গানটা শোনার পরপরই চোখে পানি এসে যায়

বাবাকে নিয়ে নতুন একটি গান গাইলেন সংগীতশিল্পী দিলশাদ নাহার কনা। জনি হকের লেখা এই গানের সংগীত পরিচালক ইমন চৌধুরী। ঈদে প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে একাধিক নতুন গান। নতুন গান, বিধিনিষেধের এই সময়সহ নানা প্রসঙ্গে কথা হলো তাঁর সঙ্গে—

দিলশাদ নাহার কনাছবি : সংগৃহীত

প্রশ্ন :

বাবাকে নিয়ে গান গাইলেন?

এর আগে কখনো বাবাকে নিয়ে গান গাওয়া হয়নি। এটি নাটকের একটি গান। গানটি খুব সুন্দর। ইমন চৌধুরীর স্টুডিওতে গানটি শোনার পর বেশ ভালো লেগেছে। গানটি শোনার পরপরই চোখে পানি এসে যায়। একটি মেয়ে তার বাবাকে নিয়ে গানটি গেয়েছে।

দিলশাদ নাহার কনা
ছবি : সংগৃহীত

প্রশ্ন :

গান নিয়ে আর কী করছেন?

এবার আর তেমন ব্যস্ততা কই। বিধিনিষেধের কারণে কাজই তো হলো না। ঈদের প্ল্যান করেও কোনো গান নেই। এমনিতে নাটকের গান গাইছি, জিঙ্গেলে কণ্ঠ দিচ্ছি, বিভিন্ন কোম্পানির উদ্যোগে তৈরি গানও গাইছি। দেখা যাচ্ছে, বিধিনিষেধের কারণে অনেকে গান প্রকাশের ব্যাপারে কনফিউজড। অনেকগুলো গান প্রকাশের প্ল্যান ছিল, ভিডিওর শুটিং করতে পারিনি বলেই গান রিলিজ করছি না।

‘রেশমি চুড়ি’ গানের ভিডিওতে কনা

প্রশ্ন :

করোনায় তো কাজ কম। সময় কাটে কী করে?

না, আমার কাজ হচ্ছে। যতটুকু পারি বাসা থেকেই কণ্ঠ দিচ্ছি। টুকটাক কাজ করছি। খুব একটা যে করছি, তা–ও নয়। আবার একদম বসে থাকার মানুষও আমি নই। অবসরে রেওয়াজ করি। ব্যায়াম করি। রান্না করি।

প্রশ্ন :

কোন রান্না ভালো করতে পারেন?

আমি বাংলাদেশি রান্নাবান্না ভালো করি। মাছ, ডাল, ভাত, ভর্তা—এসবই বেশি রান্না করি। আমি মানুষ যেমন সাধারণ, রান্নাও সাধারণ।

প্রশ্ন :

ঘরের বাইরে যখন রেস্টুরেন্টে যান, তখনো বাঙালি খাবার খান?

না, তখন বিদেশি খাবার খাই। তবে রান্নাটা আমার সাধারণ আরকি। খেতে পছন্দ করি। বাইরে অনেক খাই।

দিলশাদ নাহার কনা
ছবি : সংগৃহীত

প্রশ্ন :

রেওয়াজ করেন কখন?

সময় বলতে তো পারব না। যখন মনে হয়, তখন করি। ঘুম থেকে ওঠার পর করি।

প্রশ্ন :

প্রতিদিন কতক্ষণ রেওয়াজ করেন?

সব সময় তো পারি না। আগে স্টেজ শোর কারণে অনেক ব্যস্ত থাকতে হতো। তাই রেওয়াজ করার সময় একেবারে পেতাম না। এখন যেহেতু শো নেই, আধা ঘণ্টা তো মিনিমাম সময় বের করি। যেকোনো সময়ে রেওয়াজ করি। সকালেই করতে হবে এমন কোনো কথা নেই।

দিলশাদ নাহার কনা
ছবি : সংগৃহীত

প্রশ্ন :

নিজেকে সময় দেওয়ার জন্য কোন দিনটা রাখেন?

এটা খুবই টিপিক্যাল কোয়েশ্চেন। আমার কাছে এ রকম কোনো সময় নেই। অত বুড়া বয়স তো আমার হয়ে যায়নি যে আমাকে নিয়মমাফিক চলতে হবে। সপ্তাহের অমুক দিন আমাকে সময় দিতে হবে, এমনটা কখনো করিনি। আমি যে কাজ করি, রেকর্ডিং করি, এটাই তো আমাকে সময় দেওয়া।

প্রশ্ন :

গানের বাইরে আপনার পছন্দের বিষয় কী?

গানের বাইরে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিই। ঘুরে বেড়াই, শপিং করি। এর বাইরে নতুন শখ তৈরির ইচ্ছা নেই।

প্রশ্ন :

কদিন আগে দেখলাম হিন্দি গান গাইলেন। কী ভেবে করলেন?

কোনো কিছু ভেবে করিনি। ‘ওয়াদা রাহা’ গানটা আগে থেকেই আমার পছন্দ। ইমরানের স্টুডিওতে বসে আড্ডা দিতে দিতে গানটা রেকর্ড করলাম। রেকর্ডের পর দেখলাম শুনতে ভালো লাগছে। একটা জায়গায় একদিন খেতে গিয়েছিলাম, সেখানেই ভিডিও করা।

সাত বছর প্রেমের পর বিয়ে করেছেন গহীন ও কনা
ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

প্রশ্ন :

একসময় অভিনয়ও করতেন, ছেড়েছিলেন কেন?

এটা তো সেই ২০০৬ সালের কথা, তখন ইচ্ছা হতো তাই নাটক করতাম। এখন আর ইচ্ছা হয় না, তাই করি না।

প্রশ্ন :

আপনার গানের বাইরে দেশের শিল্পীদের মধ্যে কার কার গান শোনেন?

অনেকের শুনি। যখন যার গান ভালো লাগে, তার গানই শুনি।

প্রশ্ন :

সম্প্রতি শোনা এমন কোনো গান, যেটা ভালো লেগেছে?

মনে করতে পারছি না আসলে।

একটি গানের ভিডিওর একটি দৃশ্যে কনা
ছবি : সংগৃহীত

প্রশ্ন :

আপনার সেরা গানটি গাওয়া হয়ে গেছে...

প্রতিটি গান আমি যখন গাই, একই রকম ডেডিকেশন নিয়েই গাই। দেখা গেছে, যে গানটা আমি আশা করিনি, শ্রোতার কাছে সেরা হয়ে গেছে। আবার আমার কাছে যেটা সেরা, অনেকে সেটা পছন্দই করেনি। তাই বলতে হয়, সেরা শ্রোতার ওপরই নির্ভর করে।