চুম্বনদৃশ্য নিয়ে নতুন ভাবনা হ্যাথাওয়ে ও জনসনের
হলিউডের নতুন সিনেমা ‘ভেরিটি’তে অ্যান হ্যাথাওয়ে ও ডাকোটা জনসনের সঙ্গে একাধিক অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করেছেন জশ হার্টনেট। ক্যামেরার সামনে এমন দৃশ্য ধারণের অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুলেছেন ৪৮ বছর বয়সী এই অভিনেতা। জানিয়েছেন, দৃশ্যগুলো বাস্তবসম্মত করে তুলতে অন্তরঙ্গ দৃশ্যের সমন্বয়কের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তবে সহশিল্পীদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কারণে পুরো অভিজ্ঞতাই তাঁর কাছে একসময় বেশ সহজ ও মজার হয়ে উঠেছিল।
সম্প্রতি এবিসি নিউজের ‘লাইভ প্রাইম’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ‘ভেরিটি’ সিনেমার শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন হার্টনেট। তিনি জানান, পরিচালক মাইকেল শোওয়াল্টার এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেছিলেন, যেখানে অভিনয়শিল্পীরা স্বচ্ছন্দে কাজ করতে পেরেছেন। ফলে অন্তরঙ্গ দৃশ্য ধারণের সময়ও সেটে হাসি-ঠাট্টা ও বন্ধুত্বের আবহ বজায় ছিল।
হার্টনেটের ভাষায়, ‘অন্তরঙ্গ দৃশ্যের সমন্বয়কের ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে আপনি যখন অসাধারণ সব অভিনেতা ও পেশাদার মানুষের সঙ্গে কাজ করেন, যাঁরা চিত্রনাট্য বোঝেন, আর পরিচালকও যদি সেটে প্রাণবন্ত ও আনন্দময় পরিবেশ বজায় রাখতে চান, তখন সবার মধ্যে দ্রুত বন্ধুত্ব তৈরি হয়। ফলে পুরো ব্যাপারটাই একসময় বেশ মজার মনে হয়েছে।’
শুটিংয়ে হাসি-ঠাট্টার কথা বলতে গিয়ে এই অভিনেতা আরও জানান, সহশিল্পীদের সঙ্গে এতটাই ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল যে ভবিষ্যতে তাঁদের সঙ্গে আবার সিনেমা করার সুযোগ পেলে তিনি কমেডিতে অভিনয় করতে চাইবেন। তবে ‘ভেরিটি’ সেই ধরনের সিনেমা নয়। তাই কখনো কখনো হাসি চেপে রেখে গম্ভীর থাকতেও হয়েছে তাঁদের।
বন্ধুত্ব থেকেই পর্দার রসায়ন
কলিন হুভারের একই নামের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘ভেরিটি’ একটি মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার। সিনেমাটিতে হার্টনেট অভিনয় করেছেন জেরেমি ক্রফোর্ড চরিত্রে। অ্যান হ্যাথাওয়ে তাঁর স্ত্রী, সফল কিন্তু রহস্যময় লেখক ভেরিটি ক্রফোর্ডের ভূমিকায়। অন্যদিকে ডাকোটা জনসন অভিনয় করেছেন লোয়েন অ্যাশলির চরিত্রে, যিনি পেশাগত ও আর্থিক সংকটের মধ্যে থাকা একজন লেখক।
এক দুর্ঘটনার পর ভেরিটি আর স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারেন না। তখন তাঁর অসমাপ্ত বইয়ের সিরিজ শেষ করার দায়িত্ব পান লোয়েন। কিন্তু ক্রফোর্ড পরিবারের বাড়িতে থাকতে গিয়ে তিনি এমন কিছু তথ্য ও একটি অসমাপ্ত পাণ্ডুলিপির সন্ধান পান, যা তাঁর সামনে একের পর এক রহস্যের দরজা খুলে দেয়। গল্প এগোতে থাকলে লোয়েন ও জেরেমির সম্পর্কও জটিল হয়ে ওঠে।
সিনেমাটিতে হার্টনেটের চরিত্রের সঙ্গে ডাকোটা জনসনের পাশাপাশি অ্যান হ্যাথাওয়ের চরিত্রেরও অন্তরঙ্গ সম্পর্ক রয়েছে। তিন অভিনয়শিল্পীর মধ্যে পর্দায় বিশ্বাসযোগ্য রসায়ন তৈরি করাই ছিল নির্মাণের অন্যতম চ্যালেঞ্জ।
এ প্রসঙ্গে হার্টনেট বলেন, তাঁদের পর্দার রসায়ন অনেকটা ধাঁধার টুকরা মেলানোর মতো করে তৈরি হয়েছে। গল্পের একেকটি ঘটনা পরবর্তী ঘটনার ভিত্তি তৈরি করেছে। অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে ব্যক্তিগত বোঝাপড়া ভালো থাকায় চরিত্রগুলোর সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে কাজ করাও সহজ হয়েছে।
হার্টনেটের ভাষায়, অ্যান ও ডাকোটা দুজনই অত্যন্ত পেশাদার, সচেতন ও প্রতিভাবান অভিনেত্রী। তাঁদের সঙ্গে এমন দৃশ্যে কাজ করার জন্য নিজেকে তিনি যথাসম্ভব ভালো অবস্থানে মনে করেছেন।
চিত্রনাট্যের বাইরেও তৈরি হয়েছে অন্তরঙ্গ দৃশ্য
‘ভেরিটি’ নিয়ে আলোচনার আরেকটি কারণ অ্যান হ্যাথাওয়ে ও ডাকোটা জনসনের একটি চুম্বনদৃশ্য। পরিচালক মাইকেল শোওয়াল্টার জানিয়েছেন, দৃশ্যটি মূল উপন্যাসে এভাবে ছিল না। শুটিংয়ের সময় গল্পের একটি আলিঙ্গনের মুহূর্তকে আরও আবেগপূর্ণ ও যৌন উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলার সম্ভাবনা দেখেছিলেন তিনি।পরিচালকের বর্ণনা অনুযায়ী, দৃশ্যটি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে হ্যাথাওয়ে ও জনসন নিজেরাই নতুন একটি ভাবনা তুলে ধরেন। সেই ভাবনা থেকেই দৃশ্যটি অন্যদিকে মোড় নেয়। ফলে সিনেমায় তাঁদের সম্পর্কের জটিলতা প্রকাশের একটি নতুন মাত্রা তৈরি হয়।হ্যাথাওয়েও
জানিয়েছেন, দৃশ্যটির ভাবনা তৈরিতে তাঁর ভূমিকা ছিল। অন্যদিকে জনসন অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিংকে যথেষ্ট কারিগরিনির্ভর কাজ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ পর্দায় মুহূর্তগুলো যতটা স্বতঃস্ফূর্ত মনে হয়, ক্যামেরার সামনে সেগুলো তৈরি করতে ততটাই পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়।মাইকেল শোওয়াল্টারের পরিচালনায় সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন হার্টনেট, হ্যাথাওয়ে ও জনসন। ২ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ‘ভেরিটি’। রহস্য, জটিল সম্পর্ক ও মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনের পাশাপাশি সিনেমাটির অন্তরঙ্গ দৃশ্যগুলোও মুক্তির আগে থেকেই দর্শকের আগ্রহের কেন্দ্রে ছিল
পিপলডটকম অবলম্বনে