চলচ্চিত্রটি প্রসঙ্গে নির্মাতা আহমেদ তাহসিন শামস বলেন, ‘নিরীক্ষাধর্মী চলচ্চিত্রটির গল্প বয়ান, চরিত্রায়ণ ও অভিনয়শিল্পীদের সংলাপে চরিত্রের অস্তিত্ব-সংকটটি ফুটিয়ে তুলেছি কিছুটা উত্তরাধুনিকরূপে। যৌনকর্মীদের জীবনের বিষণ্নতা ফুটিয়ে তুলতেই এর রং রাখা হয়েছে সাদা-কালো। আমাদের দেশীয় বাস্তবতায় প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের কথা ভাবিনি। তাই এটি মুক্তি পেল আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মটিতে। আশা করছি বিশ্ব চলচ্চিত্রের দর্শকদের পাশাপাশি দেশের দর্শকেরাও চলচ্চিত্রটি শিগগিরই উপভোগ করবেন।’

default-image

চলচ্চিত্রটিতে নিজের চরিত্র প্রসঙ্গে জনপ্রিয় অভিনেতা শাহাদাত হোসাইন বলেন, ‘চলচ্চিত্রটিতে আমার চরিত্রটি একটু পরাবাস্তব। কেননা, চরিত্রটির অতীত, উপস্থিতি এবং সবই অন্য চরিত্রগুলোর কাছে অপরিচিত। তাই দর্শকদের কাছে কিছুটা অদ্ভুত ঠেকবে এই “অপরিচিত” চরিত্রকে। অন্যদিক থেকে চলচ্চিত্রটির কেন্দ্রীয় চরিত্র মৌ যৌনবৃত্তি থেকে অনেক দূরে সরে যেতে যৌনপল্লি থেকে পালিয়ে যে গ্রামে এসে আশ্রয় নেয়, সেখানে চরিত্রটিকে কিছুটা “আগন্তুক” বলে মনে হবে। দর্শক দ্বিধাগ্রস্ত হবেন সে সমাজসংস্কারক নাকি মৌয়ের সন্তান মনসার পিতা। তার সব সময় চেষ্টা থাকবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে মৌ যেন সাহসের সঙ্গে পা ফেলতে পারে, সাধারণ জীবনের অধিকার ফিরে পেতে পারে।’

default-image

অভিনেত্রী মৌমিতা মিত্র মনে করেন, ‘মৌ চরিত্রটি এমন একটি চরিত্র, যেখানে সে কখনো স্নেহময়ী মা, যৌনকর্মী এবং বড় বোন। প্রতিটি চরিত্রই এত স্বতন্ত্র ছিল যে এটিতে বিশ্বাসযোগ্যভাবে চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলা সত্যিই চ্যালেঞ্জিং ছিল। আমি চেষ্টা করেছি ভালোভাবেই চরিত্রগুলো ফুটিয়ে তুলতে।’

তাহসিন জানান, একটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য তাঁর পরবর্তী চলচ্চিত্র ‘আরশিনগর’-এর নির্মাণ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। লালনের আধ্যাত্মবাদের আলোকে স্যামুয়েল ব্যাকেটের বিখ্যাত উপন্যাস ‘ওয়েটিং ফর গডো’ অবলম্বনে তিনি নির্মাণ করেছেন চলচ্চিত্রটি। উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় দুই চরিত্র গেগো এবং ডিডি নামের দুই কেন্দ্রীয় চরিত্র চলচ্চিত্রটিতে এসেছে ‘হাম্পটি’ ‘ডাম্পটি’ নামে। যাতে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা আহমেদ রুবেল ও শাহাদাত হোসাইন। চলচ্চিত্রটির সম্পাদনার কাজ শেষে ২০২৩ সালে চলচ্চিত্রটি মুক্তির পরিকল্পনা নির্মাতার।

default-image

নির্মাতা আহমেদ তাহসিন শামস বাংলাদেশের নটর ডেম ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ইউনিভার্সিটি অব নটর ডেমে শিক্ষকতা করছেন। ২০১১ সালে তাঁর নির্মিত টেলিফিল্ম ‘শূন্যের আবৃত্তি’ (সাউন্ড অব সাইলেন্স) মুক্তি পায় চ্যানেল আইতে। চলচ্চিত্র ‘দেহস্টেশান’ তাঁর দ্বিতীয় নির্মাণ।

চলচ্চিত্রটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন কলকাতার অভিনেত্রী মৌমিতা মিত্র। আরও রয়েছেন বাংলাদেশের শাহাদাত হোসাইন, প্রয়াত এস এম মোহসিন, হোসাইন মোহাম্মদ বেলাল, আহমেদ রানা, মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন, ফারহানা ইভা, সৈকত সিদ্দিকি প্রমুখ।

ওটিটি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন