গোপন কক্ষে ২ কোটি ৪০ লাখ ডলার দেখে চমকে গেল পুলিশ
বেন অ্যাফ্লেক ও ম্যাট ডেমনের বন্ধুত্ব আজকের নয়। আর এই দুই বন্ধু যখনই কোনো সিনেমায় যুক্ত হয়েছেন, নতুন কিছু হয়েছে। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি; বেন-ম্যাটের নতুন সিনেমা ‘দ্য রিপ’ নেটফ্লিক্সে মুক্তির পরই সাড়া ফেলেছে। ১৬ জানুয়ারি মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি নিয়ে উচ্ছ্বসিত দর্শক-সমালোচক। অনেকে বলছেন, সিনেমাটি নব্বইয়ের দশকের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে।
ঘটনার আড়ালের ঘটনা
মায়ামি লেকসের আবাসিক এলাকায় পামগাছে ঘেরা একটি বাড়ি। বাইরে থেকে দেখলে একেবারেই সাধারণ। কিন্তু ২০১৬ সালের ২৯ জুন সেই বাড়িই হয়ে ওঠে ইতিহাসের অংশ। সেদিন মায়ামি পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তা ক্রিস ক্যাসিয়ানো ও তাঁর দল বাড়িটিতে তল্লাশি চালায়। বছরের পর বছর ধরে চলা একটি মাদক পাচার তদন্তের শেষ ধাপ হওয়ার কথা ছিল এটি। কিন্তু ভেতরে ঢুকেই তারা এমন কিছুর মুখোমুখি হয়, যা পুরো ঘটনার মোড় বদলে দেয়।
বাড়িটিতে পুলিশ ঢুকতেই চিলেকোঠা থেকে ভেঙে পড়ে ড্রাইওয়াল, সরে যায় ভুয়া দেয়াল। সেটা ছিল গোপন একটি কক্ষের প্রবেশদ্বার। সেখানে রাখা ছিল কমলা রঙের ২৪টি বড় বালতি। প্রতিটি বালতিই ১০০ ডলারের নোটের বান্ডিলে ভর্তি। মোট ২ কোটি ৪০ লাখ ডলার! পুলিশ বিভাগের অর্থ জব্দের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এ খবর বাইরে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় অবিশ্বাস আর সন্দেহের খেলা। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে তারা বুঝে উঠতে পারে না, এ লড়াইয়ে কাকে বিশ্বাস করবে আর কাকে করবে না।
এ ঘটনা অবলম্বনেই তৈরি হয়েছে নেটফ্লিক্সের ক্রাইম থ্রিলার ‘দ্য রিপ’। সত্য ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত ছবিটি শুধু একটি পুলিশি অভিযানের গল্পই নয়; বরং বিপুল অর্থ কীভাবে মানুষের মনোজগৎকে নাড়িয়ে দেয়, বন্ধুত্বে ফাটল ধরায়, তারও ব্যবচ্ছেদ।
ছবির লেখক ও পরিচালক জো কারনাহান বলেন, ‘আসলে মানুষে মানুষে সম্পর্ক, বন্ধুত্ব আর ভালোবাসার মানুষগুলো আপনার জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেসব নিয়েই এই ছবি।’
‘দ্য রিপ’–এর দৃশ্য। ছবি: নেটফ্লিক্সদীর্ঘ বন্ধুত্বের শক্তি
বেন অ্যাফ্লেক ও ম্যাট ডেমনের চার দশকের বন্ধুত্ব ছবিটিতে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। বোস্টনের দুই বন্ধু, যাঁরা খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছেও নিজেদের শিকড় ভুলে যাননি—এই বাস্তব সম্পর্ক পর্দায় স্পষ্ট। সংলাপের মাঝখানে বোঝাপড়া, না–বলা কথার ভেতরকার টান—সবই আসে সেই দীর্ঘ সম্পর্কের ইতিহাস থেকে।
সদ্য পদোন্নতি পাওয়া ইউনিটপ্রধান ডুমার্সের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ডেমন। আর তাঁর পুরোনো সহকর্মী ডিটেকটিভ সার্জেন্ট জে ডি বার্নের চরিত্রটি করেছেন অ্যাফ্লেক, যিনি এখন ডুমার্সের অধীন। ক্ষমতার এই বদল সম্পর্কের ভেতরে টানাপোড়েন তৈরি করে—বন্ধুত্ব আর কর্তৃত্ব কি একসঙ্গে টিকে থাকতে পারে, সিনেমায় সেটাই দেখানো হয়েছে।
বিনোদনের মোড়কে বার্তা
সমালোচকেরা বলছেন, নির্মাতা এই সিনেমায় একধরনের চাপা উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি করেছেন। গুলি বা ধাওয়াই এখানে মূল বিষয় নয়। মূল রোমাঞ্চ তৈরি হয় অপেক্ষা থেকে—ঘণ্টার পর ঘণ্টা টাকা গোনা, তাকিয়ে থাকা আর জানার চেষ্টা, এত টাকার পাশে দাঁড়িয়ে থাকলে মানুষ আসলে কী হয়ে ওঠে।
কারনাহান বলেন, ‘আমি দেখাতে চেয়েছি, জীবন কতটা ভঙ্গুর আবার কতটা সুন্দরও হতে পারে। তবে আমি গুরুগম্ভীর কিছু বানাতে চাইনি; চেয়েছি বিনোদনের মোড়কে বার্তা দিতে।’
টাইম অবলম্বনে