‘টয় স্টোরি’, যে সিনেমা বদলে দিয়েছিল স্টিভ জবসের ভাগ্য
স্টিভ জবসের নাম শুনলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে অ্যাপল, আইফোন, ম্যাক বা আইপ্যাডের মতো প্রযুক্তিপণ্য। কিন্তু তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যগুলোর একটি আসলে কম্পিউটার বা স্মার্টফোনের জগতে নয়—ছিল সিনেমায়! সদ্যই ওটিটিতে এসেছে ‘টয় স্টোরি’ ফ্র্যাঞ্চাইজির পঞ্চম কিস্তি। চলতি বছরের অন্যতম আলোচিত সিনেমাটি দেখা যাচ্ছে ঘরে বসেই। কিন্তু জানেন কি ‘টয় স্টোরি’র স্টিভ জবসের যোগাযোগের খবর?
১৯৮৫ সালে অ্যাপল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরও প্রযুক্তি নিয়ে কাজ থামাননি জবস। ১৯৮৬ সালে তিনি জর্জ লুকাসের লুকাসফিল্মের কম্পিউটার গ্রাফিকস বিভাগ কিনে সেটিকে স্বাধীন কোম্পানি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন—নাম দেন পিক্সার। কম্পিউটার গ্রাফিকসের সম্ভাবনার প্রতি তাঁর আগ্রহই তাঁকে এই প্রতিষ্ঠান কিনতে উৎসাহিত করেছিল। তাঁর ধারণা ছিল, উন্নত গ্রাফিকস প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ব্যবসা তৈরি করা সম্ভব। তখন কেউই জানত না, এই ছোট্ট প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানই একদিন চলচ্চিত্রের ইতিহাস বদলে দেবে। কয়েক বছর পর সেই পিক্সারই তৈরি করবে ‘টয় স্টোরি’, যে সিনেমার সাফল্য বদলে দেবে জবসের আর্থিক ভাগ্য এবং তাঁর অ্যাপল–পরবর্তী ক্যারিয়ারের গতিপথ।
সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, জবস নিজে কোনো অ্যানিমেটর ছিলেন না। তিনি সিনেমাটি পরিচালনা করেননি, উডি বা বাজ লাইটইয়ারের নকশাও করেননি। তবু পিক্সারকে টিকিয়ে রাখা, এর সৃজনশীল প্রতিভাদের ওপর আস্থা রাখা এবং ‘টয় স্টোরি’কে বড় পর্দায় পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিজের তৈরি অ্যাপল থেকেই বিদায়
১৯৮৫ সাল। মাত্র এক বছর আগে অ্যাপল ম্যাকিন্টোশ বাজারে এনে কম্পিউটার–দুনিয়ায় আলোড়ন তুলেছেন স্টিভ জবস। কিন্তু এর মধ্যেই অ্যাপলের ভেতরে ক্ষমতার লড়াই তীব্র হয়ে ওঠে। জন স্কালি, যাঁকে জবস নিজেই পেপসিকো থেকে এনে অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা করেছিলেন, তাঁর সঙ্গে জবসের মতবিরোধ ক্রমেই বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত অ্যাপলের পরিচালনা পর্ষদ স্কালির পক্ষ নেয় এবং জবস নিজের তৈরি কোম্পানি থেকেই সরে যেতে বাধ্য হন। পরে ২০০৫ সালে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন বক্তৃতায় সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে জবস বলেন, মাত্র ৩০ বছর বয়সেই তিনি অ্যাপল থেকে বেরিয়ে যান।
ঘটনাটি স্টিভ জবসের জন্য ছিল ভয়াবহ ধাক্কা। স্ট্যানফোর্ডের সেই বক্তৃতাতেই তিনি জানান, অ্যাপল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর কয়েক মাস তিনি বুঝতে পারছিলেন না কী করবেন; এমনকি সিলিকন ভ্যালি ছেড়ে চলে যাওয়ার কথাও ভেবেছিলেন। কিন্তু পরে তিনি উপলব্ধি করেন, এ ধাক্কাটিই তাঁর জীবনের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাঁর ভাষায়, অ্যাপল থেকে বহিষ্কৃত হওয়াটাই ছিল তাঁর জীবনে ঘটে যাওয়া ‘বেস্ট থিং’। এবার তিনি আবার শূন্য থেকে শুরু করার স্বাধীনতা পেলেন। এরপর তিনি নেক্সট নামের একটি নতুন প্রযুক্তি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮৬ সালে এমন এক প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের দিকে ঝোঁকেন, যা পরবর্তী সময় বদলে দেয় সিনেমার ইতিহাস।
