‘দেশে যেন শান্তি আসে, মানুষ যেন ভালো থাকে’
রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছেন অভিনয়শিল্পী, নির্মাতা ও গায়ক-গায়িকারা। ভোট দেওয়ার মুহূর্তের ছবি ও অনুভূতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন তাঁরা। ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি নিয়ে প্রথম আলোর প্রতিবেদকদের সঙ্গেও তারকাদের কথা হয়েছে। সংসদ নির্বাচনে তারকাদের ভোটদান নিয়ে এই বিশেষ আয়োজন।
‘নাগরিক হিসেবে আমার দায়িত্ব পালন শেষ করেছি। একটি আরও ভালো বাংলাদেশের প্রত্যাশায়। আপনি আপনার ভোট দিয়েছেন?’ গতকাল দুপুরের দিকে ভোট দিয়ে কথাগুলো ফেসবুকে লিখেছেন অভিনেত্রী মাসুমা রহমান নাবিলা। তাঁর সঙ্গে একমত প্রকাশ করে অভিনেত্রী সাফা কবির লিখেছেন, ‘একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি আমার ভোট দিয়েছি।’
সকাল থেকেই রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকার ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছেন অভিনয়শিল্পী ও গায়ক-গায়িকাসহ সাংস্কৃতিক কর্মীরা। ভোট দেওয়ার মুহূর্তের ছবি ও অনুভূতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে নাগরিক দায়িত্ব পালনের বার্তাও দিয়েছেন কেউ কেউ। এর মাঝে কেউ প্রথমবার ভোট দিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। কেউ দীর্ঘ ১৭ বছর পরে ভোট দিয়েছেন। ভোট নিয়ে তারকাদের মাঝে গতকাল দিনভর বেশ আগ্রহ লক্ষ করা গেছে।
অভিনেতা আবুল হায়াত ঢাকা-৮ আসনের ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। ১৭ বছর পরে ভোট দিয়ে তিনি খুশি। প্রথম আলোকে এই অভিনেতা বলেন, ‘এবারের নির্বাচনের পরিবেশ ভালো এবং সুন্দর। যোগ্য প্রার্থীরা ভোটে জয়ী হোক, এটাই চাই। জেনুইন একটা পার্টি সরকার পরিচালনায় এলে অনেক কিছুই ঠিক হবে।’
দুপুরে গুলশান মডেল হাইস্কুল ও কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে এসেছিলেন তিন বোন সুচন্দা, ববিতা ও চম্পা। ভোট শেষে দেশ নিয়ে তাঁদের প্রত্যাশার কথা জানান এই অভিনয়শিল্পীরা। ববিতা প্রথম আলোকে বলেন, ‘সব প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে, দেশ উন্নয়নের শিখরে পৌঁছে যাক। এটাই আমাদের চাওয়া। আমরা শিল্পী, আমাদের চাওয়া থাকবে চলচ্চিত্রের জন্য সুন্দর পরিবেশ। সিনেমা হল তৈরি হোক। সিনেমার জন্য সরকার অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেবে, সেটাই প্রত্যাশা।’
ঢাকা–১৭ আসনের ভোটার ব্যান্ড তারকা মাহফুজ আনাম জেমস। বেলা সাড়ে তিনটায় বারিধারা স্কলার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভোট দেন তিনি।
ভোট দিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘খুবই স্মুথ সব। এলাম, স্লিপ নিলাম, ভোট দিলাম, সুন্দর। কোনো ঝামেলা নেই। সুন্দর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াই দেশ। সামনে যে আসবে, এ ধারা যেন অব্যাহত থাকে। দেশে যেন শান্তি আসে, দেশের মানুষ যেন ভালো থাকে।’
ভোট দিতে তারকাদের কেউ কেউ ঢাকা শহরে ছেড়েছেন। নওগাঁয় নিজের গ্রামের বাড়িতে ভোট দিয়েছেন মনোজ প্রামাণিক। ভোট দিয়ে ফেসবুকে এই অভিনেতা লিখেছেন, ‘আমারে যেড্যাত ভোট দিলে কাজ হোবে, সেড্যাত ভোট দিমু।’
