নগ্ন হয়ে অভিনয় করার ঝামেলায় আর না
হলিউডে অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন অস্কার মনোনয়ন পাওয়া মার্কিন অভিনেত্রী আমান্ডা সেফ্রিড। সম্প্রতি যৌন দৃশ্যের আধিক্য থাকায় একটি সিরিজে অভিনয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। অভিনেত্রীর ভাষায়, অপরিচিত কারও সঙ্গে নগ্ন হয়ে অভিনয় করার ঝামেলায় তিনি এখন আর যেতে চান না।
৪০ বছর বয়সী আমান্ডা এ কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের হ্যাম্পটনস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে আয়োজিত এক আলোচনায়। ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ওই আলোচনার সঞ্চালক ছিলেন অভিনেতা অ্যালেক বল্ডউইন। সেখানে অভিনয়জীবনে রোমান্টিক ও অন্তরঙ্গ দৃশ্যে কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ বিষয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন নিয়ে কথা বলেন ‘মামা মিয়া!’ তারকা।
অভিনয় পেশার অদ্ভুত দিক তুলে ধরে আমান্ডা বলেন, ‘আমাদের কাজগুলো অদ্ভুত। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টা আরও অদ্ভুত লাগছে। যাঁদের সঙ্গে আমাদের বাস্তবে কোনো রোমান্টিক সম্পর্ক নেই, পর্দায় তাঁদের সঙ্গেই রোমান্টিক আচরণ করতে হয়।’
কখনো এ ধরনের দৃশ্য উপভোগ করেছেন, আবার কখনো অস্বস্তিতে পড়েছেন, দুই অভিজ্ঞতার কথাই তুলে ধরেন আমান্ডা। তিনি বলেন, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে সহশিল্পীর সঙ্গে চুম্বনের দৃশ্য নিয়ে তাঁর মধ্যে তেমন কোনো দ্বিধা কাজ করত না; বরং আকর্ষণীয় কারও সঙ্গে চুম্বনের দৃশ্যে অভিনয় করার সুযোগকে মজার বিষয় হিসেবেই দেখতেন তিনি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেছে।
অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি এমন একটি সিরিজে অভিনয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছি, যেখানে আমাকে নিয়মিত যৌন দৃশ্যে অভিনয় করতে হতো। কারণ, ওই দৃশ্যগুলো করতে চাইনি। সহশিল্পী কে, সেটা এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমি এটা করতে চাই না। বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি বোধ করছি। এই মুহূর্তে আমি এতে আগ্রহী নই।’
তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বদলাতে পারে বলেও জানিয়েছেন আমান্ডা। তাঁর ভাষায়, একই প্রস্তাব অন্য কোনো সময়ে এলে হয়তো তাঁর সিদ্ধান্ত ভিন্ন হতে পারত। কিন্তু আপাতত অপরিচিত কারও সঙ্গে নগ্ন হয়ে অভিনয় করার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে চান না তিনি।
সন্তান হওয়ার পর ‘না’ বলতে শিখেছেন
শুধু অন্তরঙ্গ দৃশ্য নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও নিজের সীমারেখা নির্ধারণ করতে শিখছেন বলে জানিয়েছেন আমান্ডা। বিশেষ করে মা হওয়ার পর কোন বিষয়ে সম্মতি দেবেন আর কোন বিষয়ে দেবেন না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আগের চেয়ে দৃঢ় হয়েছেন তিনি।
অভিনেত্রীর দুই সন্তান—নিনা (৯) ও টমাস (৬)। স্বামী টমাস স্যাডোস্কির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এখন বিচ্ছিন্ন। সন্তানদের সামনে নিজের আচরণ ও সিদ্ধান্তের প্রভাব নিয়ে এখন আগের চেয়ে বেশি সচেতন আমান্ডা।
আমান্ডা বলেন, ‘এখন আমার সন্তান আছে, যারা আমার কাজকর্ম লক্ষ করে। তাই আমাকে আর সবার কথায় সহজে রাজি হয়ে যাওয়া মানুষ হলে চলবে না।’
নিজের ব্যক্তিগত পরিসর রক্ষার একটি অভিজ্ঞতাও অনুষ্ঠানে শোনান অভিনেত্রী। একদিন নিউইয়র্কের ম্যানহাটানে মেয়ের সঙ্গে রাস্তা পার হচ্ছিলেন তিনি। এ সময় এক ব্যক্তি তাঁর কাছে ছবি তোলার অনুরোধ করেন। মেয়ের দিকে তাকিয়ে আমান্ডা বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধটি প্রত্যাখ্যান করেন। পরে মেয়েকে জিজ্ঞেস করেন, তাঁর এমন আচরণে সে ঠিক আছে কি না।
জবাবে নিনা বলে, মায়ের এমন সিদ্ধান্তে সে গর্বিত। একই ধরনের ঘটনা পরে একটি কফি শপেও ঘটে। সেখানে একজন কর্মী তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতে চাইলে আমান্ডা রাজি হননি। মেয়েও তখন মায়ের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে।
মেয়ের কাছ থেকে এমন সমর্থন পেয়ে নিজের উপলব্ধির কথা তুলে ধরেন অভিনেত্রী। তাঁর মনে হয়েছে, অন্যের অনুরোধে রাজি হওয়ার চেয়ে নিজের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিতে শেখাটা তাঁর জন্য জরুরি। বিশেষ করে সন্তানদের সঙ্গে থাকলে তাদের প্রয়োজন ও অভিজ্ঞতাকেই অগ্রাধিকার দিতে চান তিনি।
অভিনেত্রীর কথায়, ‘আমি যখন সন্তানদের সঙ্গে থাকি, তখন “না” বলি। তারা যা কিছুর মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা আমার নিজের অভিজ্ঞতার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
আমান্ডাকে বর্তমানে দেখা যাচ্ছে টিম ব্লেক নেলসন পরিচালিত ‘দ্য লাইফ অ্যান্ড ডেথস অব উইলসন শেড’ চলচ্চিত্রে। হ্যাম্পটনস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত ছবিটি এর আগে টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও দেখানো হয়েছে।
পিপলডটকম অবলম্বনে