এই বদনামগুলো অন্য নায়করাই করায়: শামীম হাসান
ডিসেম্বরে ৮টি নাটক নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন অভিনেতা শামীম হাসান সরকার। এর মধ্যে ‘আতা অ্যান্ড তোতা ব্রাদার্স’, ‘সার্টিফিকেট’ নাটকগুলো প্রচার হয়েছে। কাজ ও ব্যক্তিগত নানা প্রসঙ্গে প্রথম আলোর মুখোমুখি হলেন এই অভিনেতা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মনজুরুল আলম
প্রথম আলো :
ওটিটি বা সিনেমাতেই আপনাকে দেখা যাচ্ছে না কেন?
শামীম হাসান সরকার: আমি হয়তো যোগ্য নই বলেই ডাকছে না। ডাকলে তো আমাকে যোগ্য মনে করত। আমি নিজেও তো নিজেকে ওটিটিতে দেখতে চাই। আমাকে যদি কেউ বলে ওটিটির কাজ করতে হবে। আমি সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যাই। নিয়মিত নাটক করলেও তবে আমি ওটিটির কাজ নিয়ে আশাবাদী।
প্রথম আলো :
আপনার নিজের কোনো ঘাটতি আছে বলে মনে হয়?
শামীম হাসান সরকার: যেসব টিম বা পরিচালক ওটিটির কাজ বেশি করছেন, তাঁদের সঙ্গে আমার খুব একটা আড্ডা বা হাই হ্যালো হয় না। কারও সঙ্গে পরিচয় নাই, যে কারণে যোগাযোগ গড়ে ওঠেনি। এটা হয়তো আমারই ব্যর্থতা। একটা কথা কেন যেন প্রায়ই মনে হয়, অনেকের কাছেই আমার বদনাম বেশি। কেউ এই বদনাম ছড়ায়।
প্রথম আলো :
কী ধরনের বদনাম?
শামীম হাসান সরকার: আমি ২০১৮ সাল থেকে নিয়মিত কাজ করি। সেই সময়ে ইউটিউবকেন্দ্রিক বেশ কিছু কাজ করেছিলাম। তখন এক শ্রেণি ইউটিউবার বলে ছোট করার চেষ্টা করত। হয়তো তারাই সেই কাজগুলো, নিজেদের বানানো গল্প দিয়ে আমাকে জিইয়ে রাখতে চায়। একই গল্প তারা বারবার শোনাচ্ছে। সেটা এক অর্থে হাস্যকর। কারণ, আমি প্রতিনিয়ত নিজেকে ভাঙছি। অভিনয় শিখছি, চেষ্টা করছি। কিন্তু একটা শ্রেণি চায় নানাভাবে আমাকে পিছিয়ে দিতে।
প্রথম আলো :
কীভাবে ক্ষতি করতে চায়?
শামীম হাসান সরকার: এটা বিভিন্নভাবে হয়। এমনও হয়, আমারই কোনো সহকর্মীর ইশারায় কেউ হয়তো আমার সহশিল্পী হিসেবে টিমে কাজ করবে। পরে সেই সহশিল্পী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অন্য পাঁচজনের কাছে আমার বদনাম করবে। আমার মার্কেট নষ্ট করার চেষ্টা করবে। এই বদনামগুলো অন্য নায়করাই করায়। কিন্তু সৎ পথে থাকলে কেউ কারও খুব একটা ক্ষতি করতে পারে না। আমি আমার জায়গায় ঠিক আছি। যে কারণে এখন বুঝতে পারি বদনাম কমছে। গত চার–পাঁচ মাস আমার বিরুদ্ধে তেমন কোনো অভিযোগ শুনিনি।
প্রথম আলো :
এসবের মাঝে আপনি নিজেকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
শামীম হাসান সরকার: আমি কেমন সেটা আমার ফেসবুক দেখলেই বোঝা যায়। আমার সঙ্গে যাঁরা মেশেন তাঁরা বোঝেন। আমি আমার মতো অভিনয় নিয়েই থাকতে চাই। একসময় নানা রকম গল্পে কাজ করেছি। এখন আমার কাজগুলো আগের চেয়ে বেশি পরিপক্ব। আর আমি একটা কথা বলব, একবার কেউ আমাকে কাস্টিং করলে তিনি আমার সম্পর্কে বুঝতে পারবেন, আমি আসলে কেমন মানুষ, কেমন অভিনেতা।
প্রথম আলো :
আপনি শুটিং থেকে সম্পর্কটাকে কীভাবে বজায় রাখেন?
