default-image

৯৩তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডে এবার সেরা প্রামাণ্যচিত্র হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার ‘মাই অক্টোপাস টিচার’। ছবিটিতে তুলে ধরা হয়েছে সমুদ্রের তলদেশে অক্টোপাসের বৈচিত্র্যময় জীবন। এর আগে ছবিটি নানা চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত, মনোনীত ও প্রদর্শিত হয়েছে। বিশেষ করে বাফটায় জিতেছে সেরা প্রামাণ্যচিত্রের পুরস্কার। মানবিক এক গল্পের আখ্যানভিত্তিক এ তথ্যচিত্র যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন পিপ্পা এরলিক ও জেমস রিড।

মানুষের সঙ্গে বিভিন্ন প্রাণীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠার গল্প নতুন নয়। কিন্তু অক্টোপাসের সঙ্গে বন্ধুত্ব হওয়া এবং তাদের জীবনকে পর্দায় তুলে আনাকে দুঃসাহসী উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে অস্কার কর্তৃপক্ষ। প্রতিকূল আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন প্রযোজককে ছুটতে হয়েছে সমুদ্রের গহিনে। প্রামাণ্যচিত্রের প্রযোজক ক্রেইগ ফস্টার মানসিক শান্তি খুঁজতে কেপটাউন থেকে অনেক দূরে শৈশবের এলাকা ফলস বেতে সময় কাটাতে যান। তখন থেকেই তিনি সমুদ্রের তলদেশে নিয়মিত আসা-যাওয়া করতেন। সমুদ্রের তলদেশে ঘোরাঘুরি করতে গিয়ে তার নজর কাড়ে একটি অক্টোপাস। ওকে প্রতিদিন অনুসরণ করতে থাকেন ক্রেইগ। প্রাণীটি সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক সব তথ্য জোগাড় করেন। প্রাণীটিকে কীভাবে বশ করা যায়, সেগুলো খুঁটিনাটি জেনেছেন। প্রায় এক বছর প্রচেষ্টার পর তিনি সফল হন। অবশেষে অক্টোপাসের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।

বিজ্ঞাপন
default-image

অক্টোপাসরা কীভাবে খায়, ঘুমায়, বেঁচে থাকার সংগ্রাম করে; সেগুলো খুব কাছ থেকে দেখতে থাকেন ক্রেইগ। তিনি নিজেই কৌশলে খুব কাছ থেকে চালিয়েছেন ক্যামেরা। ভিন্ন জগতের এই দুই প্রাণীর সম্পর্ক এতটাই গভীরে যায় যে তারা পরস্পর নিজেদের অনুভূতি বুঝতে শুরু করে। একবার ভুল করে বসেন ক্রেইগ। ভিডিও রেকর্ডিং করা সময় তার ক্যামেরার একটি লেন্স পড়ে যায়। এতেই ভয় পেয়ে স্থান পরিবর্তন অক্টোপাসটি। আবার তাকে হন্য হয়ে খুঁজে থাকেন ক্রেইগ। দীর্ঘ চেষ্টায় আবার প্রাণীটিকে খুঁজে পাওয়া যায়। আবার তিনি নিয়মিত অক্টোপাসকে সঙ্গ দেন এবং ওর কাছ থেকে নানা কিছু শেখেন। এগুলো ক্রেইগের জীবনকে আমূল পরিবর্তন এনে দেয়। এক সময় তিনি ছেলেকে নিয়েও অক্টোপাসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। আর এসব ঘটনা ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে সবমিলিয়ে আট বছর ধরে। জমা হয়েছে তিন হাজার ঘণ্টার ফুটেজ। এর মধ্যেই ৮৫ মিনিটের ফুটেজ দিয়ে বানানো প্রামাণ্যচিত্রটি দর্শকের মন কেড়ে নেয়।

default-image

ক্রেইগ তথ্যচিত্রটি নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে এই অবিশ্বাস্য প্রাণীটি দেখার সুযোগ পেয়েছি। ও পুরোপুরি আমার ওপর আস্থা রেখেছিল। কারণ, আমি ওদের জগতের বাসিন্দা হয়ে গিয়েছিলাম। আমাকেও ওদের মতোই একজন মনে করত। প্রথম দিকে সে আমাকে ভয়ংকর মনে করলেও পরে আমরা একদম বন্ধু হয়ে যাই।’
ক্রেইগ আরও বলেন, ‘আমাদের সম্পর্কটা এতটাই গভীর হয়েছিল যে ওর অনুভূতিগুলো আমি বুঝতে পারতাম। ওরা কীভাবে শিকার করে, খায়, জীবন ধারণ করে, বেড়ে ওঠে—সবকিছু কাছ থেকে দেখেছি। বুঝতে পেরেছি, অক্টোপাসেরও ব্যক্তিত্ব রয়েছে। ওরা অনেক সাহসী। এমনকি ওদের মধ্যে লজ্জা–শরমের মতো ব্যাপারগুলোও কাজ করে। ওরা বন্ধুত্বের মর্যাদা বোঝে, যা আমাদের অনেক মানুষের মধ্যেই নেই।’

নেটফ্লিক্সে দেখা যাচ্ছে ছবিটি। অক্টোপাসের সঙ্গে বন্ধুত্বের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিও উঠে এসেছে সিনেমাটিতে। পানির ওপরে কিংবা তলে—সব জায়গায়ই যে প্রাকৃতিক ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ, সেটিও উঠে এসেছে ‘মাই অক্টোপাস টিচার’ প্রামাণ্যচিত্রে।

default-image
বিজ্ঞাপন
হলিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন