ভারতের পথে কারিনা, সঙ্গে যেতে পারেননি কায়সার হামিদ
লিভার–সংক্রান্ত জটিলতায় লাইফ সাপোর্টে থাকা কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ভারতের চেন্নাই নেওয়া হয়েছে। তাঁকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি আজ সোমবার রাত ১১টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চেন্নাইয়ের উদ্দেশে রওনা হয়।
কারিনার সঙ্গে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে আছেন তাঁর মা ও দুই ভাই। তবে সঙ্গে যাননি তাঁর বাবা, জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার কায়সার হামিদ। ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ জোগাড়ের কারণেই আপাতত দেশে থাকতে হচ্ছে তাঁকে।
রাতেই প্রথম আলোকে কায়সার হামিদ বলেন, ‘দেশে আমার কিছু কাজ এখনো বাকি। ব্যয়বহুল চিকিৎসা, তাই অনেক টাকার সংস্থান করতে হচ্ছে। সে কারণে আমি এখন যাচ্ছি না। আমার স্ত্রী ও সন্তানেরা ওর সঙ্গে আছে। সবাই আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন।’
এর আগে সোমবার দুপুরে তিনি জানিয়েছিলেন, কারিনাকে নিতে চেন্নাই থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আসবে। একই সঙ্গে ভারতের ভিসাও হাতে পেয়েছে পরিবার। তবে চিকিৎসা, হাসপাতালের বিল ও এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যয় মেটাতে পরিবারকে চরম আর্থিক চাপে পড়তে হয়েছে বলেও জানান তিনি। সে সময় কায়সার হামিদ বলেন, পরিবারের কিছু ফিক্সড ডিপোজিট ভাঙতে হচ্ছে, পাশাপাশি জমি বিক্রির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
গত শুক্রবার রাত থেকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন কারিনা কায়সার। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরেই তাঁর শারীরিক অবস্থা খারাপ যাচ্ছিল। শুরুতে সাধারণ অসুস্থতা মনে হলেও পরে অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর শরীরে সংক্রমণ হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি হেপাটাইটিস এ-তে আক্রান্ত হন। আগে থেকেই তাঁর ফ্যাটি লিভারের সমস্যাও ছিল। পরে জটিলতা বাড়তে বাড়তে তাঁর লিভার ফেইলিউর হলে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।
কারিনার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কায়সার হামিদ জানিয়েছেন, তাঁর অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলেও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজ নিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছিলেন কারিনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্ট তরুণ দর্শকদের কাছে তাঁকে জনপ্রিয় করে তোলে।
পরে ওটিটি ও নাটকের জগতেও ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে চরকি অরিজিনাল সিরিজ ‘ইন্টার্নশিপ’, ‘৩৬-২৪-৩৬’ ছাড়াও বিভিন্ন নাটক ও ডিজিটাল কনটেন্ট। সহশিল্পী ও নির্মাতাদের কাছে প্রাণবন্ত ও পরিশ্রমী একজন মানুষ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন তিনি। তাঁর হঠাৎ অসুস্থতার খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন সহকর্মী ও ভক্তরা।