>

নাগরিক নাট্যাঙ্গন তাদের নতুন নাটক আনছে মঞ্চে। আজ ও আগামীকাল রয়েছে নাটকটির কারিগরি মঞ্চায়ন। দর্শকদের জন্য নাটকটি আসবে আগামী ১৭ নভেম্বর। প্রথমবারের মতো মঞ্চনাটকে নির্দেশনা দিলেন হৃদি হক। বানেছা চরিত্রে অভিনয়ও করছেন তিনি। কথা হলো তাঁর সঙ্গে
হৃদি, আপনাকে অভিনন্দন, প্রথমবারের মতো মঞ্চনাটকে নির্দেশনা দিচ্ছেন।
ধন্যবাদ। আমারও ভালো লাগছে। আমাদের নাগরিক নাট্যাঙ্গনের ২০ বছর চলছে। আর এই নাটক আমাদের ২০তম প্রযোজনা। স্বভাবতই আমি রোমাঞ্চিত।
প্রথম নির্দেশনার জন্য লোকনাটক বেছে নিলেন কেন?
আমরা নানা ধরনের নাটক করেছি। তাতে মৌলিক নাটক আছে, রূপান্তর আছে। নাটকের ধারার কথা যদি বলি, তাহলে ট্র্যাজেডি, কমেডি ও ব্যঙ্গ নাটক আছে। রবীন্দ্রনাথের নাটক আছে, আছে মুক্তিযুদ্ধের নাটক। কিন্তু আমাদের ভান্ডারে কোনো লোকগাথা ছিল না। আমরা তাই গওহর বাদশা ও বানেছা পরীকে বেছে নিয়েছি। আমরা লোকগাথাটির পুনঃকথন করেছি। স্ক্রিপ্টও আমি করেছি। লোকের মুখে মুখেই লোকগাথার চর্চা হয়। আমরা সেই প্রাণের জায়গায় ঢুকতে চাই। ৫০ জনের একটি কর্মীদল এই নাটকের পেছনে কাজ করছি। ৫০ জন মানুষের ভাবনার আদান-প্রদান হচ্ছে। তাতে রোমাঞ্চ আছে। আমরা দর্শক-মন ছুঁতে চাইছি, তাই চ্যালেঞ্জটাও বড়।
কিন্তু শহুরে তারুণ্য কি এখন ফেসবুক আর স্মার্টফোনেই বেশি ব্যস্ত নয়? তঁারা কি নাটক দেখবেন?
আমি বিশ্বাস করি, আমরা যদি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন চাই, তাহলে সমাজের মধ্য থেকেই তা করতে হবে। ওদের শরীরেও মাটির সোঁদা গন্ধ আছে, অনেক সময়ই ওরা তা টের পায় না। সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের মাধ্যমেই মিলন হবে।
নাটকের একটি সংলাপ শোনাবেন আমাদের পাঠকদের?
(হেসে) এটা তো প্রেমগাথা। ১২ বছরের বিচ্ছেদ শেষে গওহর বাদশা ফিরেছে। তখন বানেছা বলছে, ‘জানি চোখে চোখ রেখে সারা রাত কেটে যাবে দোহে, এক নিবিড় আলিঙ্গন মোহে। কিন্তু ক্লান্ত তুমি বাদশাহ, পেরিয়ে এসেছ শতসহস্র ক্রোশ পথ, আজ বিশ্রাম করো।’
আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
মাটির সোঁদা গন্ধ পাওয়ার জন্য আশা করি দর্শকেরা আসবেন এই নাটক দেখতে।
সাক্ষাৎকার: জাহীদ রেজা নূর