৯০ সেকেন্ডের কনটেন্টে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ! মাইক্রোড্রামা কি বাংলাদেশেও সাফল্য পাবে
এই সময়ের আলোচিত এক তরুণ অভিনেতার খুদে বার্তা, ‘মাইক্রোড্রামার প্রস্তাব পেয়েছি। এখন তো সময়টা ভালো যাচ্ছে, এ ধরনের কনটেন্ট করা কি ঠিক হবে?’ উত্তরে এই প্রতিবেদক যখন তাঁকে মাইক্রোড্রামা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় চলছে—এমন খবরের লিংক পাঠালেন, তখন তাঁর বিস্ময়ভরা উত্তর, ‘এবার তো তাহলে নতুন করে ভাবতে হবে।’ কেবল তিনিই নন, মুঠোফোনে দেখার জন্য নির্মিত এই মাইক্রোড্রামা বা ভার্টিক্যাল ড্রামা কনটেন্ট নির্মাতা থেকে প্রযোজক—সবাইকেই নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। সেটা এতটাই যে ভারতে প্রযোজনা সংস্থাগুলো মাইক্রোড্রামা খাতে বিপুল বিনিয়োগও করেছে। বাংলাদেশে কী অবস্থা?
কী এই মাইক্রোড্রামা
একসময় সিনেমা মানেই ছিল প্রেক্ষাগৃহ। টেলিভিশন মানেই ছিল দীর্ঘ ধারাবাহিক। কিন্তু সেই ধারণা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। চীনে মাত্র ৬০ থেকে ১২০ সেকেন্ডের ছোট ছোট পর্বে নির্মিত ‘ভার্টিক্যাল মাইক্রোড্রামা’ বা দুয়ানজু এমন এক শিল্পে পরিণত হয়েছে, যার বাজারমূল্য এখন প্রায় সাড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার। চীনের পুরো চলচ্চিত্র বক্স অফিসের চেয়েও বেশি আয় করছে এখন এই খাত। এই সাফল্য শুধু চীনেই সীমাবদ্ধ নয়, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মও এখন একই পথে হাঁটার চেষ্টা করছে। মাইক্রোড্রামার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর গঠন। একটি সিরিজে সাধারণত ৮০ থেকে ১০০টি পর্ব থাকে। প্রতিটি পর্বের দৈর্ঘ্য এক থেকে দুই মিনিট। পুরো গল্পই বলা হয় মুঠোফোনের ৯:১৬ ভার্টিক্যাল স্ক্রিন মাথায় রেখে। প্রতিটি পর্ব শেষ হয় এমন একমুহূর্তে, যা দর্শককে পরের পর্ব দেখতে বাধ্য করে। এই ‘ক্লিফহ্যাঙ্গার’ কৌশলই মাইক্রোড্রামার সবচেয়ে বড় শক্তি। প্রথাগত টেলিভিশন সিরিজ বা সিনেমা যেখানে তৈরি হতে কয়েক মাস সময় নেয়, সেখানে অনেক মাইক্রোড্রামা মাত্র ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে লেখা, শুটিং ও সম্পাদনা শেষ করে মুক্তি দেওয়া হয়। চীনের বিভিন্ন শহরে এখন গড়ে উঠেছে বিশেষ ধরনের ইনডোর স্টুডিও, যেগুলো ‘শুডিয়ান’ নামে পরিচিত। একই ভবনের ভেতরে রয়েছে হাসপাতাল, অফিস, রেস্তোরাঁ, বাড়ি—বিভিন্ন সেট। ফলে ইউনিটকে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে হয় না। সময় ও ব্যয় দুই-ই কমে যায়।
চীন থেকে যেভাবে ছড়িয় পড়ল
২০২০ সালে চীনের মাইক্রোড্রামাশিল্পের বাজার ছিল মাত্র ১ বিলিয়ন ইউয়ান (প্রায় ১৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার)। অনেকেই তখন একে সাময়িক অনলাইন বিনোদন বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। ২০২৫ সালে বাজারটি ১০০ বিলিয়ন ইউয়ান অতিক্রম করে। বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস, চলতি বছর এর আকার দাঁড়াবে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ইউয়ান, অর্থাৎ প্রায় ১৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে দর্শকের অভ্যাসে। মানুষ এখন দুই ঘণ্টার সিনেমা দেখার সময় বের করার বদলে বাসে, মেট্রোতে, অফিসের বিরতিতে কিংবা লাইনে দাঁড়িয়ে কয়েক মিনিটের নাটক দেখে নিচ্ছে।
এ ধরনের কনটেন্টের গল্প খুব একটা জটিল নয়; বরং পরিচিত ফর্মুলাই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। এর মধ্যে রয়েছে সাধারণ মানুষ হঠাৎ ধনী বা ক্ষমতাবান বলে প্রকাশ পাওয়া, প্রতিশোধের গল্প, প্রেম ও পারিবারিক দ্বন্দ্ব, লুকিয়ে থাকা পরিচয়, কর্মক্ষেত্রের অপমানের প্রতিশোধ ইত্যাদি। একসময় এসব গল্পকে একঘেয়ে বলা হলেও বড় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান, অভিজ্ঞ পরিচালক ও পরিচিত অভিনয়শিল্পীরা যুক্ত হওয়ায় এখন নির্মাণমান অনেক উন্নত হয়েছে।
চীনের মাইক্রোড্রামাশিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এখন প্রায় প্রতিটি ধাপেই ব্যবহৃত হচ্ছে। এআই দিয়ে দর্শকের পছন্দ বিশ্লেষণ করা হয়, তৈরি হয় গল্পের ধারণা, লেখা হয় চিত্রনাট্যের খসড়া, স্টোরিবোর্ড তৈরি করা হয়, ডাবিং ও অনুবাদ করা হয়, বিভিন্ন ভাষার ভয়েস ক্লোনিং করা হয়। ফলে যেসব কাজ করতে আগে কয়েক সপ্তাহ লাগত, এখন কয়েক দিনের মধ্যেই শেষ করা সম্ভব হচ্ছে।
হিন্দুস্তান টাইমস–এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনে এখন প্রতি ৯০ সেকেন্ডে একটি নতুন এআইনির্ভর মাইক্রোড্রামা প্রকাশিত হচ্ছে। শুধু গত মার্চেই চীনের জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম দৌইন (টিকটকের চীনা সংস্করণ)-এ প্রায় ৫০ হাজার নতুন এআইনির্ভর ড্রামা আপলোড হয়েছে। মাইক্রোড্রামার দ্রুত বিস্তারের পর চীনের ন্যাশনাল রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এই শিল্পের জন্য আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা চালু করেছে।
একসময় যাকে ‘সস্তা মোবাইল ভিডিও’ বলা হতো, সেটিই আজ চীনের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল বিনোদনশিল্প। ১৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের বাজার, প্রায় ৬৬ কোটি ব্যবহারকারী, এআইনির্ভর দ্রুত উৎপাদন এবং স্মার্টফোনকেন্দ্রিক দর্শক—সব মিলিয়ে মাইক্রোড্রামা বিনোদনশিল্পের ভবিষ্যৎ নতুন করে লিখতে যাচ্ছে।
ভারতেও ঝড়
চীন, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশ পেরিয়ে এই কনটেন্ট এখন ভারতেও বিপুল জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিনিয়োগ সংস্থা লুমিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে এই বাজার এখন ৩০ কোটি ডলারের (প্রায় ৩০০ মিলিয়ন) এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তা বেড়ে ৪৫০ কোটি ডলার (৪.৫ বিলিয়ন) হতে পারে। সংস্থাটি এটিকে ভারতের ‘সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল বিনোদন মাধ্যম’ বলছে।
