default-image

এটি কোন গান, তা বলে দেওয়ার নিশ্চয়ই দরকার নেই। বাঙালিমাত্রই প্রবাদপ্রতীম সংগীতশিল্পী ভূপেন হাজারিকার গাওয়া এই গানের সঙ্গে পরিচিত। এ গানের একটি পঙ্‌ক্তির সঙ্গে প্রায় মিলে যায় হালের আলোচিত ছবি নোম্যাডল্যান্ড–এর মূল সুর। পংক্তিটি হলো, ‘…পৃথিবী আমাকে আপন করেছে, ভুলেছি নিজের ঘর…’।

‘নোম্যাডল্যান্ড’ ছবিতে দেখা যায় এক শহুরে যাযাবরের জীবন। গাড়িটিই তাঁর ঘর। বিছানা থাকে গাড়ির পেছনে, হাত–পা ছড়িয়ে আরামের ঘুম সেখানে হয়তো হয় না। কিন্তু ওই বিছানা ছাড়া ঘুমও আসে না চোখে। কারণ, এ জীবন যে যাযাবরের। প্রচণ্ড শীতে উষ্ণতা ছড়ায় না ফায়ারপ্লেস, বরং গায়ে চাপাতে হয় দুই–তিন পরতের মোটা কম্বল। তবু এই জীবনই শ্রেয়।

বিজ্ঞাপন

শহুরে এই যাযাবরের ভূমিকায় ছিলেন অভিনেত্রী ফ্রান্সিস ম্যাকডোরমান্ড। যাযাবরের চরিত্রে একেবারে নিখুঁতভাবে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন তিনি। গত শতাব্দীর ‘ফারগো’ ছবির কথা মাথায় রাখলে স্বীকার করতেই হবে যে, এটি ফ্রান্সিসের সহজাত প্রতিভা। ১৯৯৬ সালে মুক্তি পাওয়া সেই ছবিতে অভিনয় করেই পরের বছরের অস্কার আসর মাতিয়েছিলেন তিনি, পেয়েছিলেন সেরা অভিনেত্রীর ট্রফি। এবারও সেই পথেই হাঁটছেন মার্কিন এই অভিনেত্রী।

default-image

‘নোম্যাডল্যান্ড’ ছবির পরিচালক অপেক্ষাকৃত নবীন ক্লোয়ি ঝাও। পরিচালক হিসেবে এটি তাঁর তৃতীয় চলচ্চিত্র। চীনা এই পরিচালক এর আগেও নিজের কাজ দিয়ে প্রশংসিত হয়েছেন। আর এবার তো একেবারে বাজিমাত। বিভিন্ন পুরস্কারের আসরে এরই মধ্যে স্বীকৃতি পেয়ে গেছে তাঁর কাজ। স্বীকৃত হচ্ছে তাঁর লেখা ‘নোম্যাডল্যান্ড’–এর চিত্রনাট্যও। যেখানে অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে প্রান্তিক মার্কিনিদের যাযাবর হতে বাধ্য হওয়ার মর্মন্তুদ চিত্র ফুটে উঠেছে। যাযাবর হওয়ার মানসিক চাপ কেমন, সেটিও বোঝা যায় মূল চরিত্র ফার্নের (ফ্রান্সিস ম্যাকডোরমান্ড) সংলাপে। যখন কারও কাছে তাঁর ‘হোমলেস’ হওয়ার বিষয়টি শুনতে হয়, তখন ফার্ন বলে ওঠে, সে ‘হাউসলেস’। পাকাপাকি থাকার জায়গা ‘হোম’ আর শুধুই ইট–কাঠের অস্থায়ী ‘হাউস’ তো এক নয়!

ছবিতে যাযাবর ফার্ন সদ্যই হারিয়েছেন জীবনসঙ্গীকে। একেক স্থানে একেক কাজ করে চলে তাঁর জীবিকা নির্বাহ। কখনো কাজ মেলে, কখনো আবার তিক্ত ভাষায় পত্রপাঠ বিদায়। এর মধ্যেই ভালো লাগা থাকে, তৈরি হয় অন্য কারও সঙ্গে বোঝাপড়া। কিন্তু দিনশেষে ঘুম যে আসে শুধু গাড়িতে থাকা ওই ছোট্ট বিছানাতেই। তাই আবার ঘর বাঁধা হয় না ফার্নের। ঘরের সঙ্গে যে আর বনছে না তাঁর! রাস্তাই তাই হয়ে ওঠে একমাত্র ঠিকানা।

default-image

নানা মঞ্চে এরই মধ্যে দুই শর বেশি পুরস্কার পেয়েছে ‘নোম্যাডল্যান্ড’। আসছে অস্কারেও সেরা ছবি, সেরা অভিনেত্রী, সেরা পরিচালকসহ পেয়েছে ছয়টি বিভাগে মনোনয়ন। দুটি অস্কার জেতা ফ্রান্সিস ম্যাকডোরমান্ডের সামনে আছে অভিনয়ে তৃতীয় সোনালি ট্রফি জেতার সুবর্ণ সুযোগ। আবার এ ছবির অন্যতম প্রযোজকও তিনি। আর ক্লোয়ি ঝাও পেয়ে যেতে পারেন হলিউডে আসন পাকা করে ফেলার সুযোগ।

গোল্ডেন গ্লোবে দুই ও বাফটায় চার বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে এই ছবি। এবার দেখার পালা একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে কী হয়। চলচ্চিত্র বিশারদদের পক্ষপাত যদিও যাযাবরের প্রতিই।

বিজ্ঞাপন
হলিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন