আজকাল যৌন দৃশ্য বেশি স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে, ‘বেসিক ইন্সটিংক্ট’ অভিনেত্রীর ক্ষোভ

‘বেসিক ইন্সটিংক্ট’ সিনেমায় শ্যারন স্টোন। আইএমডিবি

হলিউডে সাহসী চরিত্রে অভিনয়ের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত শ্যারন স্টোন। নব্বইয়ের দশকে ইরোটিক থ্রিলার ‘বেসিক ইন্সটিংক্ট’–এ কার্যত পর্দায় ঝড় তুলেছিলেন তিনি।  কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সিনেমা ও টেলিভিশনে যৌন দৃশ্যের উপস্থাপন নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে। বরং এখন তিনি খোলাখুলিভাবেই প্রশ্ন তুলছেন—এই দৃশ্যগুলো কি অতিরিক্ত স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে?

সম্প্রতি সিবিএস মর্নিংস-এ হাজির হয়ে নিজের নতুন কাজ ‘ইউফোরিয়া’-এর তৃতীয় মৌসুম নিয়ে কথা বলেন শ্যারন। কথায়–কথায় শ্যারন স্টোন বলেন, আধুনিক পর্দায় যৌন দৃশ্য অনেক বেশি ‘স্পষ্ট’ হয়ে উঠেছে। তাঁর মতে, এই প্রবণতা দর্শকের কল্পনার জায়গাটুকু কেড়ে নিচ্ছে।

স্টোনের ভাষায়, এখন যখন টেলিভিশনে এমন দৃশ্য আসে, তিনি অনেক সময় এগুলো এড়িয়ে যান। কারণ, তাঁর কাছে এই অতিরিক্ত সরাসরি উপস্থাপন আর আকর্ষণ তৈরি করে না, বরং অস্বস্তি তৈরি করে। তিনি মনে করেন, যৌনতার প্রকৃত সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে রহস্য, প্রত্যাশা আর কল্পনার মধ্যে—যা এখনকার উপস্থাপনায় অনেকটাই অনুপস্থিত।

শ্যারন স্টোন। রয়টার্স

‘বেসিক ইন্সটিংক্ট’ থেকে আজকের বাস্তবতা
১৯৯২ সালের ‘বেসিক ইন্সটিংক্ট’ সিনেমার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খ্যাতি পান স্টোন। ছবির একটি সংক্ষিপ্ত নগ্ন দৃশ্য সেই সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। স্টোন বলেন, সেই দৃশ্য পুরো ফ্রেমজুড়ে ছিল না—বরং খুবই সংক্ষিপ্ত ছিল। কিন্তু সেটিই দর্শকের মধ্যে কৌতূহল, রহস্য আর আকর্ষণ তৈরি করেছিল।
তাঁর মতে, সেই সময়ের দর্শকরা ‘কী দেখা গেল’—এই প্রশ্নে আগ্রহী ছিলেন। আর সেই অদেখার মধ্যেই তৈরি হতো উত্তেজনা। এখনকার দৃশ্যগুলোতে সেই জায়গাই হারিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন

বিতর্কিত অভিজ্ঞতা
স্টোন তাঁর ২০২১ সালের স্মৃতিকথা ‘দ্য বিউটি অব লিভিং টোয়াইস’-এ প্রকাশ করেন, ‘বেসিক ইন্সটিংক্ট’-এর সেই বিতর্কিত দৃশ্য সম্পর্কে তাঁকে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল। শুটিংয়ের সময় তাঁকে বলা হয়েছিল, কিছুই দৃশ্যমান হবে না। কিন্তু সিনেমার প্রিভিউতে গিয়ে তিনি প্রথমবারের মতো পুরো দৃশ্যটি দেখেন—যা তাঁকে বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ করে।
এ ঘটনার পর তিনি ছবির পরিচালক পল ভারহোভেনের মুখোমুখি হন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সেই মুহূর্ত তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম আলোচিত ঘটনা হয়ে আছে।
স্টোনের বক্তব্যে স্পষ্ট—তিনি যৌনতার উপস্থাপন পুরোপুরি অস্বীকার করছেন না, বরং এর ধরন নিয়ে আপত্তি তুলছেন। তাঁর মতে, পর্দায় সবকিছু স্পষ্ট করে দেখানোর প্রয়োজন নেই। বরং কিছুটা না-বলা, না-দেখানোর মধ্যেই দর্শকের অনুভূতি ও কল্পনার জায়গা তৈরি হয়।
স্টোন বলেন, ‘আমি চাই, আমার ভেতরের সেই আকাঙ্ক্ষা, রহস্য আর অনুভূতি বেঁচে থাকুক।’

নতুন বিতর্কের আভাস
এদিকে ‘বেসিক ইন্সটিংক্ট’ সিনেমার সম্ভাব্য রিবুট নিয়েও আলোচনা চলছে। জানা গেছে, ছবিটির স্বত্ব কিনে নতুনভাবে নির্মাণের পরিকল্পনা করছে প্রযোজনাপ্রতিষ্ঠান। তবে এই উদ্যোগ নিয়ে স্টোন ইতিমধ্যেই কটাক্ষ করেছেন—ইঙ্গিত দিয়েছেন, নতুন সংস্করণ তৈরি করা সহজ হবে না।

ভ্যারাইটি অবলম্বনে