ভারতে এই ট্রেন্ড শুরু হয় ২০২৪ সালের দিকে। কুকু ও রিলাইজের মতো স্টার্টআপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে দর্শক টানতে শুরু করে। শুরুতে এটাকে অনেকেই সাময়িক মনে করলেও এখন চিত্র বদলাচ্ছে। ভারতের বড় বড় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানও ঝুঁকছে এই খাতে। জি এন্টারটেইনমেন্ট এন্টারপ্রাইজেজ ও বালাজি টেলিফিল্মস ইতিমধ্যে মাইক্রোড্রামা তৈরিতে অংশীদারত্ব ঘোষণা করেছে। এদিকে এশিয়ার অন্যতম ধনী ব্যবসায়ী মুকেশ আম্বানির মালিকানাধীন জিওস্টার গত এপ্রিল মাসে চালু করেছে ‘তাড়কা’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে ইতিমধ্যে শতাধিক শো রয়েছে।
শোনা যাচ্ছে, যশরাজ ফিল্মস ও রেড চিলিজ ইন্টারটেইনমেন্টের মতো বড় প্রতিষ্ঠানও বিনিয়োগের কথা ভাবছে। গণমাধ্যম বিশ্লেষক বানিতা কোহলি খান্ডেকার এ প্রসঙ্গে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, ‘ডিজনি বা ওয়ার্নার ব্রাদার্স যদি সিনেমা থেকে থিম পার্ক—সব জায়গায় থাকতে পারে, তাহলে বড় সংস্থাগুলোর মাইক্রো ড্রামায় আসাটাও স্বাভাবিক।’
ভারতে একটি ৫০ পর্বের মাইক্রোড্রামা বানাতে খরচ হয় প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ রুপি। অর্থাৎ একটি ব্লকবাস্টার সিনেমার বাজেটে বানানো যায় এক ডজনের বেশি ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য’ মাইক্রোড্রামা। কুকু প্ল্যাটফর্মের গগন গোয়েল বলছেন, ‘মানুষ এই কনটেন্টের জন্য টাকা দিচ্ছে।’ প্ল্যাটফর্মটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী লাল চাঁদ বিসুর মতে, ‘সিনেমা হলের পর ভিডিও কনটেন্টের এটি চতুর্থ বিবর্তন-মোবাইলবান্ধব প্রিমিয়াম কনটেন্ট।’
মুম্বাইভিত্তিক আরেকটি প্ল্যাটফর্ম ক্লিপের প্রধান নির্বাহী পরিচালক ভিকি বাহরি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, ‘অনেকেই চীনা বা কোরিয়ান শোর রিমেক করছে, কিন্তু ভবিষ্যতের জন্য শক্তিশালী আইপি গড়তে আমরা মৌলিক গল্প তৈরি করছি।’ ভিকি বাজেট বাড়িয়ে ২০ থেকে ৪০ লাখ রুপি পর্যন্ত নিয়ে গেছেন, পরিচিত অভিনেতাদেরও যুক্ত করছেন। কুকুও তাদের বাজেট বাড়াচ্ছে।
বাংলাদেশে কী অবস্থা?
বিশ্বজুড়ে মাইক্রোড্রামা নিয়ে এই জোয়ারের মধ্যেই চলতি বছর বাংলাদেশে মুক্তি পায় ‘সিলভার সাদিয়া’। সিনেমাওয়ালার ফেসবুক পেজে মাইক্রোড্রামাটি মুক্তি পায় গত ১৪ মে। এতে অভিনয় করেছেন সাদিয়া আয়মান, অ্যালেন শুভ্র, ফারজানা ছবি, কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাফসান দ্য ছোট ভাইসহ পরিচিত তারকারা। ১৫ পর্বের ড্রামাটির প্রতিটি পর্বের দৈর্ঘ্য তিন মিনিট। গল্পে উঠে এসেছে নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের মাদ্রাসাপড়ুয়া এক তরুণীর জীবন, যার ভেতরে গোপনে বেড়ে উঠেছিল গেমিংয়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা।
