অন্তরঙ্গ দৃশ্য নিয়ে তারকাদের খোলামেলা স্বীকারোক্তি
সিনেমার পর্দায় যখন অন্তরঙ্গ দৃশ্য ভেসে ওঠে, দর্শকের চোখে তা স্বতঃস্ফূর্ত মনে হয়। কিন্তু ক্যামেরার পেছনের বাস্তবতা অনেক সময়ই সম্পূর্ণ ভিন্ন—অস্বস্তি, শারীরিক কষ্ট, মানসিক চাপ আর নিখুঁত সমন্বয়ের এক কঠিন পরীক্ষার নাম এসব দৃশ্যের শুটিং।
হলিউডের অনেক তারকাই সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা শুনলে দর্শকের কাছে পরিচিত অনেক দৃশ্যের অর্থই বদলে যেতে পারে।
অ্যান্ড্রু গারফিল্ড ও ফ্লোরেন্স পিউ একটি সিনেমার শুটিংয়ে দৃশ্যের মধ্যে এতটাই ডুবে গিয়েছিলেন যে ‘কাট’ নির্দেশ শোনেননি। পরে তাঁরা বুঝতে পারেন, ক্যামেরার সামনে তাঁরা নির্ধারিত সময়ের চেয়েও বেশি এগিয়ে গেছেন। পরে সাক্ষাৎকারে দুই তারকাই জানিয়েছিলেন, তাঁরা দৃশ্যটিতে এতটাই মনোযোগী ছিলেন যে ‘কাট’ শুনতে পাননি।
মার্গো রবি জানিয়েছেন, তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম আলোচিত সিনেমা ‘দ্য উলফ অব দ্য ওয়াল স্ট্রিট’-এর একটি দৃশ্যে সম্পূর্ণ নিজের সিদ্ধান্তেই তিনি সাহসী উপস্থিতি বেছে নিয়েছিলেন। তাঁর মতে, চরিত্রের প্রেক্ষাপট বোঝার জন্য এ সিদ্ধান্ত জরুরি ছিল। তবে তিনি এটাও স্বীকার করেন, এমন দৃশ্য শুট করা মোটেও রোমান্টিক বা সহজ নয়।
ডাকোটা জনসন আলোচিত ‘ফিফটি শেডস’ ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য। এই ফ্র্যাঞ্চাইজির শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে জানান, এসব দৃশ্য শুট করা ‘কখনোই সহজ বা স্বাভাবিক নয়’। কখনো পোশাক ঠিক রাখতে অদ্ভুত পদ্ধতি ব্যবহার করতে হয়েছে, কখনো শারীরিকভাবে অস্বস্তিকর অবস্থায় দীর্ঘ সময় থাকতে হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘দর্শকের কাছে যা আকর্ষণীয়, অভিনেতার কাছে তা প্রায়ই অদ্ভুত।’
অন্যদিকে ‘গেম অব থ্রোনস’-এ সাহসী দৃশ্যে অভিনয় করে আলোচনায় আসা এমিলিয়া ক্লার্ক জানিয়েছেন, শুরুতে তিনি জানতেনই না কী করতে হবে। এ সময় তাঁর সহ-অভিনেতা জেসন মামোয়া তাঁকে মানসিকভাবে স্বস্তি দিতে বড় ভূমিকা রাখেন। এ অভিজ্ঞতা দেখায়, এমন দৃশ্যে সহ-অভিনেতার আচরণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
ড্যানিয়েল রেডক্লিফ এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, একটি সিনেমার অন্তরঙ্গ দৃশ্যে পরিচালক তাঁকে ধাপে ধাপে নির্দেশনা দিচ্ছিলেন, যা পরিস্থিতিকে আরও অস্বস্তিকর করে তুলেছিল।
অস্কারজয়ী অভিনেত্রী জেনিফার লরেন্স আবার মনে করেন, পরিচিত কারও সঙ্গে অন্তরঙ্গ দৃশ্য করা অনেক সময় বেশি অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে; বরং অপরিচিত কারও সঙ্গে তা তুলনামূলক সহজ হতে পারে। তিনি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন—কিছু ক্ষেত্রে পুরুষ সহ-অভিনেতাদের আচরণ পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে, যদিও সবার ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়।
তবে সময়ের বিবর্তনে হলিউডে অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিংয়ের ধরন বদলেছে। গিনেথ প্যালট্রো বলেন, তাঁর সময় এসব দৃশ্য অনেকটাই সরাসরি শুট করা হতো। এখন ‘ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটর’ নামে একটি নতুন ভূমিকা যুক্ত হয়েছে, যাঁরা দৃশ্যগুলো নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে কাজ করেন।
নিকোল কিডম্যান আবার জানিয়েছেন, কিছু দৃশ্য এতটাই মানসিক ও শারীরিকভাবে ক্লান্তিকর হয়ে ওঠে যে তিনি একসময় ‘বার্নআউট’-এর মতো অনুভব করেছেন। রবার্ট প্যাটিনসনও নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এমন দৃশ্য শুট করতে গিয়ে তিনি এতটাই নার্ভাস হয়ে পড়েছিলেন যে শারীরিক প্রতিক্রিয়াও দেখা দিয়েছিল।
বাজফিড অবলম্বনে