আমাকে চায়, যদি ব্যাটে–বলে মেলে, ওভাবেই কাজটা করা হয়। কিন্তু সবার সঙ্গেই আমি কাজ করতে চাই।

প্রথম আলো :

কখনো মনে হয় যথাযথ মূল্যায়ন পাননি

পারসা ইভানা: এটা তো অবশ্যই মনে হয়। কারণ, ওই যে বললাম কমফোর্ট জোনের বাইরে অনেকে বের হতে চায় না। আমাদের ডিরেক্টরদের মেজর প্রবলেম হচ্ছে তারা যে আর্টিস্টের সঙ্গে একবার কাজ করে, মূলত তাদেকেই বারবার কাস্টিং করে। এক্সপ্লোরটা কম করে। সেই জায়গা থেকে অনেক ভালো ভালো আর্টিস্ট অনেক কাজ পায় না। যে কারণে শিল্পী হিসেবে অভিমান থাকে। কিন্তু আমি এটাও বিলিভ করি ডেসটিনি এবং লাক। হয়তো আমার লাক এতটুকুই, আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমি কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি, বিশ্বাস করি কখনো না কখনো আরও ভালো কিছু হবে।

পারসা ইভানা। ছবি: শিল্পীর সৌজন্যে
SDP

প্রথম আলো :

এ বছর তো আপনার নাচের ক্যারিয়ারেরও ২২ বছর পূর্ণ হলো। কোন পরিচয়টা উপভোগ করেন

পারসা ইভানা: আমি তো নাচেরই মেয়ে। নাচের একটা প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরই অভিনয়ে আসা। যখন কেউ আমার পরিচয় দেয় নৃত্যশিল্পী এবং অভিনেত্রী, এই দুইটা শব্দ শুনতে আমার খুব ভালো লাগে। আমাদের এখানে নাচের পরিধি একটু কম। এখানে যারা নাচে, তাদের মূল্যায়ন কম হয়। জানি না কেন। তবে এই অবস্থা পরিবর্তন হওয়া দরকার। আশপাশের দেশগুলোতে নৃত্যশিল্পীদের অনেক সম্মান করা হয়। আমার অভিনয় ক্যারিয়ারের মতো নৃত্যাঙ্গনেও ভালো কিছুর প্রত্যাশায় রয়েছি।

প্রথম আলো :

ঈদে কী সিনেমা দেখলেন, কোনটা ভালো লেগেছে

পারসা ইভানা: দুইটা সিনেমা দেখেছি—বনলতা এক্সপ্রেস আর দম। আমার কাছে বনলতা এক্সপ্রেস বেশি ভালো লাগছে। কিন্তু দম–এর সিনেমাটোগ্রাফি আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। এমন ভিজ্যুয়াল বাংলাদেশের কোনো সিনেমায় আগে দেখিনি, দারুণ সিনেমাটোগ্রাফি, ফ্রেমিং। (আফরান) নিশো ভাইয়ের অ্যাক্টিং তো অসাধারণ। নিশো ভাইয়ের অ্যাক্টিং আমার সব সময় ভালো লাগে।

আরও পড়ুন
পারসা ইভানা। ছবি: শিল্পীর সৌজন্যে

প্রথম আলো :

আপনার পছন্দের অভিনেত্রী কারা

পারসা ইভানা: নাম বলে শেষ করা যাবে না। পছন্দের অভিনেত্রীদের মধ্যে আলিয়া ভাটের অভিনয় খুব ভালো লাগে। মাধুরী দীক্ষিত খুবই ফেবারিট। জয়া আহসান আপু অনেক পছন্দের। মেহজাবীন (চৌধুরী) আপুর অ্যাক্টিং ভালো লাগে। আরও অনেকেই আছে, দীপিকা পাড়ুকোন আছে। তারপর যদি হলিউডের দিকে যাই আমরা, জুলিয়া রবার্টসের অভিনয় ভালো লাগে, ন্যাচারাল মনে হয়। পুরোনোদের মধ্যে (মেরিলিন) মনরোর অভিনয়ের ভক্ত আমি। একেকজন একেক ধরনের বিউটি।