জর্জ লুকাসের কাছ থেকে কেনা পিক্সার
১৯৮৬ সালে স্টিভ জবস জর্জ লুকাসের লুকাসফিল্মের কম্পিউটার গ্রাফিকস বিভাগ কিনে নেন। পরে সেটিকে স্বাধীন কোম্পানি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন—নাম দেন পিক্সার। তখন সেখানে ছিল প্রায় ৪০ কর্মী। এই বিভাগে এড ক্যাটমুল, অ্যালভি রে স্মিথ ও জন ল্যাসেটারের মতো প্রতিভাবান মানুষ কম্পিউটার গ্রাফিকস ও অ্যানিমেশনের ভবিষ্যৎ নিয়ে কাজ করছিলেন। তাঁরা ইতিমধ্যেই ‘স্টার ট্রেক ২: দ্য রাথ অব খান’–এর বিখ্যাত ‘জেনেসিস ইফেক্ট’ দৃশ্যসহ চলচ্চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ কম্পিউটার গ্রাফিকস তৈরিতে ভূমিকা রেখেছিলেন।
কিন্তু পিক্সারের শুরুটা সিনেমার স্টুডিও হিসেবে হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির মূল ব্যবসা ছিল উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গ্রাফিকস কম্পিউটার ও সফটওয়্যার তৈরি করা। তাদের অন্যতম প্রধান পণ্য ছিল পিক্সার ইমেজ কম্পিউটার, যার মাধ্যমে চিকিৎসা, বিজ্ঞান ও অন্যান্য পেশাগত ক্ষেত্রে উন্নত ভিজ্যুয়ালাইজেশন করার লক্ষ্য ছিল। সমস্যা ছিল, এই ব্যবসা প্রত্যাশামতো চলছিল না। অর্থাৎ অ্যাপল হারানোর পর জবস এবার এমন একটি প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের মালিক হলেন, যার ভবিষ্যৎ তখনো অনিশ্চিত।
পিক্সার তখনো ছিল অনিশ্চিত এক বাজি
পিক্সারের প্রযুক্তি ব্যবসা যখন লড়াই করছে, তখন কোম্পানির ভেতরে অন্য একটি সম্ভাবনা ধীরে ধীরে বড় হচ্ছিল। জন ল্যাসেটার কম্পিউটার অ্যানিমেশন নিয়ে পরীক্ষা করছিলেন। ১৯৮৬ সালের লাক্সো জুনিয়র সেই পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ফল। ছোট্ট ডেস্ক ল্যাম্পের দুই চরিত্রকে কেন্দ্র করে তৈরি এই অ্যানিমেশন দেখিয়ে দেয়, কম্পিউটার দিয়ে শুধু গ্রাফিকস তৈরি নয়, চরিত্র ও আবেগ ফুটিয়ে তোলা সম্ভব।
এই কাজ স্টিভ জবসকে পিক্সারের অ্যানিমেশন সম্ভাবনা সম্পর্কে আরও বিশ্বাসী করে তোলে। এরপর পিক্সার বিজ্ঞাপন, ছোট অ্যানিমেশন ও কম্পিউটার গ্রাফিকসের কাজ করতে থাকে। ১৯৮৮ সালে টিন টয় একাডেমি অ্যাওয়ার্ড জিতে ইতিহাস তৈরি করে। এটি ছিল প্রথম কম্পিউটার অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র হিসেবে অস্কার জয়ের ঘটনা। কিন্তু পুরস্কার পেলেও পিক্সারের ব্যবসায়িক সংকট কাটেনি।
পিক্সারের তৎকালীন প্রধান অর্থ কর্মকর্তা লরেন্স লেভির বর্ণনা অনুযায়ী, স্টিভ জবস কোম্পানিতে প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে এর নগদ অর্থের ঘাটতি সামলান। অর্থাৎ পিক্সার তখন এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যার পেছনে জবসের বিপুল অর্থ যাচ্ছে, কিন্তু বড় ধরনের আর্থিক সাফল্য এখনো আসেনি। তবু তিনি কোম্পানিটি বন্ধ করেননি। কারণ, ল্যাসেটার ও তাঁর দলের সামনে তখন আরও বড় একটি স্বপ্ন—কম্পিউটার দিয়ে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা তৈরি করা।
জবসের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি
