ঢাকায় মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক
বিশ্বজুড়ে ভক্ত–অনুরাগীদের কাছে মাইকেল জ্যাকসন নামটি এক দুর্নিবার আকর্ষণ। কেবল ‘পপসম্রাট’ নন, কোটি মানুষের হৃদয়ের সম্রাট হয়ে আছেন তিনি। ২০০৯ সালে মাত্র ৫০ বছর বয়সে মৃত্যুর পরও তাঁর জনপ্রিয়তা কমেনি। স্পটিফাইয়ে তাঁর মাসিক শ্রোতা প্রায় ৬৫ মিলিয়ন। মৃত্যুর আগপর্যন্ত যেমন কৌতূহল ছিল তাঁকে নিয়ে, মৃত্যুর পরও কৌতূহলের শেষ নেই; যার প্রমাণ মেলে তাঁর জীবনী নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণার পর। যেদিন ঘোষণা আসে, তার পর থেকেই ভক্তরা অপেক্ষায়, কবে আসবে সিনেমাটি। অবশেষে অপেক্ষার অবসান ঘটছে। ২৪ এপ্রিল আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ‘মাইকেল’ নামের এই সিনেমা। বাংলাদেশের দর্শকের জন্য আন্তর্জাতিক মুক্তির দিনেই সিনেমাটি মুক্তি পাবে স্টার সিনেপ্লেক্সে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে মাল্টিপ্লেক্সটি।
অ্যান্টনি ফুকো পরিচালিত এই সিনেমায় মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তাঁর ভাইয়ের ছেলে জাফার জ্যাকসন। আরও অভিনয় করেছেন মাইলস টেলার, কোলম্যান ডোমিঙ্গো, ক্যাট গ্রাহাম, নিয়ালং, লরা হ্যারিয়ার, কেনড্রিক স্যাম্পসন ও জুলিয়ানো ক্রু ভ্যালদি। সিনেমাটিতে তুলে ধরা হবে সংগীতের বাইরেও মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের গল্প, যেভাবে জ্যাকসন ফাইভ ব্যান্ডের তরুণ প্রতিভা থেকে তিনি হয়ে ওঠেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিনোদনশিল্পী। মঞ্চের বাইরের জীবন ও একক সংগীতজীবনের সোনালি মুহূর্তগুলো দর্শক দেখবেন একেবারে কাছ থেকে, যেখানে শুরু হয়েছিল তাঁর পথচলা। মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের চরিত্রও তুলে ধরা হয়েছে এখানে।
তাঁর বাবা জো জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন কোলম্যান ডোমিঙ্গো। মা ক্যাথরিন জ্যাকসনের চরিত্রে দেখা যাবে নিয়ালংকে। বোন লাটোয়া জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জেসিকা সুলা। এ ছাড়া সংগীতজগতের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছেন মোটাউন রেকর্ডসের প্রতিষ্ঠাতা বেরি গর্ডি, সংগীত নির্বাহী সুজান দে পাসে এবং ডায়ানা রসের চরিত্রও। এই চরিত্রগুলোর মাধ্যমে মাইকেলের ক্যারিয়ারের পেছনের মানুষদের ভূমিকা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। ছোট বয়সে জ্যাকসন ফাইভ ব্যান্ডের প্রধান কণ্ঠশিল্পী হিসেবে মাইকেলের যাত্রা শুরু হয়। সেখান থেকে ধীরে ধীরে একক শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করে তিনি হয়ে ওঠেন বিশ্বসংগীতের সবচেয়ে বড় তারকা। এই বায়োপিকে তুলে ধরা হবে মাইকেল জ্যাকসনের অজানা অনেক গল্প। থাকবে তাঁর বিখ্যাত কিছু পারফরম্যান্সও।
ট্রেলার দেখেই বোঝা যায়, নির্মাতা তাঁর সংগীত, নাচ ও তারকাখ্যাতির রূপকথার মতো যাত্রাকে বড় পর্দায় জাঁকজমকপূর্ণভাবে তুলে ধরতে চেয়েছেন। গত বছরের নভেম্বের মাইকেলের বায়োপিক ‘মাইকেল’-এর টিজার মুক্তির পর ভিউয়ের রেকর্ড গড়েছিল। মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ১১৬.২ মিলিয়ন ভিউ। এর আগে অন্য কোনো মিউজিক্যাল বায়োপিক সিনেমার টিজার ২৪ ঘণ্টায় এত ভিউ হয়নি। ঝড় উঠেছে ট্রেলার মুক্তির পরও। গত ফেব্রুয়ারিতে মুক্তির এক দিনের মধ্যেই ট্রেলারটি পাঁচ মিলিয়নের বেশি ভিউ ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, মুক্তির পর ব্যাপক ব্যবসায়িক সাফল্য পেতে যাচ্ছে ‘মাইকেল’।
বাংলাদেশেও সিনেমাটি ব্যাপক সাড়া তৈরি করবে বলে মনে করেন স্টার সিনেপ্লেক্সের মিডিয়া ও মার্কেটিং বিভাগের এজিএম মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও মাইকেল জ্যাকসনের প্রচুর ভক্ত রয়েছেন। সেই আশি-নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু করে এই সময়েও পপসংগীত শ্রোতাদের কাছে সম্রাট হয়ে আছেন মাইকেল। তাঁর বায়োপিক দেখার আগ্রহ আছে সবার। এরই মধ্যে অনেক দর্শক আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, অগ্রিম টিকেটের খোঁজ নিচ্ছেন। সিনেমাটি সবার মন জয় করবে বলে আমরা আশাবাদী।’