'গ্যালিলিও' আবার মঞ্চে আসছে: আসাদুজ্জামান নূর

আসাদুজ্জামান নূর
আসাদুজ্জামান নূর

৩০ বছর আগে ঢাকায় মঞ্চস্থ হয় নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের গ্যালিলিও নাটকটি। বার্টল্ট ব্রেখটের ‘দ্য লাইফ অব গ্যালিলিও গ্যালিলি’ অবলম্বনে গ্যালিলিও নাটকটির অনুবাদ করেন অধ্যাপক আবদুস সেলিম। ১৯৯৮ সালে নাটকটির প্রদর্শনী বন্ধ হয়ে যায়। ২০ বছর পর নাটকটি আবার মঞ্চে আসছে। নতুন করে নির্দেশনা দিচ্ছেন পান্থ শাহরিয়ার। আজ সন্ধ্যা সাতটায় রাজধানীর বেইলি রোডের মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে নাটকটির উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হবে। নাটকে তিনটি চরিত্রে (পোপ, অধ্যক্ষ ও বিচারপতি) অভিনয় করবেন আসাদুজ্জামান নূর। দীর্ঘদিন পর আজ ঢাকার মঞ্চে দেখা যাবে তাঁকে। ‘গ্যালিলিও’ সূত্রে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বললেন তিনি।

কত বছর পর আপনাকে মঞ্চনাটকে দেখা যাবে?
শেষ কবে পুরোপুরি মঞ্চে উঠেছি, ঠিক মনে পড়ছে না। ২০ বছরের মতো হবে।

‘গ্যালিলিও’র ফিরে আসা কীভাবে হলো?
এটা পুরোপুরি আলী যাকেরের কৃতিত্ব। তাঁর অনুপ্রেরণায় গ্যালিলিও আবার মঞ্চে আসছে। মাঝে তিনি বেশ কিছুদিন গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। কিন্তু পুরোদমে যুদ্ধ করে আবার ফিরে এসেছেন তিনি। নতুন করে মঞ্চে ফিরে আসার ইচ্ছা তাঁরই বেশি ছিল। বরাবরের মতো এবারও নাটকটির গ্যালিলিও চরিত্রে অভিনয় করবেন তিনি।

এবার তো নতুন নির্দেশক। পুরোনো ‘গ্যালিলিও’র সঙ্গে এর তফাত কী?
খুব একটা যে তফাত আছে, তা নয়। মূল নির্যাসটা থাকছেই। যেহেতু আমরা নাটকটি আগে করে ফেলেছি, আমাদের মধ্যে বিষয়টি গেঁথে গেছে। তবে একটু পরিবর্তন তো আছেই। নতুন নির্দেশকের কারণে সমকালীন স্বাদটা মিলবে। এ ছাড়া নাটকটির দৈর্ঘ্য আড়াই ঘণ্টা থেকে দেড় ঘণ্টা করা হচ্ছে। পুরোনোদের মধ্যে থাকছেন কাউসার চৌধুরী, আবদুর রশিদ ও ফারুক আহমেদ। বেশ কিছু চরিত্রে দলের অনেক নবীন সদস্য অভিনয় করবেন।

আপনার নিজের প্রস্তুতি কেমন?
দাপ্তরিক ব্যস্ততার পাশাপাশি বেশ কিছুদিন মহড়ায় সময় দিয়েছি। সংলাপগুলোর মধ্যে কিছু মাথায় ছিল। তারপরও পাণ্ডুলিপি বাসায় নিয়ে সময় করে আবার মুখস্থ করেছি। আমার মা শিক্ষকতা করতেন। নাটকের পাণ্ডুলিপি পড়া দেখে তিনি প্রায়ই বলতেন, ‘তুই যদি নাটক পড়ার মতো ক্লাসের বইগুলো এত সিরিয়াসলি পড়তি, খুব ভালো করতি।’

মঞ্চের কোনো চরিত্রের ব্যাপারে আপনার আক্ষেপ বা আগ্রহ আছে?
যেকোনো ধরনের বহুমাত্রিক চরিত্র এখনো আমাকে ভীষণভাবে টানে। তবে মঞ্চে আমি যখন যেটা করেছি, খুব সিরিয়াসলি করেছি। ছোট-বড়, ভালো-মন্দ—সব চরিত্রের বেলায় আন্তরিক ছিলাম। এ ক্ষেত্রে নির্দেশককে সর্বেসর্বা মেনেই করেছি। নির্দেশক আমাকে যে চরিত্রের জন্য জুতসই মনে করেছেন, আমি তা মন উজাড় করে করতে চেয়েছি। তাই কোনো বিশেষ চরিত্রের প্রতি আমার আলাদা কোনো আক্ষেপ বা আগ্রহ তৈরি হয়নি। তবে হ্যাঁ, একটি নাটক এবং নাটকের চরিত্র আমি খুব মিস করি—কোপিনিকের ক্যাপ্টেন। আসলে অভিনয়ের তৃষ্ণা এখনো রয়ে গেছে।