এআইয়ে চিত্রনায়ক জসীম, ছবি দেখে কী বললেন ছেলে

পুরু গোঁফ, পরিপাটি কেশবিন্যাস, রোদচশমা আর বোতামখোলা শার্টে স্টাইলিশ ভঙ্গিতে ধরা দিলেন প্রয়াত চিত্রনায়ক জসীম। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) তৈরি করা ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এক সমুদ্রসৈকতে গাড়ির চালকের আসনে খোশমেজাজে দেখা গেছে জসীমকে। এআইয়ে ছবিটি তৈরি করেছেন আবদুর রউফ নামের এক ডিজাইনার। গত শুক্রবার ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন তিনি। ছবিটি দেখে প্রশংসা করছেন জসীমের অনুরাগীরা। অনেকে লিখেছেন, ‘দুর্দান্ত লাগছে।’

এআইয়ে ছবিটি তৈরি করেছেন আবদুর রউফ নামের এক ডিজাইনার
ফেসবুক থেকে

ছবিটি জসীমের ছেলে গিটারিস্ট, ড্রামার ও সুরকার এ কে রাহুলের নজরে এসেছে। বাবার ছবি ফেসবুকে শেয়ার করে রাহুল লিখেছেন, ‘চমৎকার হয়েছে।’
ছিলেন খলনায়ক। তারপর ঘটনাচক্রে নায়ক হলেন। নায়ক হিসেবেই পরিচিতি, জনপ্রিয়তা। তাঁর একটি বড় পরিচয়, তিনি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৯৮ সালের ৮ অক্টোবর মারা যান চিত্রনায়ক জসীম।
১৯৫০ সালের ১৪ আগস্ট ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বক্সনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জসীম। তাঁর আসল নাম আবদুল খায়ের জসীম উদ্দিন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধে একজন সৈনিক হিসেবে ২ নম্বর সেক্টরে মেজর হায়দারের নেতৃত্বে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেন।

জসীম অভিনয় শুরু করেন ‘দেবর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে, ১৯৭২ সালে। ১৯৭৩ সালে জসীম প্রয়াত জহিরুল হকের ‘রংবাজ’ ছবিতে খলনায়ক চরিত্রে অভিনয় করেন। এ ছবিতে তিনি চলচ্চিত্র পরিচালকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হলেও মূল পরিচিতি পান দেওয়ান নজরুল পরিচালিত ‘দোস্ত দুশমন’ চলচ্চিত্রে খলনায়ক চরিত্রে অভিনয় করে।
কয়েক বছর পর সুভাষ দত্তের পরিচালনায় ‘সবুজ সাথী’ সিনেমায় প্রথম নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন জসীম। এটি জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর খলনায়ক হিসেবে আর অভিনয় করেননি তিনি। বরং তিনি শোষিত, নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন পর্দায়। এই চলচ্চিত্রে তিনি নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন এবং মৃত্যুর আগপর্যন্ত নায়ক হিসেবেই অভিনয় করেছেন।

বাবার স্মৃতিচিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছেন জসীমের তিন ছেলে—এ কে রাহুল, এ কে রাতুল এবং এ কে সামী
কোলাজ

জসীম প্রায় ২০০ সিনেমায় অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো ‘তুফান’, ‘জবাব’, ‘নাগ-নাগিনী’, ‘বদলা’, ‘বারুদ’, ‘সুন্দরী’, ‘কসাই’, ‘লালু মাস্তান’, ‘নবাবজাদা’, ‘অভিযান’, ‘কালিয়া’, ‘বাংলার নায়ক’, ‘গরীবের ওস্তাদ’, ‘ভাইবোন’, ‘মেয়েরাও মানুষ’, ‘পরিবার’, ‘রাজাবাবু’, ‘বুকের ধন’, ‘স্বামী কেন আসামী’ ইত্যাদি।
জসীমের প্রথম স্ত্রী ছিলেন নায়িকা সুচরিতা। পরে তিনি ঢাকার প্রথম সবাক ছবির নায়িকা পূর্ণিমা সেনগুপ্তার মেয়ে নাসরিনকে বিয়ে করেন।
জসীমের তিন ছেলে—এ কে রাহুল, এ কে রাতুল ও এ কে সামী। বাবার পথ ধরে অভিনয়ে নাম লেখাননি তাঁরা, তিনজনই কাজ করছেন সংগীতজগতে।

আরও পড়ুন