শহুরে মেয়ে অনন্যার দুর্গম যাত্রা, কী হবে শেষ পর্যন্ত
দুই বছর আগে অ্যান্থোলজি হরর সিরিজ ‘আধুনিক বাংলা হোটেল’ বানিয়ে চমকে দিয়েছিলেন কাজী আসাদ। মোশাররফ করিমকে নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন গল্পের সিরিজটি প্রশংসিত হয়েছিল। দুই বছর পর নতুন কাজ নিয়ে ফিরছেন এই তরুণ নির্মাতা। তাঁর নির্মিত ফ্রেশ অনন্যা স্যানিটারি ন্যাপকিন প্রেজেন্টস চরকি অরিজিনাল ফিল্ম ‘লাইফলাইন’ পাওয়ার্ড বাই নোরিক্স-১ মুক্তি মুক্তি পাচ্ছে আজ রাতে।
গল্প নিয়ে নির্মাতা কাজী আসাদ জানান, ভালোবাসার টানে মানুষ কত দূর যায়? আর কত কিছু হারানোর ঝুঁকি নিতে পারে? শহুরে মেয়ে অনন্যার দুর্গম যাত্রা কেন এবং এর শেষ কোথায়? এসব উত্তরের মধ্য দিয়ে গভীর কিছু অনুভূতির কথা বলার চেষ্টা করা হয়েছে। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন বিদ্যা সিনহা মিম, রেজওয়ান পারভেজ, গাজী রাকায়েত, আ খ ম হাসান, খায়রুল আলম সবুজ, নাজনীন হাসান চুমকি, আনিসা নূর আয়াত, ফাতেমাতুজ জোহরা ইভা।
নতুন সিনেমা নিয়ে কাজী আসাদ বলেন, ‘“আধুনিক বাংলা হোটেল”–এর পর আমি চাচ্ছিলাম ব্যক্তিগতভাবে নতুন কিছু করতে। ড্রামা আমার খুব পছন্দের একটা জনরা। সেই জায়গা থেকে ড্রামা বা সোশ্যাল ড্রামা নিয়ে কাজ করা। গল্পের আইডিয়াটা শোনার পর মনে হয়েছিল এটা সিনেমার গল্প হতে পারে। সোশ্যাল ড্রামা ঘরানার এই গল্পটার মধ্যে সোশ্যাল অ্যাওয়ারনেসও আছে, ইমোশন আছে, এই বিষয়টা ফিল্ম মেকার হিসেবে আমার খুব ভালো লাগল। এই গল্পটার মধ্যে সচেতনভাবে আমরা এমন কিছু বলতে চেয়েছি, যেটা দর্শকের সঙ্গে সঙ্গে নির্মাতার একধরনের যোগাযোগ তৈরি করে।’
সিনেমার নাম ‘লাইফলাইন’ কেন সেটা অবশ্য এখনই বলতে চান না নির্মাতা। শুধু বললেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে মনে করি যে অডিয়েন্স খুব হালকা মাথায় একদম কোনো প্রিপারেশন ছাড়াই সিনেমাটা দেখতে বসলে খুবই সহজ সুন্দর গল্প দেখতে পারবে। ওটিটির কনটেন্ট ব্যস্ততার কারণে অনেক সময় কিছু অংশ করে দুই-তিনবারে দেখি। দর্শকদের কাছে অনুরোধ থাকবে, তাঁরা যেন একটু সময় নিয়ে একবারে ছবিটা দেখে ফেলেন। তাহলে ফিল্মটার আসল ফিলিংটা দর্শকেরা সম্ভবত পাবেন বলে আমার বিশ্বাস।’
গত ১০ জুন রাতে প্রকাশ পায় সিনেমাটির ট্রেলার, যেখানে দেখা যাচ্ছে বিদ্যা সিনহা মিম কাউকে খুঁজছেন। তার এই যাত্রায় সহযোগী রিজওয়ান পারভেজ। যিনি কঠিন রাস্তায় বাইকে করে মিমকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছেন এবং দুজন মিলে ঝগড়াও করছেন। অভিনেতা রিজওয়ান পারভেজ জানান, এটি দায়িত্ববোধের গল্প, ভালোবাসার গল্প, অনুভূতির গল্প। ভালোবাসার অনেক রূপ থাকে, এখানে একটা রূপ দেখানো হয়েছে। তিনি মনে করেন ফিল্মটি দর্শকদের নতুন বোধের জন্ম দেবে। অভিনেতার ভাষ্যে, ‘আমার চরিত্রের নাম কোরবান। এ চরিত্রটির বাইরে গরম, ভেতরে নরম। চরিত্রটির অনুভূতিগুলো দর্শকেরা সহজেই ধরতে পারবেন।’
কঠিন ছিল এমন রাস্তায় মোটরসাইকেল চালানো, জানান রিজওয়ান। বলেন, ‘খেতের আইল দিয়ে মোটরসাইকেল চালাতে হয়েছে। এটা এমনিতেই কঠিন। সেটাও সমস্যা হতো না, কিন্তু আমার সঙ্গে মিম (বিদ্যা সিনহা মিম) ছিল। এটা একটা দায়িত্ব, যেন তিনি ঠিক থাকেন। মোটরসাইকেল নিয়ে পড়ে গিয়ে মিম যদি আহত হতেন, সেটা খুব কষ্টের হতো আমার জন্য বা যে কারও জন্যই।’
এ কথায় সায় দেন বিদ্যা সিনহা মিম। জানান, একে তো মাটির উঁচু–নিচু রাস্তা, তার ওপর প্রচণ্ড গরম। একটা–দুইটা দৃশ্য করেই সবার অবস্থা খারাপ হয়ে যেত বলে জানান মিম। গত ঈদে মিমের নতুন সিনেমা ‘মালিক’ এখনো প্রেক্ষাগৃহে চলছে। এর মধ্যেই ওটিটিতেও আসছে নতুন প্রকল্প। ‘লাইফলাইন’ নিয়ে তাঁর ভাষ্য, ‘থিমেটিক পোস্টারটা যদি খেয়াল করেন, দেখবেন সেখানে বালুঘড়ির মধ্যে অনন্যা চরিত্রটি বসে আছে। অর্থাৎ চরিত্রটি একটা সময়ের মধ্যে আছে বা একটা সময়ের মুখোমুখি, যেটা সে ফেস করে এগিয়ে যেতে পারবে কিংবা পারবে না। সেটা জানতে হলে, দেখতে হবে।’
‘লাইফলাইন’ ফিল্ম নিয়ে চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি বলেন, ‘চরকি সব সময় দর্শকদের নতুন কিছু দিতে চেয়েছে, “লাইফলাইন” সেই চেষ্টারই অংশ। এই গল্পে একটা নতুনত্ব আছে, চরিত্র এবং তাদের আচরণের মধ্যে আমাদের নিজস্বতা আছে। এই অরিজিনালিটিই আমাদের শক্তি বলে মনে করি।’
সিনেমাটির মাধ্যমে বিদ্যা সিনহা মিমকে প্রথমবারের মতো চরকির কোনো প্রকল্পে দেখা গেল। সিনেমাটির গল্প লিখেছেন মাহমুদুল হাসান ও কাজী আসাদ; চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন আসাদুজ্জামান আবীর ও কাজী আসাদ।