অস্কারে কেন উপেক্ষিত নারী নির্মাতারা, সরব নাটালি
এ বছর নারীদের পরিচালিত অনেক অসাধারণ সিনেমা থাকা সত্ত্বেও অস্কারে সেগুলো উপেক্ষিত থেকে গেছে। এমনটাই মনে করেন হলিউড তারকা নাটালি পোর্টম্যান। নতুন ছবি ‘দ্য গ্যালারিস্ট’-এর প্রচারে এখন সানড্যান্স চলচ্চিত্র উৎসবে আছেন অভিনেত্রী। সেখানেই ভ্যারাইটিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অস্কার মনোনয়ন নিয়ে নিজের হতাশার কথা জানান ৪৪ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী।
নাটালি পোর্টম্যান বলেন, ‘গত বছর আমি যেসব সেরা ছবি দেখেছি, তার অনেকগুলোই নারীদের তৈরি। কিন্তু এতগুলো ভালো কাজ স্বীকৃতি পেল না। প্রতিটি স্তরেই যেন বাধা।’ কয়েকটি ছবির নামও উল্লেখ করেন তিনি, যেগুলো তাঁর মতে আরও বেশি মনোযোগ ও স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য ছিল।
নাটালির ভাষায়, ‘“সরি বেবি, “লেফট-হ্যান্ডেড গার্ল’, “হেডা” ও “দ্য টেস্টামেন্ট অব অ্যান লি”র মতো দারুণ সব সিনেমা এসেছে, যেগুলো দর্শক উপভোগ করছেন, ভালোবাসছেন; অথচ প্রাপ্য সম্মান পাচ্ছে না।’
চলতি বছর সেরা পরিচালক বিভাগে মনোনয়ন পাওয়া একমাত্র নারী ক্লোয়ি ঝাও। ‘হ্যামনেট’-এর জন্য এ মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। সেরা চলচ্চিত্র বিভাগে মনোনীত ১০ ছবির মধ্যেও ‘হ্যামনেট’ই একমাত্র ছবি, যেটির পরিচালক নারী।
নাটালি পোর্টম্যান বলেন, সমস্যাটা কেবল পুরস্কারের মৌসুমেই সীমাবদ্ধ নয়। চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রতিটি ধাপেই বাড়তি বাধার মুখে পড়েন নারীরা। তাঁর কথায়, ‘অর্থায়নের ধাপেই সমস্যা—ওটা নারীদের জন্য কঠিন। উৎসবে জায়গা পাওয়াও কঠিন। প্রতিটি ধাপই বেশ চ্যালেঞ্জিং। আর যখন সব বাধা পেরিয়ে কাজটা শেষ হয়, তখনো অনেক সময় সেটি যথাযথ মনোযোগ পায় না।’
বিষয়টির বৃহত্তর পটভূমি টেনে এনে নাটালি বলেন, ‘এখনো আমাদের অনেক কাজ বাকি।’ সব বাধা ও বৈষম্যের মধ্যেও নারী সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করার আনন্দের কথাও তুলে ধরেন নাটালি। হাসতে হাসতে বলেন, ‘শুটিং সেটে নারীদের সঙ্গে কাজ করা এখনো খুব বিশেষ এক অভিজ্ঞতা। যদিও অগ্রগতি হচ্ছে কিন্তু সেটা খুবই ধীর।’
‘দ্য গ্যালারিস্ট’ ছবিতে পরিচালক ক্যাথি ইয়ানের সঙ্গে কাজ করেছেন নাটালি পোর্টম্যান। ডার্ক কমেডি ঘরানার এই থ্রিলারে এক সংগ্রামী আর্ট গ্যালারিমালিকের গল্প বলা হয়েছে, যিনি প্রদর্শনের জন্য এক মৃত মানুষকে ‘শিল্পকর্ম’ হিসেবে বিক্রির চাঞ্চল্যকর পরিকল্পনা করেন। ছবিটিতে আরও অভিনয় করেছেন জেনা ওর্তেগা, ক্যাথরিন জেটা-জোনস, স্টার্লিং কে ব্রাউন।
তবে এবারের অস্কার মনোনয়নে একটি সুখবরও পেয়েছেন নাটালি। তাঁর ছবি ‘আরকো’ সেরা অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছে। কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রিমিয়ার হওয়া এই ছবিতে আইরিস নামের এক শিশুর মায়ের চরিত্রে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি।