মিশার অন্য চেহারা

সিরিজের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন ঢাকাই সিনেমার দাপুটে খলনায়ক মিশা সওদাগর।ছবি: সংগৃহীত

বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে লিফটে আটকা পড়েছেন রবিউল আলম, অনেক কসরত করেও বেরোতে পারছেন না। সেখান থেকে তিনি বেঁচে ফিরতে পারবেন? এমন প্রশ্নের উত্তর মিলবে চরকির লিমিটেড সিরিজ ‘যদি আমি বেঁচে ফিরি’তে। সিরিজের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন ঢাকাই সিনেমার দাপুটে খলনায়ক মিশা সওদাগর। সিনেমার গণ্ডি পেরিয়ে প্রথমবার কোনো ওটিটি কনটেন্টে কাজ করেছেন তিনি। লিমিটেড সিরিজটি আজ চরকিতে মুক্তি পাবে।

প্রথমবার ওটিটিতে কাজের অভিজ্ঞতা বিষয়ে মিশা সওদাগর বলেন, ‘নতুন জায়গায় গেলে বা নতুন কারও সঙ্গে পরিচয় হলে সেটার অভিজ্ঞতা ভিন্ন রকম থাকে। চরকির ক্ষেত্রেও আমার তেমনটা মনে হয়েছে। আর চরকি তো এরই মধ্যে তার কাজ দিয়ে মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে। কাজটা করার আগে থেকেই ফোকাস ছিলাম যে ভালো একটা প্ল্যাটফর্মের জন্য কাজ করতে যাচ্ছি। যতটুকু পেরেছি, আমার সিরিয়াসনেসকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি।’
‘বস নাম্বার ওয়ান’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে খলনায়ক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন মিশা, সাড়ে তিন দশকের ক্যারিয়ারে বড় পর্দায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন মিশা। এবার আসছেন অনলাইন ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে, সিরিজে একজন দুর্নীতিগ্রস্ত প্রকৌশলীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মিশা।

নিজের চরিত্র নিয়ে মিশা বলেন, ‘আমি ক্লাস্টোফোবিয়ার (বদ্ধ জায়গায় আটকে পড়ার ভীতি) রোগী। লিফট, বেজমেন্ট, হাইট, অন্ধকারে গেলে আমার হাত-পা কাঁপতে থাকে। যখন শুনলাম যে লিফটের মধ্যে গল্প, তখন থেকেই চিন্তায় ছিলাম। পরে তো ভালোমতোই কাজটা শেষ করলাম। দারুণ একটা হিউম্যান সাইকোলজির গল্প। আর চরিত্রটাও খুব বাস্তবসম্মত; দেখে মনে হবে খুব কাছের বা আপনার আশপাশের একটা চরিত্র। আরোপিত কোনো চরিত্র নয়। আর এই গল্পের মধ্যে অনেক বার্তা আছে, যেটা দর্শক দেখলে বুঝতে পারবে।’

মিশার সঙ্গে দোয়েল।
ছবি: সংগৃহীত

এতে মিশার স্ত্রীর চরিত্রে বিজরী বরকতউল্লাহ ও বান্ধবীর চরিত্রে দিলরুবা হোসেন অভিনয় করেছেন। মুসাফির সৈয়দসহ আরও অনেকে অভিনয় করেছেন। সিরিজটি নির্মাণ করেছেন তানিম পারভেজ। চরকিতে সবারই এটি প্রথম কাজ।

অভিনেত্রী বিজরী বরকতউল্লাহ বলেন, ‘স্ক্রিপ্টটা আমার কাছে খুব ভালো লেগেছিল। আর অনেক তরুণ ভালো ভালো কাজ করছে এখন। আমি তো বিশ্বাস করি, তরুণেরা এখন অনেক নতুন কনটেন্ট, নতুন কনসেপ্ট আবিষ্কার করে আমাদের কাজের সুযোগ করে দেবে। দর্শক ভালো কিছু দেখবে। আমার কাছে মনে হয়েছে, চরকির ভিশন খুব পরিষ্কার। দর্শককে খারাপ কিছু দিতে চায় না তারা। এই জায়গায় আমার রুচির সঙ্গে অনেকখানি মিলে গেছে। দর্শক এবার বিচার করুক।’

মিশার বান্ধবীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন দোয়েল।
ছবি: সংগৃহীত


অভিনেত্রী দিলরুবা হোসেন বলেন, ‘গল্পের প্লটটা খুব সমসাময়িক। আর এ রকম বাস্তব গল্প দর্শক দেখতেও পছন্দ করে। আর এখন পর্যন্ত দর্শক আমাকে যেসব চরিত্রে দেখেছে, সেগুলো থেকে এটা একদম আলাদা। এই প্রথম দর্শক আমাকে এ রকম চরিত্রে দেখবে। আর মিশা ভাই, বিজরী আপুর সঙ্গে কাজ করব ভেবে এত নার্ভাস ছিলাম যে কী বলব। তবে সবাই মিলে খুব আনন্দ নিয়ে, টিম হয়ে কাজটা করেছি।’
পরিচালক তানিম পারভেজ বলেন, ‘প্রতিটি নতুন কাজই আমার কাছে নতুন অভিজ্ঞতা আর একেকটা অভিজ্ঞতা আমার কাছে অর্জন। গল্পটা প্রথম শুনেই বেশ মজা পেয়েছি। চেষ্টা করেছি গল্পটা নতুনভাবে উপস্থাপন করতে। অভিনেতা থেকে কলাকুশলী—সবাই কাজটার প্রতি বেশ ডেডিকেটেড ছিলেন। যে কারণে অনেক কঠিন সময় পার করে আসতে পেরেছি। বাকিটা এখন দর্শকের ওপরে।’