‘শেমলেস’–এ নগ্ন দৃশ্যে অভিনয়ের প্রভাব পড়েছিল এই অভিনেত্রীর ব্যক্তিজীবনেও
‘শেমলেস’ সিরিজে ফিওনা চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিলেন এমি রসম। ৯ মৌসুমের এই সিরিজে চরিত্রটির জীবনের নানা জটিলতা, সম্পর্ক, যৌনতা ও পারিবারিক সংকটের পাশাপাশি পর্দায় একাধিক নগ্ন দৃশ্যেও দেখা গেছে অভিনেত্রীকে। সেই দৃশ্যগুলোর প্রভাব শুধু পর্দাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। এমির ব্যক্তিগত জীবনেও এর প্রভাব পড়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি মারিয়া শারাপোভার অনুষ্ঠান ‘প্রিটি টাফ’-এ অতিথি হয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলেন এমি। তাঁর ভাষ্য, সিরিজটিতে নগ্ন দৃশ্যে অভিনয়ের কারণে বাস্তব জীবনে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করতে গিয়ে বেশ অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। কারণ, যেসব পুরুষ তাঁর সঙ্গে ডেট করতেন, তাঁদের অনেকেরই তাঁর সম্পর্কে আগে থেকেই কিছু ‘ধারণা’ তৈরি হয়ে যেত।
এমি রসম বলেন, ‘সিরিজটিতে নগ্নতার কারণে বিষয়টি বেশ জটিল হয়ে উঠেছিল। যেসব পুরুষের সঙ্গে আমি বাইরে যেতাম, তাঁদের সবাই আমার সম্পর্কে একটা পূর্ব ধারণা তৈরি হয়ে যেত।’
রাজনীতিতে যেতে চাওয়া সেই পুরুষ
এমি এমন একটি অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন, যেটি তাঁর কাছে বেশ অদ্ভুত লেগেছিল। এক ব্যক্তি, যিনি ভবিষ্যতে রাজনীতিতে ক্যারিয়ার গড়তে চেয়েছিলেন, তাঁর সঙ্গে সম্পর্কের সম্ভাবনা নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন।
এমি রসমের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি তাঁকে বলেছিলেন, ‘আমি একদিন প্রেসিডেন্ট হতে চাই।’ এমি তখন তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রশংসা করেন। কিন্তু এরপরই ওই ব্যক্তি তাঁকে প্রশ্ন করেন, ‘তবে আমি যদি নির্বাচনে দাঁড়াই এবং এমন একজনের সঙ্গে সম্পর্কে থাকি, যিনি আপনার মতো করে পর্দায় হাজির হন, তাহলে কি বিষয়টি আমার জন্য জটিল হবে?’
এমির কাছে কথোপকথনটি ছিল অবিশ্বাস্য। তিনি মনে করেছিলেন, একজন সম্ভাব্য সঙ্গীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের আলোচনায় এমন বিষয় আসাটাই অস্বাভাবিক। বিশেষ করে অভিনীত চরিত্রের দৃশ্যকে একজন মানুষ কীভাবে তাঁর বাস্তব জীবনের যৌন পরিচয়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন, সেটিই তাঁকে বিস্মিত করেছিল।
মাত্র ২৪ বছর বয়সে ‘শেমলেস’
এমি রসম যখন ‘শেমলেস’-এ অভিনয় শুরু করেন, তখন তাঁর বয়স মাত্র ২৪ বছর। একজন তরুণ অভিনেত্রী হিসেবে তখন নিজের পরিচয় তৈরি করার সময় পার করছিলেন তিনি। একদিকে অভিনয়শিল্পী হিসেবে নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা, অন্যদিকে ব্যক্তিগত জীবন ও সম্পর্ক নিয়ে নিজের পছন্দ-অপছন্দ বোঝার সময়, সবকিছু একসঙ্গে চলছিল।
এমি বলেন, ‘আপনি তখন নিজেকে বোঝার চেষ্টা করছেন। একজন শিল্পী হিসেবে নিজের জায়গা তৈরি করছেন। একই সময়ে আপনাকে ঘিরে নানা ধরনের ধারণাও তৈরি হয়ে যাচ্ছে।’
এমি রসমের মতে, একজন অভিনেতার শরীর অনেক সময় তাঁর শিল্পের অংশ হয়ে ওঠে। কিন্তু দর্শক বা অন্যরা সেই বিষয়টি ভুলভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন। তিনি আরও বলেন, ‘আপনার শরীর আপনার শিল্পের অংশ, তাই না? আর মানুষ অনেক সময় সেটিকে ভুলভাবে বুঝতে পারে।’
এই ভুল–বোঝাবুঝিই এমির ব্যক্তিগত জীবনে প্রভাব ফেলেছিল বলে মনে করেন অভিনেত্রী। পর্দায় কোনো চরিত্রের প্রয়োজনে একজন অভিনেত্রী যে সিদ্ধান্ত নেন, সেটি তাঁর বাস্তব জীবনের যৌনতা, সম্পর্ক বা ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন নয়, এমন পার্থক্য অনেকেই করতে পারেননি বলে তাঁর অভিজ্ঞতা।
চরিত্র আর অভিনেত্রী—দুটিকে আলাদা করা কঠিন হয়েছিল
‘শেমলেস’-এ ফিওনা চরিত্রটি ছিল গল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে ফিওনাকে একদিকে ছোট ভাইবোনদের দায়িত্ব নিতে দেখা যায়। অন্যদিকে তাঁর নিজের সম্পর্ক, প্রেম, যৌনতা ও জীবনের নানা সিদ্ধান্তও গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। চরিত্রটির এই খোলামেলা উপস্থাপনাই সিরিজটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
কিন্তু চরিত্রটির সঙ্গে অভিনয়শিল্পী এমি রসমকে আলাদা করে দেখাটা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে নগ্ন দৃশ্যগুলোকে কেন্দ্র করে তাঁর বাস্তব ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে ধারণা তৈরি করতেন অনেকে।
এমির কথায়, বিষয়টি শুধু অপরিচিত দর্শকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; যাঁরা তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সম্পর্ক গড়তে চাইতেন, তাঁদের মধ্যেও এই ধারণার প্রভাব ছিল। ফলে একজন অভিনেত্রী হিসেবে পর্দায় নিজের শরীরকে শিল্পের অংশ হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্তের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের বাস্তবতাকে সামলাতে হয়েছে তাঁকে।
অভিনয়ের শুরু ‘শেমলেস’-এর অনেক আগে
‘শেমলেস’-এর আগে থেকেই হলিউডে পরিচিত ছিলেন এমি রসম। ‘দ্য ডে আফটার টুমরো’, ‘মিস্টিক রিভার’ ও ‘দ্য ফ্যান্টম অব দ্য অপেরা’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি।
বিশেষ করে ‘দ্য ফ্যান্টম অব দ্য অপেরা’ এমিকে বড় পরিচিতি এনে দেয়। ছবিতে অভিনয়ের জন্য গোল্ডেন গ্লোবের মনোনয়নও পেয়েছিলেন তিনি।
তবে ‘শেমলেস’-এর ফিওনা চরিত্র এমিকে বিশ্বজুড়ে নতুন করে পরিচিত করে। প্রায় এক দশক ধরে চলা সিরিজটির ৯টি মৌসুমে তাঁর অভিনয় দর্শকের কাছে চরিত্রটিকে বিশেষভাবে জনপ্রিয় করে তোলে।
ভ্যারাইটি অবলম্বনে