অভিনয়ের কোনো ইচ্ছাই ছিল না

সব সময় ভালো কাটানোর চেষ্টা করিছবি: সংগৃহীত

প্রশ্ন :

কেমন আছেন?

মোটামুটি। কারণ, প্রচণ্ড গরম ভালো থাকতে দিচ্ছে না। মাঝেমধ্যে অস্থির লাগছে।

প্রশ্ন :

ঈদ কেমন কেটেছে?

সব সময় ভালো কাটানোর চেষ্টা করি। এবার পাশের দেশের মানুষের কথা ভেবে মনটা খারাপ ছিল। সেখানে এখনো হাজার হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন, কিন্তু আমাদের দেশের কেউ লকডাউন সেভাবে মানছেন না। করোনা পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তায় আছি। সতর্কতা মেনে বের হতে হয়েছিল।

ঈদ সব সময় ভালো কাটানোর চেষ্টা করি
ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্ন :

কোথায় গিয়েছিলেন?


আমার আর নাদিয়ার আত্মীয়স্বজন প্রচুর। আমাদের নাটক ঈদের অনুষ্ঠানমালায় সাত দিন ধরে প্রচারিত হয়েছে। আর আমাদের ঈদের দাওয়াত খেতে হয় ১০ দিন। আমি আর নাদিয়া এখনো দাওয়াতের ওপরেই আছি। পরিচিত অনেকের সঙ্গেই দেখা হচ্ছে। বন্ধুরা এসেছিল। কিছুটা আড্ডা হলো। ভালো থাকার চেষ্টা করছি।

প্রশ্ন :

বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় কোন বিষয়ে বেশি কথা হয়?

স্কুলের টিফিন চুরি আর স্কুল থেকে পালানো নিয়ে। (হাসি)

প্রশ্ন :

কীভাবে স্কুলের টিফিন চুরি করতেন?

আমি মতিঝিল বালক উচ্চবিদ্যালয়ে পড়েছি। আমরা ২৬ জন ছিলাম খুবই ক্লোজড বন্ধু। আমরাই ঘুরেফিরে প্রতিদিন টিফিন আনতে যেতাম। যে–ই যেত সে–ই গিয়ে বলত, আমাদের তিন–চারজন বন্ধু খুবই ক্ষুধার্ত। তাদের কথা বলে টিফিন চুরি করতাম। একবার ধরা খেলাম। স্যার এসে বললেন, ‘কে কে ক্ষুধার্ত?’ আমরা সবাই চুপ। তখন আমি আর বন্ধু লিংকন সত্য কথা বলে দিই। বললাম, ‘স্যার, টিফিন খেতে ভালো লাগে, এ জন্য চুরি করি।’ ভালো ছাত্র ছিলাম বলে স্যাররা তেমন কিছু বলতেন না।

ভালো ছাত্র ছিলাম বলে স্যাররা তেমন কিছু বলতেন না
ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্ন :

আপনার অভিনয়ের ইচ্ছা কি বন্ধুরা জানতেন?

আমার অভিনয়ের কোনো ইচ্ছাই ছিল না। কোনো দিন ভাবিনি অভিনেতা হব। কিন্তু আমার বন্ধুরা বলত, ‘তুই মডেল বা নায়ক হবি।’ এখনো তারা পরিবারের সবাইকে বলে বেড়ায়, আমার অভিনয়ের ব্যাপারে তারা বুঝতে পেরেছিল। আমি অবশ্য তাদের কথায় গুরুত্ব দিতাম না। আমরা একটা দল সবাই মিলে মিউজিক নিয়ে পাগলামি করতাম। ইচ্ছা ছিল গান করব, কিন্তু এখন অভিনয় করছি।

প্রশ্ন :

ঈদে ‘আতরগন্ধি’, ‘আবির ভাইয়ের মাথা গরম’, ‘শুভ কামনা’সহ একাধিক নাটকে অভিনয় করলেন, সাড়া কেমন পেলেন?

এই নাটকগুলো আমারও পছন্দের। নাটকগুলো টেলিভিশনে দেখে পরিচিত অনেকেই ফোন করেছিলেন। তাঁদের একটাই কথা, তাঁরা নাকি অন্য এক নাঈমকে দেখছেন। আমাকে নতুন লাগছে, স্ক্রিনে আমার বয়স ১০ বছর কমে গেছে।

নাটকগুলো টেলিভিশনে দেখে পরিচিত অনেকেই ফোন করেছিলেন
ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্ন :

ঈদের কাজ কেমন হলো?

ভালো হয়েছে। এবার গল্পে ভিন্নতা ছিল। করোনা মাথায় রেখে যেভাবে লেখকেরা গল্প ভেবেছেন, এটা খুবই প্রশংসনীয়। শুটিংয়ের লোকেশন অল্প ছিল। তাই করোনায় ভালোভাবেই কাজ করতে পেরেছি। নিরাপত্তার কথা ভেবে লকডাউনে মাত্র একটি কাজ করেছি।

প্রশ্ন :

ঘর–সংসার কেমন চলছে?

আলহামদুলিল্লাহ আমরা (নাঈম–নাদিয়া) খুবই ভালো আছি। সবার দোয়ায় ভালো আছি। কাজ ও পরিবার সমানতালেই চলছে।

কাজ ও পরিবার সমানতালেই চলছে
ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্ন :

আপনাদের মধ্যে নিজেদের নিয়ে কোনো অভিযোগ আছে?

আমি এটাকে অভিযোগ বলব না। আমাদের একে অন্যকে নিয়ে প্রচুর অবজাবেশন থাকে। এখন সময়টা ভালো না। করোনার মধ্যে অনেক ভেবে চলতে হচ্ছে। ছোট ছোট বিষয় নিয়েই বেশি কথা হয়। যেমন বাইরে থেকে এসে মাস্কটা এক পাশে কোথাও খুলে রাখলাম, তা দেখে নাদিয়া বলল, ‘জায়গামতো মাস্কটা রাখো বা ফেলে দাও।’ এ ধরনের ঘটনা ছাড়া আমাদের মধ্যে কোনো ঝামেলা নেই।

প্রশ্ন :

শুটিংয়ে ফিরবেন কবে?

২৪ মে আবার শুটিংয়ে ফিরব। আফসানা মিমি, সকাল আহমেদসহ একাধিক নির্মাতার কাজ আছে। এবারই প্রথম আফসানা মিমির পরিচালনায় অভিনয় করেছি।

এফ এস নাঈম
ছবি: সংগৃহীত