শামীম হাসান সরকার: আগে তো সবার সঙ্গে আমার শুটিং হতো না। কারণ, ওই যে বদনাম রটানো হতো। অনেক পরিচালক কাজ করতে চাইতেন না। এখন যাঁদের সঙ্গে কাজ করি তাঁরা এতটাই সহকর্মী হিসেবে বন্ধু হয়ে যান যে পরের কাজগুলোর জন্য শিডিউল দিতে হয়। এই ভালোবাসার সম্পর্কটা তৈরি হয়েছে। যাঁরা আমাকে নিয়ে ভাবেন না, তাঁদের সঙ্গে যদি একবার কাজ হয়, তাহলে আমার আত্মবিশ্বাস আছে তাঁরাও নিয়মিত আমাকে নিয়ে কাজ করবেন।
প্রথম আলো :
এমন আত্মবিশ্বাস কীভাবে হয়েছে?
শামীম হাসান সরকার: আমি শুরুতেই বলেছি আমি কাজ শিখছি, নিজেকে প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছি। এখন একজন ওটিটির পরিচালক কী চান? তিনি ভালো একজন অভিনয়শিল্পীকে কাস্টিং করবেন। আশা করি, সেই অভিনয়দক্ষতা তাঁরা আমার মধ্যে পাবেন। একবার যখন পাবেন তখন বারবার তাঁরা আমাকে কাজে চাইবেন। কাজ নিয়ে সেই ডেডিকেশনটা আমার আছে। কিন্তু শুরুটা হচ্ছে না এই। তবে একবার যদি ওটিটিতে আমি কাজ শুরু করি, দেখবেন ইনশা আল্লাহ আমি নিয়মিতই ওটিটির কাজ করে যাব। আমাকে নিয়ে অনেকের ভুল ভাঙবে।
প্রথম আলো :
গেল বছরটা কেমন ছিল?
শামীম হাসান সরকার: আমি সবকিছুর জন্য শুকরিয়া আদায় করি। এ বছর অনেক ভালো ভালো কাজ করেছি। কিছু কাজ দর্শক ভালোভাবে গ্রহণ করেছে, কিছু কাজ দিয়ে হয়তো পুরোপুরি দর্শকদের মন জয় করতে পারিনি। আমি চেষ্টা করে যাব। আর নিজের কাজগুলো নিয়ে সমালোচনাকেও ভালোভাবে নিয়েছি। আমার পরিবারের সবাই পাশে আছে। ভালো কাজের আস্থা আমার আছে।
প্রথম আলো :
দেখলাম ‘কাশ্মীরি বউ’–এর সঙ্গে...
শামীম হাসান সরকার: হা হা হা। হ্যাঁ, কদিন আগে নতুন একটি নাটকের শুটিং করেছি। সেই নাটকের নাম কাশ্মীরি বউ। কাশ্মীরে ঘুরতে গিয়েই পরিচয় হয়। পরে বিয়ে। সে মেয়ে কাশ্মীর থেকে একটি গ্রামে আসে। সেই মেয়েটির নাম থাকে হানিয়া আর আমার নাম আমির। মূলত হানিয়া ও আমিরের প্রেম বিয়ের কমেডি গল্প নিয়েই নাটক। কাশ্মীরি মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জেবা জান্নাত। নাটকে প্রথমবার আমরা একসঙ্গে অভিনয় করলাম। এ মাসে সব মিলিয়ে ১০টা নাটকে কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। সবগুলো গল্পই আমার পছন্দের ছিল।