‘বাবা ঘানা থেকে এসেছেন এই মুহূর্তটা দেখতে’

অস্কার হাতে মাইকেল বি জর্ডান। এএফপি

এবারের অস্কারে চমক ছিল সেরা অভিনেতার পুরস্কারে; টিমোথি শ্যালামে বা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও নন, পুরস্কার জিতেছেন মাইকেল বি জর্ডান। রায়ান কুগলারের আলোচিত হরর সিনেমা ‘সিনার্স’-এ দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করে এ পুরস্কার জিতেছেন তিনি।
ক্যারিয়ারের প্রথম মনোনয়নেই পুরস্কার জিতলেন মাইকেল বি জর্ডান। অস্কার জিতে আবেগঘন বক্তব্যে স্মরণ করলেন তাঁর আগের প্রজন্মের কিংবদন্তি শিল্পীদের। অস্কারের ইতিহাসে এই বিভাগে পুরস্কারজয়ী ষষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেতা হলেন তিনি।

মঞ্চে উঠে জর্ডান বলেন, ‘আমি এখানে দাঁড়িয়ে আছি তাঁদের জন্যই, যারা আমার আগে পথ তৈরি করেছেন।’ এরপর তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন কিংবদন্তি অভিনেতা সিডনি পোইটিয়ার, ডেনজেল ওয়াশিংটন, জেমি ফক্স, ফরেস্ট হুইটকার ও উইল স্মিথকে। একই সঙ্গে উল্লেখ করেন অস্কারে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কারজয়ী প্রথম এবং একমাত্র কৃষ্ণাঙ্গ নারী হ্যালি বেরির নামও। তিনি বলেন, ‘এই কিংবদন্তিদের পাশে নিজের নাম দেখতে পাওয়া আমার জন্য বিরাট সম্মানের।’

প্রথম মনোনয়নেই জয়
এটি ছিল জর্ডানের ক্যারিয়ারের প্রথম অস্কার মনোনয়ন। তবে পুরস্কার মৌসুমের শেষ দিকে এসে তিনি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে আসেন। সেরা অভিনেতার বিভাগে তাঁর সঙ্গে মনোনয়ন পেয়েছিলেন টিমোথি শ্যালামে, লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও, ইথান হক ও ওয়াগনার মৌরা।

এর আগে বিভিন্ন পুরস্কার অনুষ্ঠানে মাইকেল বি জর্ডান ভিন্ন ভিন্ন ফলাফল দেখেছেন। বাফটায় তিনি হেরে যান অভিনেতা রবার্ট আরামায়োর কাছে, গোল্ডেন গ্লোবে জয়ী হন মৌরা, ক্রিটিকস চয়েজে পুরস্কার পান শ্যালামে। তবে সবশেষ অ্যাক্টরস অ্যাওয়ার্ডসে পুরস্কার জয়ের পর থেকেই অস্কারের দৌড়ে এগিয়ে যান জর্ডান।

মাইকেল বি জর্ডান। এএফপি

পরিবার ও সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা
অস্কারের মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের পরিবারকেও ধন্যবাদ জানান মাইকেল বি জর্ডান। আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘মা, তুমি জানো আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি। আর আমার বাবা এখানে উপস্থিত—তিনি ঘানা থেকে এসেছেন এই মুহূর্তটা দেখতে।’ এ ছাড়া দীর্ঘদিনের সহকর্মী পরিচালক রায়ান কুগলারের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জর্ডান। তিনি বলেন, ‘তুমি আমাকে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ দিয়েছ। তোমার সঙ্গে কাজ করতে পারা আমার জন্য বড় সম্মানের।’

আরও পড়ুন

‘সিনার্স’ ছবির সাফল্য
১৯৩০-এর দশকের পটভূমিতে নির্মিত ‘সিনার্স’ ছবিতে জর্ডান অভিনয় করেছেন যমজ ভাই—স্মোক ও স্ট্যাক চরিত্রে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর তারা নিজ শহরে ফিরে একটি সংগীত ক্লাব খোলে। কিন্তু অল্প দিনের মধ্যেই ছোট শহরটিতে নেমে আসে রহস্যময় ভ্যাম্পায়ারদের আক্রমণ।

‘সিনার্স’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

ছবিটি শুধু সমালোচকদের প্রশংসাই পায়নি, বক্স অফিসেও বড় সাফল্য পেয়েছে। বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৭ কোটি ডলার আয় করেছে চলচ্চিত্রটি। এ বছর অস্কারে ছবিটি ১৬টি বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছিল এবং পুরস্কার জিতেছে চারটি বিভাগে।
শেষে দর্শকদের উদ্দেশে জর্ডান বলেন, ‘যাঁরা “সিনার্স” সিনেমাটি একবার, দুবার বা তারও বেশি বার দেখেছেন—আপনাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। আপনাদের সমর্থনই এই ছবিকে এত বড় করেছে।’

ভ্যারাইটি অবলম্বনে