দেশের মানুষের ভালোবাসাতেই আমি আজ শাবনূর

শাবনূর
শাবনূর

চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়েছিল ক্লাস এইটে পড়ার সময়েই, প্রয়াত চলচ্চিত্র নির্মাতা এহতেশামের হাত ধরে। তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে উপহার দিয়েছেন অসংখ্য ব্যবসাসফল ছবি। কিন্তু বেশ কয়েক বছর ধরেই চলচ্চিত্রের একসময়ের এই ব্যস্ত তারকা কিছুটা অনিয়মিত। বলা যায় এখন শুধু তাঁর অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ আসা-যাওয়ার বিষয়টাতেই নিয়মিত তিনি। তিনি আর কেউ নন, বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবনূর। দীর্ঘ এক বছর অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে থাকার পর চলতি মাসের ১ তারিখ ঢাকায় আসেন শাবনূর। অন্যবার একা দেশে ফিরলেও এবারে তাঁর সঙ্গে এসেছে নতুন এক অতিথি। এ অতিথিও আর কেউই নয়, শাবনূরের একমাত্র সন্তান আইজান। সন্তানকে নিয়ে শাবনূর এখন আছেন ইস্কাটনে নিজের ফ্ল্যাটে। পরিবার ও চলচ্চিত্রে কাজের নতুন পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন শাবনূর। তাঁর কথা পাঠকদের কাছে তুলে ধরেছেন মনজুর কাদের
আর কত দিন নিজেকে নায়িকা হিসেবে দেখতে চান?
এটা আসলে বলা যায় না। আমি নিজে নায়িকা থাকতে চাইলেই তো হবে না। দর্শক যত দিন চাইবেন, তত দিনই কেবল নিজেকে নায়িকা হিসেবে দেখতে চাই। আমি নিজেও দেখেছি, দর্শক আমাকে এখনো নায়িকা হিসেবেই দেখতে চাইছেন।
অনেকেরই মতে, আপনি এখন আর নায়িকা চরিত্রের জন্য পুরোপুরিভাবে ফিট নন...

