বুঝেছি, জনপ্রিয়তার খেলাটা খেলে আসতে হবে

বিটিভিতে প্রচারিত হচ্ছে ধারাবাহিক নাটক ‘ধূসর প্রজাপতি’। এটির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন মীর রাব্বি। এর বাইরে নতুন দুটি সিনেমার কাজ শেষ করলেন তিনি। কথা চলছে একাধিক চলচ্চিত্র নিয়েও। শুটিং করছেন নতুন নাটকের। চলছে বিজ্ঞাপনচিত্র ও তথ্যচিত্রে কণ্ঠ দেওয়ার কাজও, তবে তুলনামূলক কম। গতকাল শুক্রবার বিকেলে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো।

প্রথম আলো:

শুটিং করছেন, নাকি ছুটি কাটাচ্ছেন?

মীর রাব্বি : আজ (শুক্রবার) একটা নাটকের শুটিং ছিল। গল্প পড়ার পর মনে হয়, একই ভাবনায় কদিন আগে একটি কাজ হয়েছে, তাই শেষ মুহূর্তে বাদ দিয়েছি। পরিচালককে অনুরোধ করেছি, গল্পটা বদলান। একই ধরনের গল্পে কাজ করতে চাই না, এটা উচিতও নয়।

প্রথম আলো :

অনেকে বলে থাকেন, এমনটা প্রায়ই হয়...

মীর রাব্বি : তা ঠিক। তারপরও এই মন্দের ভিড়ে আমি চেষ্টা করি, একই গল্পের অংশ যেন দ্বিতীয়বার না হই। আমি চাই বেছে ও বুঝেশুনে কাজ করতে।

মীর রাব্বি
ছবি: শিল্পীর সৌজন্যে
প্রথম আলো:

কাজের ব্যস্ততা কেমন?

মীর রাব্বি : সার্বিকভাবে ইন্ডাস্ট্রির কাজের সংখ্যা তো ভয়ানক নিম্নমুখী। সে হিসেবে তারপরও আমার ব্যস্ততা চলছে। এই মাসে যদিও কিছু কাজ স্থগিত হয়েছে, কিছু পিছিয়েছে, তারপরও চলছে। আমি এখন চ্যানেল আর ইউটিউবের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকার চেষ্টা করছি। এই অঙ্গনে কাজ করতে গিয়ে আমার অভিজ্ঞতায় যা বুঝেছি, জনপ্রিয়তার খেলাটা খেলে আসতে হবে। ভালো কাজের পাশাপাশি এখন কাজের সংখ্যাও বাড়াতে হবে। কাজের সংখ্যা যখন বাড়বে, নানান মানুষ নানান ধরনের কাজ দেখার সুযোগ পাবেন। সময়ই ঠিক করবে, তখন কোন কাজ টিকে থাকবে, কোনটি কোন ধরনের মানুষের উদ্দেশ্য হাসিল করবে। আমি এখন ওভাবেই পরিকল্পনা করছি। এর মধ্যে তৌকীর (আহমেদ) ভাইয়ের সঙ্গে দারুণ একটা সিরিজে কাজ করলাম।

প্রথম আলো:

বিরতির পর নির্মাণে ফিরলেন তৌকীর আহমেদ, সেই কাজে আপনি অংশ হলেন। এটা কি তাঁর সঙ্গে প্রথম কাজ?

মীর রাব্বি : দীর্ঘদিন পর ফিরে তৌকীর ভাই ‘ধূসর প্রজাপতি’ বানালেন। তাঁর সঙ্গে আমার প্রথম কাজ, অভিজ্ঞতাও দুর্দান্ত। আমরা যখন কাজ করছি, তিনি তখন লিখছেন। তাই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে দারুণভাবে ইনভলভ ছিলাম। দুটি অসাধারণ টিম নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। তৌকীর ভাইয়ের লেখা তো এমনিতেই দুর্দান্ত। আর তাঁকে আমার কাছে সব সময় আলাদা লাগে, এটা হাজার রকমভাবে বলাও যেতে পারে। আমার কাছে তিনি মানুষ হিসেবে যে রকম, তাঁর সেন্স অব হিউমার মারাত্মক বুদ্ধিদীপ্ত। আবার তিনি প্রচণ্ড ব্যক্তিত্বসম্পন্ন একজন মানুষ। তাঁর পড়ালেখা বলি, পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড বলি, তাঁর ক্লাসটাও আভিজাত্যপূর্ণ। তিনি জন্মগতভাবে সম্ভ্রান্ত, কিন্তু এটা তিনি কখনোই দেখান না বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। এখানে আবার তিনি মাটির মানুষ, থিয়েটারের মানুষ—এই ব্যাপারটা দারুণভাবে আছে। এ রকম গুণাবলিসম্পন্ন মানুষ আশপাশে খুব কম আছে, যিনি আসলে লেখাপড়া করছেন, যাঁর আসলে অর্জনও অনেক। তৌকীর আহমেদ যদি অভিনয়ে নাও আসতেন, তিনি তো একজন দুর্দান্ত স্থপতি। তিনি যদি কিছু না করতেন, তা–ও তো সম্ভ্রান্ত পরিবারের একজন সন্তান, দুর্দান্ত মেধাবী, পড়ালেখাও অনেক। তাঁর মতো মানুষের সঙ্গে কাজ করতে পারাটাও বিশাল আনন্দের। তিনি দারুণ স্মার্ট। তিনি একজন ক্ল্যাসিক সাহিত্য বোঝা মানুষ আবার খুবই আধুনিক—মানুষের মধ্যে এ রকম কম্বিনেশন সচরাচর পাওয়া যায় না। তিনি আমার ছোটবেলার হিরো, আমি তাঁর অন্ধ ভক্ত।

