২০১৮ সালে ‘ব্লাক প্যান্থার’ ব্যাপকভাবে সফল দর্শকদের মধ্যে সাড়া জাগিয়েছিল। দ্বিতীয় কিস্তিতে অভিনেতা চ্যাডউইক বোজম্যানের চরিত্রটি নিয়েই দর্শকের আগ্রহ ছিল সবচেয়ে বেশি। এই অভিনেতার মৃত্যুর পর সিনেমাটির গল্প কোন দিকে গড়ায়, সেটাই ছিল প্রশ্ন। ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ সিনেমার ওয়াকান্ডা রাজ্যের ভয়ডরহীন নেতার চরিত্র করা এই অভিনেতা ২০২০ সালে কোলন ক্যানসারে মারা যান। সেই সময় সিনেমাটির কাজে জটিলতা তৈরি হয়। তবে এসব বাধা কাটিয়ে এবার সিকুয়েল দিয়ে বাজিমাত করেছেন পরিচালক রয়ান কুগলার।

টি’সিলা মারা যাওয়ার পর রাজ্যের শাসনভার নিয়ে যে কঠিন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তা-ই নিয়ে এগিয়েছে এবারের ওয়াকান্ডার গল্প। পরে অবশ্য ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’-এর দায়িত্ব পালন করেন লেটিয়া রাইট। এর মধ্যে ওয়াকান্ডাকে বাঁচাতে শুরু হয় তুমুল লড়াই। অসাধারণ গল্প না হলেও উপস্থাপনা আর পরতে পরতে ছিল চমক। এমন গল্পই দর্শকদের পুরো সময় বুঁদ করে রেখেছিল পর্দায়। ভ্যারাইটি লিখেছে, ‘২ ঘণ্টা ৪১ মিনিটের এই ছবিতে প্রতি মুহূর্তে চরিত্রগুলোকে নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে হয়, যা দর্শকদের একাধিক দৃশ্যে হাততালি দিতে বাধ্য করেছে।’

সিনেমার ভিজ্যুয়ালের দারুণ প্রশংসা করেছে ভ্যারাইটি। এ ছাড়া অভিনয়, মারপিটের দৃশ্য ও মানবিকভাবে গল্প বলায় উতরে গেছেন রয়ান কুগলার। সিনেমাটির সুরি চরিত্রের লেটিয়া রাইট, রেমন্ডা চরিত্রে অ্যাঞ্জেলা ব্যাসেট, নাকিয়া চরিত্রের লুপিয়াসহ সবার অভিনয় দর্শককে আটকে রেখেছে। ব্যবসায়িকভাবেও সিনেমাটি এখন সফল। ইতিমধ্যে সিনেমাটি ব্লকবাস্টারের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। ২৫০ মিলিয়ন ডলার বাজেটের সিনেমাটি সারা বিশ্ব থেকে মাত্র ৪ দিনে আয় করেছে ৩৩১ মিলিয়ন ডলার। সিনেমাটি এখন হাজার মিলিয়ন আয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

মার্ভেলের ‘ব্ল্যাক প্যান্থার: ওয়াকান্ডা ফরএভার’ সিনেমাটির বড় বাজার হতে পারত চীন। কিন্তু সেখানে সিনেমাটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। চীনের সেন্সর বোর্ড বলছে, গল্পে অদ্ভুত সম্পর্ক দেখানো হয়েছে। সিনেমাটির অতিরিক্ত যুক্তরাষ্ট্রপ্রীতিও অন্যতম কারণ। মার্ভেল কর্তৃপক্ষ এখনই এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চায় না। ২০১৬ সালে চীন থেকে ১০৫ মিলিয়ন ডলার আয় করেছিল ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’। এবারও সিনেমাটি মুক্তি পেলে রেকর্ড গড়ত চীনের বাজারে।

হলিউডের সুপারহিরো সিনেমাগুলোয় কৃষ্ণাঙ্গদের তেমন একটা দেখা যায় না। কিন্তু ২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পান কৃষ্ণাঙ্গরা। আর এটিই কৃষ্ণাঙ্গদের নিয়ে নির্মিত প্রথম সুপারহিরো ছবি। ছবিটি যেমন দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে, তেমনি বৈচিত্র্যের জন্য বিশ্বব্যাপী প্রশংসাও পেয়েছে। এরপরই নির্মাতা প্রতিষ্ঠানও পরিকল্পনা করে এর সিকুয়েল। সিনেমাটির বর্তমান আইএমডিবি রেটিং ৭.৪। ইতিমধ্যে সিনেমাটি দেখে ৫৪ হাজার জন ভোট দিয়েছেন।