গ্রামীণ চরিত্রে প্রীতম হাসানের লুক পছন্দ করেছেন ভক্তরা। প্রীতম নিজেও জানিয়েছেন, ‘আড়াল’ হতে যাচ্ছে তাঁর সবচেয়ে মনে রাখার মতো কাজ। তবে গ্রামের যুবকের চরিত্রে অভিনয় সহজ ছিল না। কীভাবে নতুন এই লুকের জন্য নিজেকে তৈরি করলেন প্রীতম? বলেন, ‘লুকটা তৈরি করার জন্য টিমের সঙ্গে কয়েকবার বসা হয়েছে। কীভাবে পুরো চরিত্রটা তৈরি করা যায়, এটা নিয়ে কয়েকবার করে ভেবেছি। গোঁফ কেটে ফেলার পর দেখি চেহারা একদম বদলে গেছে। হাঁটাচলা, কথা বলা, শরীরী ভাষা—সবকিছুই বদলাতে হয়েছে। আমার জন্য যা সহজ ছিল না।’ তিনি আরও বলেন, অভিনয়ের ক্ষেত্রে প্রতিবার নতুন কিছু নিয়ে হাজির হতে চেষ্টা করেন তিনি, ‘কাজের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ থাকলে উপভোগ করি। যে কাজ একবার হয়ে যায়, সেটার আসলে পুনরাবৃত্তি করার মানে হয় না। “আড়াল”-এর গল্পটা একদম অভিনব। ভালো ও ভিন্ন কিছু দেখবে দর্শক।’

‘আড়াল’-এ আরও আছেন কাজী নওশাবা, সুমন আনোয়ার প্রমুখ। ‘আড়াল’-এর মতো কাজে সুযোগ পেয়ে আনন্দিত নওশাবা, ‘মাঝেমধ্যে খুব অবাক হই, সেই সঙ্গে কৃতজ্ঞও বোধ করি এই ভেবে যে আমাকে ভিন্ন রকমের সব চরিত্রে সুযোগ দেওয়ার জন্য। মিষ্টি কিছু ব্যতিক্রমধর্মী কাজ ছিল। আর আড়াল খুব গহিনের গল্প—আত্মোপলব্ধির, নিজেকে আয়নায় দেখার গল্প। এ বিষয়গুলো ব্যক্তিগতভাবে আমার খুব পছন্দের।’
‘আড়াল’ দর্শককে কী বার্তা দিতে চাইছে? জানতে চাইলে নওশাবা বলেন, ‘সর্বপ্রথম মানুষ আসলে নিজের কাছ থেকে আড়াল হয়। তারপর ধীরে ধীরে পরিবার, সমাজ সবকিছু থেকে আড়াল হয়ে যায়। আমাদের কনটেন্টের নাম কেন “আড়াল” হলো, এটা দর্শক দেখলে জানতে পারবে।’

পরিচালক নাজমুল নবীন বলেন, ‘আড়াল’ মনস্তাত্ত্বিক গল্প। মনস্তাত্ত্বিক গল্প নিয়ে তো অনেক কাজই হয়েছে। তবে গ্রামের প্রেক্ষাপটে নির্মিত হয়েছে, এদিক থেকে আড়াল ব্যতিক্রম। পরিচালক বলেন, ‘গল্পটা অনেক ধরনের প্রশ্ন তৈরি করছিল, পীড়া দিয়েছিল, যে কারণেই এটা নিয়ে কাজ করা। আমাদের সমাজের যে চরিত্রগুলোকে খুব কম দেখানো হয়, চেষ্টা করেছি সেই চরিত্রগুলোকে তুলে আনতে।’

পরিচালক আরও বলেন, ‘আড়াল’ দিয়ে নিজের চেনা গণ্ডির বাইরে গিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছেন তিনি। মনপুরার সত্যিকারের লোকেশনে শুটিং হয়েছে। নাজমুল নবীন বলেন, তাঁরা যেখানে শুটিং করেছেন, ওই এলাকায় এবারই প্রথম কোনো শুটিং হলো। ভালো কিছু দেওয়ার চেষ্টা থেকেই চ্যালেঞ্জটি নিয়েছিলেন তাঁরা।