তরুণ গায়িকা পারশা মাহজাবিন বগুড়া অঞ্চলের ভোটার। ঢাকা থেকে দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টার যানজট পেরিয়ে বগুড়া গিয়ে জীবনের প্রথম ভোট দিয়েছেন তিনি। ভোট দিয়ে বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, ভোটদান কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি গণতান্ত্রিক কাঠামোর প্রতি নাগরিকের প্রত্যক্ষ অঙ্গীকার। ব্যক্তিগত অসুবিধা বা দূরত্ব এই দায়িত্ব পালনের পথে আমার জন্য প্রতিবন্ধক হতে পারে না।’
আজমেরী হক বাঁধন, ইমতিয়াজ বর্ষণ, আশফাক নিপুনসহ অনেকেই ফেসবুকে ছবি পোস্ট করে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
বাঁধন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ঢাকা–১৬ আসনের ভোটার। বাবা–মাকে নিয়ে ভোট দিয়েছি। আমি একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন দেখছি। এভাবেই একটি গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচিত হয়ে দেশ গঠনে কাজ করবে। সকল ধর্ম–বর্ণের জন্য একটি নিরাপদ দেশ হবে, সেটাই প্রত্যাশা। আগামীর বাংলাদেশ একটি সাম্যের দেশ হবে। এখানে সবাই সবার অধিকার বুঝে পাবে।’
‘২৪–এর জুলাইয়ের উত্তাল দিনগুলোর কথা মনে পড়ছে। যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে এই নির্বাচন, তাঁদের শ্রদ্ধার স্মরণ করছি,’ ভোট দেওয়ার পর এ কথাই প্রথম আলোকে বললেন ইমতিয়াজ বর্ষণ। তিনি আরও বলেন, ‘এক বছর আগে ভোট দিতে গিয়েছিলাম। তখন বুথের ভেতর দুজন সরকারি দলের কর্মী এসে আমাকে সাজেশন দিচ্ছিল কীভাবে ভোট দেব। এরপর আর ভোট দেওয়ার কোনো আগ্রহ বোধ করিনি। এবার কেউ সাজেশন দিতে আসে নাই। নির্বিঘ্নে–নিশ্চিন্তে ভোট দিতে পেরেছি।’
আশফাক নিপুন ভোট দেওয়া শেষে বলেন, ‘সকাল সাড়ে সাতটায় কেন্দ্রে গিয়েছিলাম। লাইন বেশি থাকায় আমার পালা আসে ৮টা ১০ মিনিটে। খুব সুন্দর পরিবেশ, ভোটাররা উৎসাহী, কর্মকর্তারাও খুব আন্তরিক—ভোট দিতে পেরে ভালো লাগছে।’
বাবা–মা এবং স্ত্রীকে নিয়ে ভোট দিতে পেরে খুশি মডেল নোবেল। জানালেন, এবারের ভোট নিয়ে তাঁর বাবা–মায়ের আগ্রহ ছিল বেশি। ‘আব্বার বয়স ৯১ বছর। আম্মারও কাছাকাছি। দুজনের হাঁটতে কষ্ট হয়। চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু দেখলাম, এই বয়সেও বাবা–মা দোতলায় উঠে আনন্দের সঙ্গে ভোট দিয়েছেন। মানুষকে স্বাধীনভাবে কোনো কিছু করতে দেওয়া—এটাই কিন্তু স্বাধীনতা। প্রত্যাশা একটাই, মানুষ যেন সম্মান পায়, বাক্স্বাধীনতা যেন থাকে, সবাইকে সবার ভালো কাজটা করতে দিতে হবে।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে শিল্প–সংস্কৃতি অঙ্গনের প্রবীণ–নবীন সবার মাঝেই ছিল উচ্ছ্বাস। কেউ কেউ ভোট শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোট দিয়েছেন। কেউ দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে দিয়েছেন। ভোট দেওয়ার তালিকায় আরও আছেন ওমর সানী, অপূর্ব, অনন্ত জলিল, বর্ষা, তমা মির্জা, প্রভা, মুমতাহিনা টয়া, সুনেরাহ্ বিনতে কামাল, কেয়া পায়েল, আইশা খান প্রমুখ।