ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়ার তথ্যচিত্র নিয়ে এত বিতর্ক কেন
যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের জীবন নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন তথ্যচিত্র ‘মেলানিয়া’। এতে উঠে এসেছে তাঁর স্বামী ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিষেকের ২০ দিন আগের মেলানিয়ার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন। অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিওজ সিনেমাটির পরিবেশক।
১০৪ মিনিটের এই তথ্যচিত্রে দেখা যাবে মেলানিয়ার ফ্যাশন–পছন্দ, কূটনৈতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ও তাঁর সিক্রেট সার্ভিসের সুরক্ষা–কার্যক্রম। এর মধ্যে মুক্তি পাওয়া ট্রেলারে দেখা যায়, ফার্স্ট লেডি ফোনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বলেন, ‘হ্যালো মিস্টার প্রেসিডেন্ট, অভিনন্দন।’ আর ট্রাম্প জানতে চাইলেন তিনি তাঁর বক্তৃতা দেখেছেন কি না, মেলানিয়া উত্তর দেন, ‘আমি দেখিনি, খবর দেখে নেব।’
সিনেমার নির্মাণ ও বাজেট
এই তথ্যচিত্র পরিচালনা করেছেন ব্রেট রাটনার, যিনি ‘রাশ আওয়ার’ ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য পরিচিত। তিনি যৌন হেনস্তার অভিযোগের কারণে ২০১৭ সালে মূলধারার সিনেমা থেকে সরে গিয়েছিলেন। রাটনার বলেছেন, মেলানিয়ার জীবনকে সিনেমাটিকভাবে দেখানো হয়েছে এই তথ্যচিত্রে; যা দর্শককে বিশেষ অভিজ্ঞতা দেবে।
তথ্যচিত্রটির প্রযোজক হিসেবে রয়েছেন মেলানিয়া ট্রাম্প নিজেও, মার্ক বেকম্যান ও ফার্নান্দো সুলিচিন। এমজিএম স্টুডিওজ সিনেমাটির স্বত্ব কিনেছে ৪০ মিলিয়ন ডলারে। এর নির্মাণ ব্যয় ছিল ৩৫ মিলিয়ন ডলার। ফলে এটি এই সময়ের অন্যতম ব্যয়বহুল তথ্যচিত্র। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এত দাম দিয়ে তথ্যচিত্রটি কিনে এমজিএম স্টুডিওজ প্রশাসনে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে।
ফার্স্ট লেডির পারিশ্রমিক
মেলানিয়া তথ্যচিত্রটির নির্বাহী প্রযোজক। সংবাদ সংস্থা এএফপির মতে, তিনি সিনেমার মোট ৪০ মিলিয়ন ডলার বাজেটের প্রায় ৭০ শতাংশ পাবেন।
মুক্তি ও প্রদর্শন
আজ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির আগে গতকাল রাতে সিনেমাটির প্রিমিয়ার হয় ওয়াশিংটন ডিসির কেনেডি সেন্টারে। যেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্প, মেলানিয়া ছাড়াও ছিলেন প্রায় ৭০ জন অতিথি, যার মধ্যে ব্যবসায়িক নির্বাহীরাও ছিলেন। বিশ্বব্যাপী সিনেমাটি প্রায় ১ হাজার ৬০০ হলে মুক্তি পেয়েছে যার মধ্যে ১ হাজার ৫০০ হলই যুক্তরাষ্ট্রে।
তবে দক্ষিণ আফ্রিকায় এর প্রদর্শন বাতিল করা হয়েছে। বিতরণকারী বলেছে, ‘বর্তমান পরিস্থিতির কারণে’ তারা দেশটিতে সিনেমাটি দেখাতে পারছেন না। তবে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
বিতর্কের পেছনের কাহিনি
তথ্যচিত্রটির বিপুল বাজেট ও মেলানিয়ার পারিশ্রমিক নিয়ে বিভিন্ন বিশ্লেষক ও সংবাদমাধ্যমের প্রশ্ন উঠেছে। সিএনএনের বিশ্লেষক হ্যারি এন্টেন বলেছেন, মাইকেল মুরের আলোচিত তথ্যচিত্র ‘ফারেনহাইট ৯/১১’ প্রায় ৬ মিলিয়ন ডলারের বাজেটে তৈরি হয়েছিল। এ ছাড়া অন্য আলোচিত ও প্রশংসিত তথ্যচিত্রগুলোর বাজেটে প্রায় কাছাকাছি; সে তুলতায় ‘মেলানিয়া’র বাজেট খুবই বেশি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যামাজন সিনেমাটি কিনে ট্রাম্প প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।
সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়া
সিনেমাটি মুক্তির আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা সমালোচনা হয়েছে। অনেকে স্ক্রিনশট শেয়ার করেছেন যেখানে দেখা গেছে, কয়েকটি সিনেমা হলে এখনো টিকিট বিক্রি হয়নি। যদিও মার্ক বেকম্যান বলেন, ‘মেলানিয়া’ একটি সৃজনশীল কাজ; এটি কোনো রাজনৈতিক সিনেমা নয়।
তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিপুল বাজেট, সীমিত দর্শক ও বিতর্কিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট মিলিয়ে এটি ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল তথ্যচিত্রের একটি, যা নির্মাণের উদ্দেশ্য রাজনৈতিক অনুকম্পা পাওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়।
আল–জাজিরা অবলম্বনে