প্রথমবারে মতো চরকির সঙ্গে কাজ করলেন সঞ্জয় সমদ্দার। নির্মাতা বলেন, ‘অসাধারণ এক যাত্রার গল্প দাগ। গল্পটাকে সুন্দরভাবে পর্দায় তুলে আনতে সবাই মিলে চেষ্টা করেছি। এই গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র কে—তা আসলে গল্প না দেখা পর্যন্ত বলা যাবে না। এই গল্পে নায়ক সামাজিক ইস্যু। আশা করছি, দর্শককে ভালো কিছুই দিতে পারব।’
সিনেমার নামকরণ নিয়ে সঞ্জয়ের ভাষ্য, ‘নির্দিষ্ট কোনো দাগকে বোঝাইনি। এখানে সমাজের বাধাগুলোকে বোঝাতে চেয়েছি। যে বাধাগুলো আমরা এখনো পেরোতে পারিনি। আমি বিশ্বাস করি, পরিবার ও সমাজের সবাই সচেতন হলে আমরা এই বাধা পেরোতে পারব।’

এতে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম, চরকির সঙ্গে তাঁরও এটি প্রথম কাজ। সিনেমাটি নিয়ে তিনি বলেন, ‘দাগ আমরা কেউ রাখতে চাই না। আমরা সবাই দাগ মুছে ফেলতে চাই। আমরা হয়তো অনেক দূর এগিয়েছি, অনেক ধরনের দাগ মুছে ফেলছি। কিন্তু এখনো এমন কিছু দাগ আছে, যেগুলো আমরা মুছে ফেলতে পারতাম কিন্তু মুছিনি। সেই মুছতে না পারা দাগগুলোর গল্পই হলো দাগ।’
পুরান ঢাকা, সদরঘাট, হলি ফ্যামিলি হাসপাতালসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় এ সিনেমার দৃশ্যধারণ করা হয়েছে। এতে আরও অভিনয় করেছেন আইশা খান, নিশাত প্রিয়ম।

আইশা বলেন, ‘আমার চরিত্রটিকে নিয়ে চলাটাই বড় চ্যালেঞ্জ ছিল আমার কাছে। ওর অনুভূতি, ওর মনের অবস্থার সঙ্গে ব্যক্তি আইশাকে ভুলে থাকার চেষ্টা করেছিলাম শুটিংয়ের সময়।’
অভিনেত্রী নিশাত প্রিয়ম বলেন, ‘দর্শক হিসেবে আসলে এ ধরনের গল্পই দেখতে চাই। সেই সঙ্গে মোশাররফ ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করাটাও খুব ভালো লাগার। সেটে কিছু বুঝতে না পারলে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেই সব খুব সহজ করে বুঝিয়ে দেন। পরিচালক, চিত্রগ্রাহক সর্বোপরি পুরো টিমের সঙ্গে কাজ করে খুব আনন্দ পেয়েছি।’

অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে নির্মাতা সঞ্জয় বলেন, ‘মোশাররফ করিমের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা বরাবর আমার জন্য আনন্দের। সেই সঙ্গে অন্য যাঁরা ছিলেন, তাঁরা সবাই খুব দুর্দান্ত কাজ করেছেন। তবে আইশা খানের কথা আমাকে আলাদাভাবে বলতেই হবে। তিনি আমাকে মুগ্ধ করেছেন। সেই সঙ্গে অন্য অভিনেতারাও নিজেদের জায়গা থেকে সেরাটা দিয়েছেন।’
চরকির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি বলেন, ‘বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটের কিছু দিক নিয়েই তৈরি হয়েছে দাগ। দারুণ গল্প, সেই সঙ্গে কিছু মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রমে দাগ নির্মিত হয়েছে। এখন শুধু অপেক্ষা এটা দেখা যে দাগ দর্শকের মনে কতটা দাগ কাটতে পারে।’

মুহাম্মদ আবু রাজীনের গল্প এবং কল্লোল কবিরের চিত্রনাট্যে ও সংলাপে নির্মিত এ সিনেমার নির্বাহী প্রযোজকের দায়িত্বে ছিলেন শিব্বির আহমেদ। চিত্রগ্রহণে ছিলেন রাজু রাজ, সংগীতায়োজনে আছেন জাহিদ নিরব।
এতে আরও অভিনয় করেছেন সাবেরী আলম, এ কে আজাদ সেতু, সমু চৌধুরী, মিলি বাশার, আনিসুল হক বরুন, নরেশ ভূঁইয়া, শিল্পী সরকার অপু, জাহিদ হোসাইন শোভন, খন্দকার লেনিন (অতিথি শিল্পী), লাবণ্য বিন্দু, নাদিয়া হক, আইনূন পুতুল, ফয়সাল দীপ, আসাদুজ্জামান আসাদ, শামীমা তুষ্টি, নাদিয়া হক, আলম সোহাগ, রেশমা আহমেদ, পারভেজ সুমন, এ কে এম আবদুর রাজ্জাক প্রমুখ।