‘সিলভার সাদিয়া’র নির্মাতা মিরাজ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও এ ধরনের কনটেন্টের বড় বাজার রয়েছে। কিন্তু এ জন্য দরকার যথাযথ পরিকল্পনা। তাঁর ভাষ্যে, ‘এটার (মাইক্রোড্রামা) প্রভাব তৈরি করতে হলে প্রচুর কনটেন্ট দরকার। কারণ, দর্শককে আগে অভ্যস্ত করতে হবে। দর্শককে বোঝাতে হবে আপনি, যেভাবে ভার্টিক্যালি ফোনে কাজ করেন, সেভাবেই এ ধরনের কনটেন্ট দেখা সম্ভব। খুব ভালো হতো যদি “সিলভার সাদিয়া”র পর আরও কিছু কনটেন্ট আসত। এ জন্য আসলে বড় পরিকল্পনা আর বিনিয়োগ দরকার।’
চলতি বছরই দীপ্ত প্লেতে মুক্তি পায় মাইক্রোড্রামা লাভ রিউনিয়ন: দ্য ম্যারিড মাদার্স টেল(অসমাপ্ত সম্পর্ক)। এটি চীনা একটি মাইক্রোড্রামার বাংলা ডাব। একই প্ল্যাটফর্মে পরে মুক্তি পায় আরও তিনটি চীনা মাইক্রোড্রামা।
এ বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে দীপ্ত প্লের হেড অব ডিজিটাল মোহাম্মদ আবু নাসিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাংলাদেশও এটা (মাইক্রোড্রামা) ভালো করবে। কারণ, টিকটক এখন জনপ্রিয়, ফেসবুক রিলসও সাম্প্রতিক সময়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এই দুই প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয়তা ধরেই মাইক্রোড্রামা তৈরি হয়েছে।’
সামনে মৌলিক মাইক্রোড্রামা নিয়ে কাজের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানালেন মোহাম্মদ আবু নাসিম। ‘আমরা ভালো সাড়া পেয়েছি। চীনা কনটেন্টের অ্যাডাপটেশনটা এ জন্যই করা যে আমাদের দর্শক কী পছন্দ করছেন, সেটা বোঝা। আমরা খুব শিগগির এ ধরনের মৌলিক কনটেন্ট তৈরির চেষ্টা করব,’ বললেন তিনি। তবে তিনি মনে করিয়ে দিলেন, এটার চ্যালেঞ্জও কম নয়, ‘সিনেমার সঙ্গে মাইক্রোড্রামার অনেক পার্থক্য। দেড় থেকে দুই মিনিটের মধ্যে একটা দর্শককে ধরে রাখতে হবে। আবার এমনভাবে শেষ করতে হবে যেন পরের পর্বও দেখার আগ্রহ থাকে। ভার্টিক্যাল স্ক্রিনে আপনি লং শট নিতে পারবেন না, খুব বেশি প্রপস ব্যবহার করতে পারবেন না শুধু ফেশিয়াল এক্সপ্রেশনে দিয়ে কাজ চালাতে হয়।’
নির্মাতা আদনান আল রাজীবও মনে করেন, মাইক্রোড্রামার জনপ্রিয়তা বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। যেহেতু মনোযাগ কমে যাচ্ছে, তাই এ ধরনের ছোট ছোট কনটেন্ট মানুষ পছন্দ করা শুরু করেছে। বড় কনটেন্টও দেখবে, আবার এ ধরনের ছোট কনটেন্টও দেখবে। চীনে যেহেতু এটা ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে, আশপাশের দেশেও ছড়িয়ে পড়বে। তবে মাইক্রোড্রামার জন্য আলাদা কনটেন্ট ডিজাইন করতে হবে।
টিকটক আর রিলস জনপ্রিয় হওয়ায় মাইক্রোড্রামার সম্ভবনা দেখছেন অনেকে। তবে আদনান আল রাজীব মনে করিয়ে দিলেন, দুটো দুই ধরনের কনটেন্ট। তাঁর ভাষ্যে, ‘টিকটক বা রিলসে পূর্ণাঙ্গ গল্প থাকে না। ক্রিয়েটররা একটা দৃশ্য পরিকল্পনা করে বানান। কিন্তু মাইক্রোড্রামায় কিন্তু বড় একটা গল্প আছে, যেটার ওপর ভিত্তি করেই ড্রামা তৈরি হয়। এখানে একটা ভালো শুরু, হুক পয়েন্ট থাকে।’
এই নির্মাতা মনে করেন, সামনে দেশেও মাইক্রোড্রামাভিত্তিক ইউটিউব চ্যানেল বা প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠতে পারে।