গোপনে দুই বোনের ছবি তুলে বিক্রি , নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেন তাঁরা
মেরি-কেট অলসেন ও অ্যাশলে অলসেন যমজ বোন। তাঁদের হলিউডের ইতিহাসে অন্যতম সফল শিশুতারকা হিসেবে গণ্য করা হয়। অভিনয়, ব্যবসা ও ফ্যাশন—সব ক্ষেত্রেই তাঁরা আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন। ছুটির দিনে তাঁদের সম্পর্কে জানা–অজানা তথ্যগুলো জেনে নিতে পারেন।
১. মাত্র ছয় মাস বয়সে অভিষেক
মেরি-কেট ও অ্যাশলে তাঁদের অভিনয়জীবন শুরু করেন মাত্র ছয় মাস বয়সে। জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ‘ফুল হাউস’-এ তাঁরা পালাক্রমে মিশেল ট্যানার চরিত্রে অভিনয় করেন। সেই সময়েই শিশুশিল্পী হিসেবে তাঁদের জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়ে যায়। সিরিজটির কারণে তাঁরা নিয়মিত অভিনয় করতে থাকেন।
২. হয়ে ওঠেন জনপ্রিয় শিশুতারকা
শিশুশিল্পী হিসেবে নব্বই দশকে মেরি-কেট ও অ্যাশলের নাম সব সময় আলোচনায় থাকত। তাঁরা নিয়মিত পর্দায় থাকতেন। সরাসরি ভিডিওচিত্র, টেলিভিশন অনুষ্ঠান, বই, পোশাক ও খেলনা—সব মিলিয়ে ‘অলসেন টুইনস’ ছিল বিশাল এক ব্র্যান্ড। ২০০৪ সালে ১৮ বছরে পা দেওয়ার সময় তাঁদের প্রত্যেকের সম্পত্তির পরিমাণ আনুমানিক ১৩০ থেকে ১৫০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।
৩. নিজেদের কোম্পানি গড়ে তোলা
দুই বোন খুব অল্প বয়সেই ডুয়েল স্টার এন্টারটেইনমেন্ট গ্রুপ নামে একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁদের চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও পণ্য বিপণন পরিচালিত হতো। কিশোর বয়সেই তাঁরা কোটি কোটি ডলারের ব্যবসার অংশ হয়ে ওঠেন। হলিউডে শিশু চরিত্রের অভিনয় করে সাফল্য পাওয়া এমন ঘটনা খুবই কম।
৪. খ্যাতির আড়ালের চাপ
অল্প বয়সেই দুই বোন বিশ্বজোড়া খ্যাতি পেয়েছেন। কিন্তু তার জন্য মূল্যও দিতে হয়েছে। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে গণমাধ্যমের তীব্র আগ্রহ, পাপারাজ্জিদের অনুসরণ ও ক্রমাগত জনসমক্ষে থাকার চাপ তাঁদের মানসিকভাবে প্রভাবিত করেছিল। কৈশোর থেকেই দুই বোন পাপারাজ্জিদের এড়িয়ে চলতেন। তাঁরা একাধিকবার বলেছেন, কৈশোরে তাঁদের ওজন, শারীরিক গঠন ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ট্যাবলয়েডগুলো নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ করত। রিপোর্টগুলো গোপনে তোলা ছবি ব্যবহার করত। মূলত পাপারাজ্জিরা তাঁদের গোপন ছবি তুলে ট্যাবলয়েডগুলোতে বিক্রি করত।
৫. তাঁদের কঠিন সময়
পাপারাজ্জির কারণে কৈশোরে অনেক সময় মেরি-কেট ও অ্যাশলেকে আতঙ্কে দিন কাটাতে হয়েছে। নিয়মিত পাপারাজ্জিদের খপ্পরে পড়তেন। তাঁরা ছবি তুলতে দিতে চাইতেন না। পাপারাজ্জিদের দেখা মাত্র তাঁরা মুখ লুকাতেন। দুই বোন ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ ঢেকে রাখতেন বা ক্যামেরা এড়িয়ে চলতেন, কারণ অবাঞ্ছিত ছবি তোলা তাঁদের অপছন্দ ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরও তাঁরা পাপারাজ্জিদের হাত থেকে রেহাই পাননি। দুই বোনই নিরাপত্তাহীনতা বোধ করতেন। এমনকি সেই সময় তাঁরা পাপারাজ্জিদের কারণে হাসতেন না। অনেকে ভাবত তাঁরা হাসতেও পারেন না। এই নিয়ে সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল।
৬. অভিনয় ছেড়ে নতুন পথে
অনেক শিশুতারকা বড় হয়ে অভিনয়ে টিকে থাকতে পারেন না। তবে অলসেন বোনেরা ইচ্ছা করেই অভিনয়ের পাশাপাশি অন্য পথ বেছে নেন। ধীরে ধীরে অভিনয় থেকে সরে গিয়ে তাঁরা মনোযোগ দেন ফ্যাশন ও ব্যবসায়। এখন তাঁরা নিয়মিত ব্যবসার পাশাপাশি অভিনয় করেন।
৭. ফ্যাশন দুনিয়ায় নতুন পরিচয়
২০০৬ সালে এই দুই বোন বিলাসবহুল ফ্যাশন ব্র্যান্ড দ্য রো প্রতিষ্ঠা করেন। পরে এলিজাবেথ অ্যান্ড জেমসসহ আরও কয়েকটি ব্র্যান্ড চালু করেন। ফ্যাশন সমালোচকদের কাছ থেকেও তাঁদের কাজ ব্যাপক প্রশংসা পায়। শিশুচরিত্রে আলোচিত অভিনয়শিল্পী হওয়ার কারণে তাঁরা ব্যবসায় অনেক সুবিধা পান। ভক্তদের মধ্যে তাঁদের পণ্য নিয়ে আলাদা উৎসাহ ছিল।
৮. আয় ও সম্পদ
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সাময়িকী ও বিনোদনভিত্তিক প্রকাশনার তথ্য অনুযায়ী, মেরি-কেট ও অ্যাশলি অলসেনের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ কয়েক শ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফ্যাশন ব্যবসা, ব্র্যান্ড লাইসেন্সিং ও বিনিয়োগ তাঁদের আয়ের প্রধান উৎস। আইএমডিবির তথ্য অনুযায়ী, দুই বোন একত্রে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের মালিক।
৯. আড়ালেই থাকতে পছন্দ
আজকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম–নির্ভরতার খ্যাতির যুগে অলসেন বোনেরা ব্যতিক্রম। তাঁরা খুব কম সাক্ষাৎকার দেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সক্রিয় নন। ব্যক্তিগত জীবনকে আড়ালে রেখেই ব্যবসা ও সৃজনশীল কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
১০. তাঁদের আলোচিত উক্তি
অলসেন বোনেরা একদম সাধারণ জীবনযাপন করেন। মেরি-কেট ও অ্যাশলি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘প্রতিদিনের ছোট ছোট বিষয় থেকে আনন্দ খুঁজে পাওয়াটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’ তাঁরা নতুন কিছু শিখতেও পছন্দ করেন। কেট মনে করেন, ‘আমরা আসলে খুব একটা মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হতে পছন্দ করি না। ’