তারকাদের এই ব্যস্ততায় প্রভাব নাটকে পড়েছে। সম্প্রতি এনটিভিতে প্রচার শুরু হয়েছে ধারাবাহিক চিরকুমার সংঘ। নাটকটিতে আরও একাধিক পরিচিত মুখ দরকার ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে অনেককেই পাননি তুহিন হোসেন। এই পরিচালক বলেন, ‘তারকারা আগেই জানতে চান, ওটিটির কাজ কি না। ধারাবাহিক হলে তো অনেকের সঙ্গে কথাই বলা যায় না। কাজের পরিধি বাড়ার কারণে শিল্পীসংকট প্রকট। শুধু ফেসবুক অনুসারী দেখে নয়, যেসব মেধাবী অভিনয়শিল্পী রয়েছেন, তাঁদের সুযোগ করে দিতে হবে। তাহলে নাটক থেকেই অভিনয়শিল্পী তৈরি হবে। না হলে এই সংকট আরও বাড়বে।’

আগে মাসে ১২টির মতো নাটকে অভিনয় করতেন জোভান। বর্তমানে করেন ৬টি। জোভান বলেন, ‘এখন কাজের মাধ্যম বেশি। প্রতিযেগিতা বেশি। যে কারণে গুণমান ধরে রাখাটা জরুরি। সব গল্পে কাজ করছি না। ৬০ থেকে ৭০ ভাগ পরিচালককেই না বলতে হচ্ছে। মানসম্পন্ন কাজ বাড়ানোর জন্যই এটা করতে হচ্ছে।’ সাবিলা নূরও এর আগে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, ওটিটির দিকে নজর দিচ্ছেন তিনি। ঈদে হয়তো হাতে গোনা কিছু নাটকে অভিনয় করবেন। খাইরুল বাসার জানান, তিনিও টিভিতে কাজ কমিয়ে দিয়েছেন। সামনে ওটিটিতেই তাঁকে বেশি দেখা যাবে।

শিল্পীসংকট প্রসঙ্গে পরিচালক সালাউদ্দিন লাভলু বলেন, ‘ইদানীং কাজ করতে গিয়ে এই সমস্যা দেখতে পাচ্ছি। বেশির ভাগ তারকা ওটিটিমুখী, ক্ষেত্র বিশেষে একক নাটকে করছেন। আমাদের দেশে সেই অর্থে ভালো অভিনেতার সংখ্যা খুব বেশি না। যাঁরা আছেন, নাটকের প্রতি তাঁদের একধরনের অনীহা রয়েছে। তা ছাড়া একজন বা দশজনের ওপর পুরো ইন্ডাস্ট্রির নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এখন চ্যানেলকে নমনীয় হতে হবে। তাঁরা যদি নতুনদের নিয়ে কাজ করার ব্যাপারে উৎসাহী হন, তাহলে অভিনয়শিল্পীর সংকট নিরসন করা সম্ভব।’

তবে পরিচালক মোস্তফা কামাল রাজ ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, ‘অভিনয়শিল্পীর সংকট সেভাবে নেই। কিছু অভিনয়শিল্পীর ওটিটি বা সিনেমায় ব্যস্ততার কারণে এখন সবাইকে শিডিউল দেন না। এ জন্য মনে হয় শিল্পীসংকট। এমন তারকানির্ভরতা সব সময়ই ছিল। নতুনদের মধ্যে যাঁরা ভালো অভিনয় করেন, তাঁদের এখন সুযোগ করে দিতে হবে।’

অভিনয়শিল্পী–সংকটের কথা স্বীকার করলেন অভিনেতা মামুনুর রশীদ। তিনি মনে করেন, এখন শিল্পী তৈরিতে জোর দেওয়া প্রয়োজন। কারণ, ফেসবুক, টিকটকে অনুসারী থাকলেই অভিনয়শিল্পী হওয়া যায় না। এর জন্য নতুনদের চর্চার মাধ্যমে এগোতে হবে। গুণী এই অভিনেতা বলেন, ‘অভিনয়শিল্পী তৈরিতে আগে ভূমিকা রাখত গ্রুপ থিয়েটার। এখনো রাখছে। খ্যাত বলি অখ্যাত বলি, অনেকেই থিয়েটার থেকে যাচ্ছেন। কিন্তু যথাযথ প্রশিক্ষণটা হচ্ছে কি না, সেটা বিবেচ্য বিষয়।’

থিয়েটার ছাড়াও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিনয় নিয়ে পড়ানো হচ্ছে, তারা অভিনয়শিল্পী তৈরিতে কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারছে? এমন প্রশ্নে মামুনুর রশীদ বলেন, ‘শুরুতে যখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অভিনয় নিয়ে পড়াশোনা চালু হলো, তখন আমরা আশাবাদী হয়েছিলাম। আমাদের অনেক প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু অভিনয়ে এসব স্কুলিং থেকে শিক্ষার্থীরা তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না। এসব শিক্ষার্থীদের ইনটার্নশিপ হিসেবে সরাসরি অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে আরও বেশি দক্ষ অভিনয়শিল্পী পাওয়া যেত। কারণ, শিক্ষার্থীরা অভিনয় শিক্ষার ওপর পড়াশোনা করে বিসিএস বা চাকরির পেছনে দৌড়ায়।’ ঈদের মতো বড় উৎসবে শিল্পীসংকটের বিষয়টি আরও ভালোভাবে বোঝা যাবে, মনে করেন অনেক প্রযোজক। শিল্পীসংকটে নাটকের সংখ্যা কমে যাবে বলে মনে করেন সাজু মুনতাসির।