মীর রাব্বি
ছবি: শিল্পীর সৌজন্যে
প্রথম আলো:

ছোটবেলার হিরোর পরিচালনায় কাজ করাটা কতটা প্রেরণার?

মীর রাব্বি : তৌকীর ভাইয়ের প্রজেক্টে, তাঁর তত্ত্বাবধানে যে কয় দিন ছিলাম, এইটাই একটা সুন্দর শিক্ষাসফর। কাজ চলছে কাজের মতো। তিনি লিখে দিচ্ছেন, আমি পড়ছি, তাঁর হাতের লেখাও এত সুন্দর, এত সুন্দর প্রেক্ষাপট লেখনী দিয়ে তিনি তৈরি করতে পারেন, এত সুন্দরভাবে গল্প লিখতে পারেন, প্রতিটি বিষয়ই তো সব সময় শিখছি; আর তা যদি পছন্দের মানুষের থেকে হয়, যাঁকে আদর্শ মানতাম! যখন আমি অভিনয় শুরু করি, তখন আমি তাঁর সঙ্গে কাজ করতে চাইতাম, এত সুন্দর একটা প্রজেক্টে তাঁর সঙ্গে কাজ হবে, ভাবিনি। যখনই আমাকে বলেছেন, তখনই আমি ভীষণ উচ্ছ্বসিত ও অনুপ্রাণিত হয়েছি।

প্রথম আলো:

শুনলাম, নতুন দুটি সিনেমায় অভিনয় করলেন?

মীর রাব্বি : দুটি নয়, তিনটি সিনেমায় অভিনয় করলাম। একটা আর্টহাউস ঘরানার, কবে মুক্তি পাবে জানি না। শুনেছি, দেশের বাইরের উৎসবের জন্য বানানো। বাকি দুটির একটি নূর ইমরান মিঠুর ‘কুরকাব’, এটাতে মোশাররফ করিম ভাইয়ের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা হয়েছে। ‘কুরকাব’–এর চিত্রনাট্য এত সুন্দর, এত সুন্দর, আমি মুগ্ধ। এই সিনেমায় অনেক বড় দৈর্ঘ্যের দৃশ্যে কাজ করেছি, তা–ও মোশাররফ করিম ভাইয়ের মতো গ্রেট অভিনয়শিল্পীর সঙ্গে। তাঁর মতো অভিনয়শিল্পীর সঙ্গে অভিনয় করতে পারা, মানুষ হিসেবে তাঁর সঙ্গ পাওয়া, একই লঞ্চে লম্বা সময় ধরে পাশাপাশি থাকা, আড্ডা দেওয়া, এটা আমার কাছে একটা স্কুলিংয়ের মতো হয়েছে। এই স্কুলিং এত ইউনিক, বলে বোঝানো যাবে না। আমি খুব ভাগ্যবান মোশাররফ ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করেছি। কত শিখতে হবে, কত আমি পারি না, তা নতুন করে উপলব্ধি করলাম। আরেকটা ছবি করেছি শাহরিয়ার পলকের ‘বকুলের বুকে রক্তকরবী’, শুটিং করেছি দেড় বছর আগে। আমার প্রথম সিনেমা ছিল অনিমেষ আইচের ‘জিরো ডিগ্রি’, এরপর অভিজিৎ অর্কের ‘জুন’ নামে একটি সিনেমায় কাজ করেছি, বিদেশি একটা থিয়েটার প্রোডাকশন। অভিনয় করেছি বদরুল আনাম সৌদের ‘শ্যামাকাব্য’তে।

মীর রাব্বি
ছবি: শিল্পীর সৌজন্যে
প্রথম আলো:

সিনেমায় অভিনয়ে নিয়মিত হতে চান?

মীর রাব্বি : আমি এখন পুরোদস্তুর অভিনয়শিল্পী। এটাই আমার পেশা। অভিনয়ের প্রতিটি মাধ্যমে কাজ করতে চাই। আমার অভিনয়ের দক্ষতা মানুষকে দেখাতে চাই। তাই সব ধরনের গল্পে কাজ করতে চাই।