‘মস্তিষ্কে টিউমার শোনার পর শ্বাস নিতে পারছিলাম না’

অভিনেত্রী বিজি ফিলিপস
ছবি: ইনস্টাগ্রাম

হঠাৎ করেই যেন জীবনের সব ছন্দ একেবারে হারিয়ে যায় হলিউড অভিনেত্রী বিজি ফিলিপসের। দীর্ঘ সময় তিনি নিজেকে সবকিছু থেকে গুটিয়ে নেন। কোনো চরিত্রের প্রয়োজনে নয়, এই ছয় মাস মস্তিষ্কে টিউমারের সঙ্গে লড়াই করেছেন ফিলিপস। তাঁর কথায়, জীবনের সবচেয়ে অদ্ভুত ছয় মাস পার করেছেন।

সম্প্রতি পিপল ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিলিপস জানান, তাঁর শরীরে টিউমারের স্পষ্ট কোনো লক্ষণ ছিল না। এমনকি কোনো উপসর্গও দেখা দেয়নি। প্রথমে চিকিৎসকও তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে স্ক্যান করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু নিজের ভেতরের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিয়ে শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেন তিনি।

অভিনেত্রী বিজি ফিলিপস
ছবি: ইনস্টাগ্রাম

ফিলিপস সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘দুই বছর ধরে মাঝেমধ্যে বন্ধুদের বলতাম আমার মস্তিষ্ক যেন ঠিকমতো কাজ করছে না। শুরুতে ধরে নিয়েছিলাম, শারীরিক কোনো পরিবর্তনের কারণে হতে পারে। এ জন্য মেনোপজের আগের সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করেছিলাম। তবে সব সময়ই মনে হচ্ছিল আমার মস্তিষ্ক ঠিকমতো কাজ করছিল না।’

তবে ফিলিপস জানান, নিজের কাছে সব সময়ই সমস্যা মনে হতো। এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে ফিলিপসের সাবেক স্বামী চলচ্চিত্র নির্মাতা মার্ক সিলভারস্টেইন আবার চিকিৎসার পরামর্শ দেন। এই অভিনেত্রী জানান, এ সময় তিনি শরীরের এমআরআই করান। সেই পরীক্ষাতেই ধরা পড়ে গ্রেড-২ অলিগোডেনড্রোগ্লিওমা; এটি মস্তিষ্কের একটি বিরল ও ধীরে বেড়ে ওঠা টিউমার। ফিলিপস টিউমারের কথা জানালে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তাঁর কথায়, ‘টিউমার শোনার পর শ্বাস নিতে পারছিলাম না, দ্রুত শ্বাস নিচ্ছিলাম।’

অভিনেত্রী বিজি ফিলিপস
ছবি: ইনস্টাগ্রাম

ফিলিপসের টিউমার ধরা পড়ার ঘটনাটি আরও আবেগঘন হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে আরেক কারণ। তাঁর টিউমার ধরা পড়ার কয়েক দিন আগেই তাঁর সহ-অভিনেতা ও বন্ধু জেমস ভ্যান ডার বিকের কোলন ক্যানসারে মৃত্যু হয়। কাছের বন্ধুর মৃত্যুর কথা সেই সময় তাঁকে ভয় পাইয়ে দিয়েছিল।

তবে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েননি। বন্ধু ও সহকর্মীরা ফিলিপসকে সাহস জুগিয়েছেন। যে কারণে এক মাস পরই তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার হয়। ফিলিপস বলেন, ‘মার্চে পাঁচ ঘণ্টা ধরে আমার অস্ত্রোপচার হয়। চিকিৎসকেরা আমার মস্তিষ্ক থেকে ২ দশমিক ৬ সেন্টিমিটার আকারের একটি পিণ্ড অপসারণ করেন। অস্ত্রোপচারের মাত্র দুই দিন পরই বাড়ি ফিরে যাই। অস্ত্রোপচারের পর আমার অনুভূতি বদলে গেছে। এখন আমার মস্তিষ্ক ভাঙা মনে হয় না।’

আরও পড়ুন
অভিনেত্রী বিজি ফিলিপস
ছবি: ইনস্টাগ্রাম

এত কিছুর পরও নিজের ভাগ্যকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন অভিনেত্রী। দ্রুত টিউমার শনাক্ত হওয়া এবং চিকিৎসা পাওয়াকে বড় সৌভাগ্য মনে করে তিনি বলেন, ‘আমি কি বিশ্বের সবচেয়ে ভাগ্যবান মেয়ে?’

৪৭ বছর বয়সী বিজি ফিলিপসের আসল নাম এলিজাবেথ ফিলিপস। ১৯৯৯ সালে তিনি অভিনয় শুরু করেন। তিন বছর পরই ‘ডওসনস ক্রিক’ সিরিজে অড্রে লিডেল চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পান তিনি। পরে ‘ফ্রিকস অ্যান্ড গিকস’, ‘কুগার টাউন’ ও ‘হোয়াইট চিকস’, ‘মেড অব অনার’ কাজগুলোতে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছেন।

এদিকে চিকিৎসা শেষে ফিলিপস ‘কুপারটিনো’ সিরিজ দিয়ে শুটিংয়েও ফিরেছেন। কিন্তু সিরিজটির শুটিং শুরুর কিছুদিন পরই ফিলিপস জানতে পারেন, তাঁর অস্ত্রোপচারের ক্ষতস্থানে স্ট্যাফিলোকক্কাস সংক্রমণ হয়েছে। এ কারণে ক্ষতস্থান পরিষ্কার করার জন্য আবার অস্ত্রোপচার করতে হবে।
দ্য গার্ডিয়ান ও পিপল অবলম্বনে