ভুল কোলনোস্কপির শিকার, ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন অভিনেত্রী

অ্যামি শুমার। রয়টার্স

হলিউড অভিনেত্রী অ্যামি শুমার আবারও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যসংকট নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। সম্প্রতি এক লাইভ অনুষ্ঠানে তিনি জানান, একটি ‘ভুলভাবে হওয়া কোলনোস্কপি’ তাঁর শারীরিক অবস্থাকে বেশ খারাপ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন ৫০ পাউন্ড ওজন কমানো, কুশিং সিনড্রোমে আক্রান্ত হওয়া এবং সেই কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়েও।

‘আমি এখন খুব একটা স্বাভাবিক অনুভব করছি না’
১৭ মে ‘নট স্কিনি বাট নট ফ্যাট’ পডকাস্টের এক লাইভ অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন অ্যামি। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক আমান্ডা হির্শ তাঁর ওজন কমা নিয়ে মন্তব্য করলে শুমার হাস্যরসের ভঙ্গিতে বলেন, ‘আমার একটা কোলনোস্কপি ঠিকভাবে হয়নি। তাই এখন খুব একটা স্বাভাবিক বা আকর্ষণীয় অনুভব করছি না।’

যদিও ঠিক কী ধরনের জটিলতা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। তবে মজা করে যোগ করেন, ‘অন্তত আগামী ১৫ বছর এটা নিয়ে আর ভাবতে হবে না।’
স্বাস্থ্যগত সমস্যার মধ্যেও মানসিকভাবে আগের চেয়ে ভালো আছেন বলেও জানান এই অভিনেত্রী। তাঁর ভাষায়, ‘জীবনে এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সুখী অনুভব করছি।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই ধরা পড়ে অসুস্থতা
২০২৪ সালের শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই লক্ষ করেন, অ্যামি শুমারের মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেছে। প্রথমে বিষয়টি তাঁকে অস্বস্তিতে ফেললেও পরে সেটিই তাঁর অসুস্থতা শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
তিনি বলেন, ‘ইন্টারনেটে সবাই আমার চেহারা নিয়ে কথা বলছিল। তখনই বুঝতে পারলাম, শরীরে কিছু একটা সমস্যা হচ্ছে।’

অ্যামি শুমার। রয়টার্স

পরে চিকিৎসকেরা জানান, তিনি কুশিং সিনড্রোমে আক্রান্ত হয়েছেন। এটি এমন একটি হরমোনজনিত সমস্যা, যেখানে শরীরে অতিরিক্ত কর্টিসল তৈরি হয়। শুমারের দাবি, বিভিন্ন স্টেরয়েড ইনজেকশন নেওয়ার কারণেই তাঁর এই সমস্যা হয়েছিল।

‘বেঁচে থাকার জন্যই ওজন কমিয়েছি’
কুশিং সিনড্রোম থেকে সেরে ওঠার পর প্রায় ৫০ পাউন্ড ওজন কমান অ্যামি শুমার। তবে এটি সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং নিজের সুস্থতার জন্যই করেছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

গত ডিসেম্বরে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে শুমার লিখেছিলেন, ‘আমি সুন্দর দেখানোর জন্য ওজন কমাইনি। আমি বাঁচার জন্য এটা করেছি।’ তিনি আরও জানান, এখন তিনি অনেকটাই ব্যথামুক্ত এবং সুস্থ অনুভব করেন।

আরও পড়ুন

প্লাস্টিক সার্জারি ও ওজন কমানোর ওষুধ নিয়েও খোলামেলা
নিজের শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে কখনোই লুকোছাপা করেননি এই অভিনেত্রী। তিনি স্বীকার করেছেন, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনি ‘মাউঞ্জারো’ নামের একটি ওষুধ ব্যবহার করেছেন। পাশাপাশি অতীতে প্লাস্টিক সার্জারিও করিয়েছেন। তবে এখন আর বোটক্স বা ফিলার ব্যবহার করেন না বলে জানিয়েছেন তিনি। শুমারের ভাষায়, ‘আমার ওজন কমায় কেউ হতাশ হলে দুঃখিত। কিন্তু আমি এখন ব্যথামুক্ত।’

ব্যক্তিগত জীবনেও পরিবর্তন
স্বাস্থ্যসংকটের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও বড় পরিবর্তনের মুখোমুখি হয়েছেন অ্যামি শুমার। গত ডিসেম্বরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানান, ক্রিস ফিশারের সঙ্গে সাত বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনেছেন। তবে বিচ্ছেদের পরও তাঁদের প্রধান মনোযোগ থাকবে সন্তানকে ঘিরেই—এমনটাই জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

ইউএস টুডে অবলম্বনে