প্রথম আলো :

জুটি হয়ে কাজ করাটা কীভাবে নেন

পারসা ইভানা: এটা তো খুবই ভালো। একটা জুটি যখন গ্রহণযোগ্যতা পায়, এটা তো খুবই ভালো। যেমন আমার আর (জিয়াউল হক) পলাশের জুটি দর্শক পছন্দ করেন, অনেক পরিচালক আমাদের নিয়ে কাজ করতে চান। সে ক্ষেত্রে আমরা চেষ্টা করি কোয়ালিটিটা বজায় রাখতে।

পারসা ইভানা। ছবি: শিল্পীর সৌজন্যে

প্রথম আলো :

সহশিল্পীর মধ্যে কাকে এগিয়ে রাখবেন

পারসা ইভানা: সবারই আলাদা একটা নিজস্বতা রয়েছে। এটার আমি খুবই প্রশংসা করি। সবাই যদি একরকম হয়ে যায়, তাহলে তো বিষয়টা ভালো হলো না। এখন পলাশ স্ক্রিনে একধরনের ম্যাজিক দেখায়, ইয়াশ রোহান আরেক ধরনের ম্যাজিক দেখায়।

প্রথম আলো :

বাংলাদেশের এমন কোন অভিনয়শিল্পী আছে, যাঁর সঙ্গে আপনি স্ক্রিন শেয়ার করতে চান

পারসা ইভানা: আমি চাইতাম আফরান নিশোর সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করতে। নিশো ভাইয়ের সঙ্গে অলরেডি অভিনয় করেছি। আমি আবার নিশোর ভাইয়ার সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করতে পারলে ভালোই লাগবে।

আরও পড়ুন
পারসা ইভানা। ছবি: শিল্পীর সৌজন্যে

প্রথম আলো :

এক দশকের ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি কী

পারসা ইভানা: সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি এটাই যে এখন পর্যন্ত কাজ করে যেতে পারছি। এখন পর্যন্ত ডিরেক্টররা ভালো ভালো কাজের সুযোগ দিচ্ছেন। ধারাবাহিক ব্যাচেলর পয়েন্ট আমার ক্যারিয়ারের ওয়ান অব টার্নিং পয়েন্ট। ‘ইভা’ ক্যারেক্টারটা দর্শক পছন্দ করেছিল। এখনো মানুষ রাস্তায় বের হলে বলে আপু আপনাকে কবে দেখব আবার। সো এটাই আমার কাছে মনে হয় আমার চরিত্রের সার্থকতা, এটা অভিনেত্রী হিসেবে অনেক বড় একটা প্রাপ্তি। অনেক সময় অনেক কাজ হয়নি। সেগুলো নিয়ে আফসোস করি না। এই কয়েক বছরে আমার অডিয়েন্স আমাকে যে ভালোবাসাটা দিচ্ছে, এটা অনেক অনেক বেশি মিনিংফুল আমার জন্য।

প্রথম আলো :

ব্যাচেলর পয়েন্ট–এ দর্শক আবার আপনাকে কবে দেখবেন

পারসা ইভানা: এটা (পরিচালক কাজল আরেফিন) অমি ভাই ভালো বলতে পারবে। এ প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে নেই। আমি নিজেও আশা করি, আবার আমাকে ব্যাচেলর পয়েন্ট–এ দেখা যাবে। আর যদি না–ও যায়, মানুষ যেন আমাকে এভাবে মনে রাখে, এই নাটক দর্শকদের মতো আমার কাছেও একটা ইমোশনের নাম।

প্রথম আলো :

ব্যস্ততা কী নিয়ে

পারসা ইভানা: ঈদের জন্য কিছু নাটক করেছি। আরও কিছু কাজ করব। এর মধ্যে ওয়েবের কাজ করব। সেটা ঈদের পরে আসবে। এ ছাড়া নাচের অনুষ্ঠান করতে হবে। বিজ্ঞাপনের কাজ করছি। এগুলো নিয়েই ব্যস্ততা।

পারসা ইভানা। ছবি: শিল্পীর সৌজন্যে