১৯৯০–এর দশকের শুরুতে সেই স্বপ্নই ‘টয় স্টোরি’–এ রূপ নিতে শুরু করে। তখনকার তুলনায় কম্পিউটার অ্যানিমেশনের প্রযুক্তি ছিল অনেক বেশি সীমিত, ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। একটি সিনেমার প্রতিটি চরিত্র, সেট, খেলনা, আলোছায়া ও ক্যামেরার গতিবিধি কম্পিউটারের মাধ্যমে তৈরি করতে হতো।
এটি ছিল পিক্সারের জন্য বিশাল ঝুঁকি। সফল হলে প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ নতুন একটি শিল্পের দরজা খুলতে পারবে; তবে ব্যর্থ হলে স্টিভ জবস হারাবেন তাঁর এত দিনের বিশাল বিনিয়োগ। জন ল্যাসেটার ছিলেন ছবিটির পরিচালক ও প্রধান সৃজনশীল শক্তি, আর এড ক্যাটমুল ছিলেন এর প্রযুক্তিগত ভিত্তি তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। জবসের কাজ ছিল তাঁদের সেই ঝুঁকি নেওয়ার মতো অর্থ, সময় ও স্বাধীনতা দেওয়া।
তবে পিক্সারের কাছে প্রযুক্তি থাকলেও একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমাকে বড় পর্দায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য দরকার ছিল বড় কোনো স্টুডিও। সেই জায়গায় আসে ডিজনি। ১৯৯১ সালের মে মাসে পিক্সার ও ডিজনি একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র চুক্তি করে, যার অধীনে সর্বোচ্চ তিনটি অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র তৈরির পরিকল্পনা হয়। সেই চুক্তির প্রথম সিনেমাই ছিল ‘টয় স্টোরি’।
‘টয় স্টোরি’: অনিশ্চয়তা থেকে অভাবনীয় সাফল্য
চুক্তি হয়ে গেলেও ‘টয় স্টোরি’র কাজ সহজ ছিল না। ছবিটির প্রথম দিকের দৃশ্য ডিজনির প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি; গল্পের আবহ ও চরিত্রগুলোর আচরণ নিয়েও সমস্যা দেখা দেয়। একপর্যায়ে ডিজনি পিক্সারকে ছবিটির গল্প ও চরিত্রগুলো নতুন করে সাজানোর জন্য কাজ থামিয়ে দিতে বলে। পুনর্লিখন ও পুনর্গঠনের পর উডি ও বাজ লাইটইয়ারের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে—একজনের নিজের জায়গা হারানোর ভয় এবং অন্যজনের নিজেকে সত্যিকারের মহাকাশযোদ্ধা মনে করার ভুল ধারণা থেকেই তৈরি হয় দ্বন্দ্ব, যা শেষ পর্যন্ত বন্ধুত্বে রূপ নেয়। আজ যে সিনেমাকে অ্যানিমেশনের ক্ল্যাসিক ছবি বলা হয়, সেটি তখনো ছিল একটি বিশাল ঝুঁকি।
এরপর আসে ২২ নভেম্বর ১৯৯৫। মুক্তি পেল ‘টয় স্টোরি’। টম হ্যাঙ্কসের কণ্ঠে উডি ও টিম অ্যালেনের কণ্ঠে বাজ লাইটইয়ারকে ঘিরে ছবিটি দর্শকদের সামনে এমন এক অভিজ্ঞতা নিয়ে আসে, যেখানে সম্পূর্ণ কম্পিউটার–নির্মিত চরিত্রও মানুষের মতো ভয়, ঈর্ষা, আবেগ ও বন্ধুত্ব প্রকাশ করতে পারে। ‘টয় স্টোরি’ ছিল বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণ কম্পিউটার অ্যানিমেটেড পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। ছবিটি তিনটি অস্কার মনোনয়ন পায় এবং জন ল্যাসেটার পান বিশেষ সম্মাননা। অর্থাৎ যে প্রযুক্তিকে নিছক প্রদর্শনী মনে হওয়ার আশঙ্কা ছিল, সেটিই শেষ পর্যন্ত গল্প বলার নতুন মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলারের নির্মাণ বাজেট নিয়ে তৈরি ‘টয় স্টোরি’ বিশ্বব্যাপী ৩৬৫ মিলিয়নের বেশি ডলার আয় করে। ১৯৯৫ সালের সবচেয়ে বেশি আয় করা সিনেমায় পরিণত হয় ‘টয় স্টোরি’। পিক্সারের যে কোম্পানিকে জবস বছরের পর বছর নিজের অর্থ দিয়ে টিকিয়ে রেখেছিলেন, সেই কোম্পানির প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমাই হয়ে গেল ব্লকবাস্টার। এবার পিক্সারের এই সাফল্য সরাসরি বদলে দিতে শুরু করল জবসের আর্থিক ভাগ্য।