আমি এটা বিশ্বাস করি না। তাহলে মা হওয়ার পর তো ঐশ্বরিয়া আর নায়িকা চরিত্রে কাজ করতে পারতেন না। আমি মনে করি, আমার যদি ফিটনেস এবং অভিনয়ের সেই যোগ্যতা থাকে, তাহলে অবশ্যই নায়িকা হিসেবে অভিনয় চালিয়ে যাওয়ায় কোনো সমস্যা দেখছি না।
ঢাকায় ফেরার পর নতুন কোনো ছবিতে অভিনয়ের ব্যাপারে কারও সঙ্গে আলাপ হয়েছে?
কয়েকজন নির্মাতা তাঁদের নতুন ছবিতে অভিনয়ের জন্য এরই মধ্যে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আমি নিজেও ছবিতে কাজ করার জন্য পুরোপুরিভাবে প্রস্তুত। তা ছাড়া অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আগে আমার তিনটি ছবির কাজ অসমাপ্ত ছিল। সেগুলোর কাজ আগে শুরু করার কথা ভাবছি।
কবে নাগাদ ফিরতে পারেন?
সঠিকভাবে সময়টা বলা মুশকিল। অনেক দিন পর দেশে ফেরায় পারিবারিক কিছু কাজ নিয়ে আমি ভীষণভাবে ব্যস্ত। ইচ্ছে আছে শীতের মধ্যে শুটিং শুরুর।
পেছনের কয়েক বছরের দিকে তাকালে দেখা যাবে, শাবনূরের বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া আসা-যাওয়াটা অনেকটাই নিয়মিত হয়ে গেছে। এর কী কারণ?
আমার ভাইবোনেরা অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করেছে। তারা ওই দেশের নাগরিকত্ব পেয়েছে। আমার পরিবারের অন্য সদস্যরাও এরই মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব পেয়েছে। পরিবারের সদস্যদের কারণেই বছরের তিনটা মাস অস্ট্রেলিয়ায় থাকতে হয়। কয়েক বছর ধরেই গ্রীষ্মের ছুটির সময়টাতে আমি কোনো শুটিংয়ের শিডিউল রাখি না। ওই সময়টাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে থাকি। আর এটা সবাই জানেন।
সেখানে কি থিতু হওয়ার কথা ভাবছেন?
পৃথিবীর অনেক দেশেই ঘুরেছি আমি, কিন্তু বাংলাদেশের মতো এত শান্তি কোথাও পাইনি। আমি এ দেশেরই নাগরিক। এই দেশ আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। দেশের মানুষের ভালোবাসার জন্যই আজকে আমি শাবনূর। তাই অস্ট্রেলিয়ায় থিতু হওয়ার ব্যাপারে আমার নিজের কোনো ইচ্ছা নেই।
হুট করে আবারও অস্ট্রেলিয়া চলে যাবেন না তো?
আমি বাংলাদেশের মানুষের কারণে শাবনুর হয়েছি। বাংলাদেশ ছেড়ে কোথাও যাওয়ার কোনো ইচ্ছে নেই। আর এবার আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার কোনো ভাবনা-চিন্তাই নেই। তবে ছেলে আইজানের কারণে হয়তো যেতে হতে পারে। আর তা কিন্তু সীমিত সময়ের জন্য।
অনেক নির্মাতারই অভিযোগ যে আপনি ঠিকঠাক শিডিউল না মেনে অস্ট্রেলিয়া আসা-যাওয়া করায় ছবির শুটিং তাঁরা সময়মতো শেষ করতে পারেন না ...
আমি বারবারই বলেছি, আমার অস্ট্রেলিয়া যাওয়া-আসার ব্যাপারটি পরিচালক থেকে শুরু করে চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট সবাই জানেন। এখন যদি কোনো ছবির শিডিউল দেওয়ার পর সেই পরিচালক তাঁর জন্য নির্ধারিত সময়ে ছবির শুটিং শেষ করতে না পারেন, তাহলে তার দায়ভার শিল্পী হিসেবে আমি কেন নিতে যাব! এ ক্ষেত্রে পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে নির্মাতা ও প্রযোজকের ওপর। সঠিক সময়ে ছবির শুটিং শেষ করতে না পারার জন্য শিল্পীরা কোনোভাবে দায়ী নন বলেই আমি মনে করি।
আপনি বলছিলেন, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র আপনাকে অনেক কিছুই দিয়েছে। আপনি সেই চলচ্চিত্রের জন্য কি কিছু ভাবছেন?
আমি যখন কাজ শুরু করি, তখনো ভাবিনি কোনোদিন শাবনূর হব। মন দিয়ে কাজ করে গেছি। আর তাই আমি কখনো মনে করি না ভেবেচিন্তে কিছু করা যায়। চলচ্চিত্র নিয়ে অনেক কিছুই করার ইচ্ছা আছে। আমি চলচ্চিত্রে নির্মাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার স্বপ্ন দেখি। চলচ্চিত্রনির্মাতা হিসেবে যা করা যায়, তা করে যাব।
বাংলা চলচ্চিত্রের অভিনয়শিল্পী হিসেবে আপনাকে নিয়ে প্রায়ই কোনো না কোনো গুজব রটে? এটা কেন? আপনি বুঝি গুজব উপভোগ করেন?
গুজব মাঝেমধ্যে কিন্তু অনেক ভালো। আর আমি নিজেও গুজব খুব উপভোগ করি। আমি তো এহতেশাম দাদুর হাত ধরে চলচ্চিত্রে এসেছিলাম। শুরুর দিকেও নানা ধরনের গুজব আমাকে নিয়ে হতো। এখনো চলছে। বলতে পারেন, গুজব আমার পিছু ছাড়েনি। প্রথম দিকে এসব গুজব আমাকে বেশ ভাবাত। পরে আমি বিষয়গুলো নিয়ে এহতেশাম দাদুর সঙ্গে কথা বলতাম। তিনি আমাকে বলতেন, “তোমাকে নিয়ে সবাই ভাবে, তাই গুজব উঠছে। আর যেদিন তোমার কোনো অবস্থান থাকবে না, সেদিন তোমাকে নিয়ে কেউ কোনো গুজব ছডাবে না।” তবে আমাকে নিয়ে এখনো যখন নানা গুজব হয়, তখন মনে হয় আমি এখনো ফুরিয়ে যাইনি।
অভিনয়ের জন্য সিনেমায় মায়ের চরিত্রে অভিনয় করতে হয়েছে। এখন আপনি সত্যি সত্যিই একজন মা । সন্তানকে নিয়ে সময়টা কেমন উপভোগ করছেন?
এটা আসলে একেবারেই অন্য রকম অনুভূতি, যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। মা হওয়ার আগ পর্যন্ত এই অনূভুতি কেমন তা বুঝিনি। একেবারেই অন্য রকম জীবন।
আপনার বিয়ে নিয়ে বারবার লুকোচুরির আশ্রয় নিয়েছেন বলে একটা অভিযোগ রয়েছে। এটা আসলে কেন করতেন?
বিয়ে নিয়ে আমি কখনোই পরিষ্কারভাবে কিছুই বলিনি। যখন বিয়েই করিনি তখন থেকে আমাকে অনেকের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিয়ে নিয়ে শুধু এটুকুই বলেছিলাম, যখন হবে তখন বলব। আমি ভেবেছিলাম আমার বিয়ের ব্যাপারটি বড় করে যখন কোনো অনুষ্ঠান করব তখনই জানাব। আসলে বিয়ে তো এমনিতেও করতে হবে, ওমনিতেও করতে হবে, তাই কিছুটা চুপিসারেই তা করে ফেললাম আর কি...।