‘টপ বয়’ অভিনেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ

মাইকেল ওয়ার্ড। রয়টার্স

বাফটা পুরস্কারজয়ী অভিনেতা মাইকেল ওয়ার্ডের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। ব্রিটিশ টিভি সিরিজ ‘টপ বয়’, ‘স্মল এক্স’ ও ‘ব্লু স্টোরি’–তে অভিনয় করে আলোচনায় এই অভিনেতার বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের মেট্রোপলিটন পুলিশ ধর্ষণের অভিযোগ এনেছে। খবর বিবিসির  
২৭ বছর বয়সী এই অভিনেতা হার্টফোর্ডশায়ারের চেশান্ট এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি ধর্ষণ ও তিনটি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিনেতা। এক বিবৃতিতে মাইকেল ওয়ার্ড বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করছি। গোটা তদন্ত প্রক্রিয়ায় আমি পুলিশকে পূর্ণ সহযোগিতা করেছি এবং আমি বিশ্বাস করি, তদন্ত শেষ পর্যন্ত আমার নির্দোষ প্রমাণ করবে।’  

পুলিশ জানায়, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে এক নারীকে কেন্দ্র করে এসব অভিযোগের ঘটনা ঘটেছে।
২০১৯ সালে আলোচিত চলচ্চিত্র ‘ব্লু স্টোরি’-তে অভিনয় করে পরিচিতি পান মাইকেল। এর পরের বছর বাফটা ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডসে উদীয়মান তারকার পুরস্কার জেতেন তিনি।

২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় সিরিজ ‘টপ বয়’–এ ‘জেমি’ চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। ২০২১ সালে ‘স্মল এক্স’-এ পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বাফটা টিভি অ্যাওয়ার্ডসে মনোনয়ন পান। ২০২২ সালে স্যাম মেন্ডেস পরিচালিত প্রশংসিত চলচ্চিত্র ‘এম্পায়ার অব লাইট’–এও দেখা যায় তাঁকে। সাম্প্রতিককালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত মহামারি-পটভূমির ওয়েস্টার্ন ছবি ‘এডিংটন’–এ  অভিনয় করেছেন, যা ২২ আগস্ট যুক্তরাজ্যে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

মামলার শুনানির জন্য আগামী ২৮ আগস্ট লন্ডনের থেমস ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে হাজির হবেন তিনি। মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিটেকটিভ সুপারিনটেনডেন্ট স্কট ওয়্যার বিবিসিকে বলেন, ‘আমাদের বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অভিযোগকারী নারীকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। আমরা জানি, এ ধরনের তদন্ত ভুক্তভোগীদের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।’

ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস (সিপিএস) লন্ডন সাউথের উপপ্রধান কৌঁসুলি ক্যাথরিন বাকাস বলেন, প্রমাণপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর সিপিএস মাইকেল ওয়ার্ডের বিরুদ্ধে দুটি ধর্ষণ, দুটি প্রবেশমূলক নিপীড়ন এবং একটি যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা পরিচালনার অনুমোদন দিয়েছে।

আরও পড়ুন

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মনে করিয়ে দিতে চাই, মামলার বিচারপ্রক্রিয়া এখন সক্রিয় এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির একটি নিরপেক্ষ বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এ কারণে এ বিষয়ে কোনো অনলাইন প্রতিবেদন, মন্তব্য বা তথ্য শেয়ার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি, যা বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।’