‘টয় স্টোরি’র পর জবসের ভাগ্যবদল
‘টয় স্টোরি’ মুক্তির মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই পিক্সার শেয়ারবাজারে প্রবেশ করে। ২৯ নভেম্বর ১৯৯৫ পিক্সার প্রাথমিক আইপিও শেয়ারপ্রতি ২২ ডলার প্রাথমিক মূল্য নির্ধারণ করে। লেনদেন শুরুর পর দাম ৪৯ দশমিক ৫০ ডলার পর্যন্ত ওঠে এবং দিন শেষে ৩৯ ডলারে বন্ধ হয়। কোম্পানির বাজারমূল্য প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যায়।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট সেই সময়ের প্রতিবেদনে শিরোনাম দেয়, ‘পিক্সারের শেয়ার বিক্রি স্টিভ জবসের জন্য বড় সাফল্য’। শেয়ারবাজারে এই সাফল্যের মাধ্যমে জবসের ব্যক্তিগত সম্পদও দ্রুত বেড়ে যায় এবং তিনি বিলিয়নিয়ার হয়ে ওঠেন।
অ্যাপল থেকে বেরিয়ে যাওয়া জবস পিক্সারের সাফল্যের মাধ্যমে আবারও বড় ব্যবসায়িক শক্তি হিসেবে ফিরে আসেন। ‘টয় স্টোরি’ পিক্সারকে সফল করার পাশাপাশি জবসের আর্থিক ও ব্যবসায়িক অবস্থানও বদলে দেয়।
পিক্সারের সাফল্য, জবসের প্রত্যাবর্তন
‘টয় স্টোরি’ ছিল শুধু শুরু। এরপর ‘আ বাগস লাইফ’, ‘টয় স্টোরি ২’, ‘মনস্টারস ইনক’ ও ‘ফাইন্ডিং নিমো’র মতো একের পর এক সাফল্যে পিক্সার অ্যানিমেশন–জগতের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।
একই সময়ে জবসের আরেক প্রতিষ্ঠান নেক্সটও তাঁকে আবার অ্যাপলের কাছে ফিরিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি করছিল। ১৯৯৬ সালে অ্যাপল নেক্সট অধিগ্রহণ করে। এর মাধ্যমেই জবসের আবার অ্যাপলে ফিরে আসার পথ তৈরি হয়। অর্থাৎ অ্যাপল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর তৈরি করা দুই আলাদা উদ্যোগ—নেক্সট ও পিক্সার তাঁর প্রত্যাবর্তনের ভিত্তি তৈরি করছিল।
শেষ পর্যন্ত পিক্সারকে কিনে নেয় ডিজনি
পিক্সারের সাফল্য শেষ পর্যন্ত তাকে ডিজনির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারে পরিণত করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সম্পর্ক শুধু অংশীদারত্বে আটকে থাকেনি। পিক্সারের সাফল্য এতটাই বড় হয়ে ওঠে যে ২০০৬ সালে ডিজনিই পিক্সারকে অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়।
২০০৬ সালে প্রায় ৭ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে ডিজনি পিক্সারকে অধিগ্রহণ করে। চুক্তির ফলে স্টিভ জবস ডিজনির প্রায় ৬ দশমিক ৩ শতাংশ শেয়ারের মালিক হয়ে প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় একক ব্যক্তিগত শেয়ারহোল্ডার হয়ে ওঠেন। তিনি ডিজনির পরিচালনা পর্ষদেও যোগ দেন।
যে ঝুঁকি বদলে দিয়েছিল জবসের জীবন
৩০ বছর বয়সে নিজের তৈরি অ্যাপল থেকে বেরিয়ে যাওয়া জবস কয়েক বছর পর এমন একটি প্রতিষ্ঠানে বড় ঝুঁকি নিয়েছিলেন, যার ভবিষ্যৎ তখনো অনিশ্চিত। সেই পিক্সারই তৈরি করল ‘টয় স্টোরি’। আর সিনেমাটির সাফল্য জবসকে শুধু বিলিয়নিয়ারই বানায়নি, তাঁর ব্যবসায়িক বিচারবোধকেও নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।
এ কারণেই ‘টয় স্টোরি’ শুধু অ্যানিমেশনের ইতিহাসে একটি মাইলফলক নয়; এটি স্টিভ জবসের জীবনের এক অসাধারণ প্রত্যাবর্তনের গল্প।
পিক্সারডটকম, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, অস্কারডটওআরজি ও দ্য নামবার ডটকম অবলম্বনে