রাজনীতিক শোয়ার্জেনেগারকে মানতে পারেননি সন্তানেরা

আর্নল্ড শোয়ার্জেনেগারের ধারণা ছিল, সন্তানদের কাছে সব সময়ই তিনি হিরো। যা করবেন, তা–ই তাঁরা ভালোবাসবেন। কিন্তু ঘটনা হয়েছিল উল্টা। অভিনেতা থেকে তাঁর নেতা বনে যাওয়াটা ভালোভাবে নেননি তাঁরা। এ কারণে ঘরের লোকেদের কাছে জনপ্রিয়তাও হারিয়েছিলেন শোয়ার্জেনেগার। বাবা দিবসে বড় মেয়ে ক্যাথরিনের ইনস্টাগ্রাম শোয়ে নিজেই এ কথা স্বীকার করলেন এই অভিনেতা।

আর্নল্ড শোয়ার্জেনেগার। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

২০০৩ থেকে ২০১১ সাল—দুই দফা ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর ছিলেন আর্নল্ড। সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেন, অভিনেতা থেকে গভর্নর হওয়ায় একদম খুশি হননি ছেলেমেয়েরা। প্রথম কারণ, সপরিবার তাঁদের হলিউড ছেড়ে স্যাক্রামেন্টোতে চলে যেতে হয়েছিল। মেয়ের অনুষ্ঠানে বাবা শোয়ার্জেনেগার বলেন, ‘আমার আসলে এখন সবাইকে জানানো উচিত যে আমি গভর্নর হওয়ায় বাচ্চারা বিরক্ত হয়েছিল। ভেবেছিলাম, গভর্নর হলে তোমরা বরং আমাকে নিয়ে গর্ব করবে। ভেবেছি, তোমরা আমার অভিনয়জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছ। কিন্তু এটা বুঝিনি যে তোমরা আসলে আমার অভিনয়জীবনের সঙ্গে ভালোবেসে জড়িয়ে গিয়েছিলে।’

মেয়ে ক্রিস্টিনার সঙ্গে শোয়ার্জেনেগার। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

শোয়ার্জেনেগার বলছিলেন, শুটিং সেটে যাওয়ার জন্য কীভাবে ছেলেমেয়েরা তড়িঘড়ি করে সব কাজ শেষ করতেন। বিশেষ করে যেদিন বিরাট কোনো বিল্ডিং উড়িয়ে দেওয়া বা মারপিটের দৃশ্যের শুটিং করার কথা। তিনি বলেন, ‘এটাই ছিল তোমাদের বিনোদন। স্কুল ছুটি হলেই তোমাদের মাথায় থাকত, বাবার শুটিং দেখতে যেতে হবে।’ এ রকম এক পরিস্থিতিতে হলিউড ছেড়ে যেতে হবে শুনে ছেলেমেয়েরা বলেই বসেছিলেন, ‘কী বিচ্ছিরি একটা কাজ শুরু করতে যাচ্ছ!’

শোয়ার্জেনেগার ছেলে প্যাট্রিকের সঙ্গে। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

সন্তানেরা পছন্দ না করলেও এই অভিনেতার ইচ্ছা ছিল, দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজ্যটিকে আরও সুন্দর করে তুলবেন। তিনি বলেন, ‘সে কারণেই তো একটা পেশা ছেড়ে আরেকটা পেশায় গিয়েছিলাম।’ গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তাঁকে সহযোগিতার জন্য সাবেক স্ত্রী মারিয়া শ্রিভারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন শোয়ার্জেনেগার। ১৯৮৬ সালে বিয়ের পর তাঁদের সংসার টিকেছিল ২০১৭ সাল পর্যন্ত। তাঁদের সন্তানেরা হলেন ক্যাথরিন, প্যাট্রিক, ক্রিস্টোফার ও ক্রিস্টিনা। এ ছাড়া জোসেফ বেনা নামের আরও এক সন্তানের বাবা শোয়ার্জেনেগার।

শোয়ার্জেনেগার প্রথমে বডি বিল্ডার হিসেবে পরিচিতি ও খ্যাতি পেয়েছিলেন। ছবি: ইনস্টাগ্রাম