আপাতদৃষ্টে কোনো ‘কারণ ছাড়াই’ জনপ্রিয়তা পেয়েছে সিরিজটি। গল্প আহামরি কিছু নয়। নেই কোনো চেনা তারকাও। সমালোচকেরাও সেভাবে পছন্দ করেননি। তবে কোন সিরিজ কখন যে দর্শক লুফে নেন, বলা মুশকিল। এমনটাই হয়েছে নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া সিরিজ ‘হু ইজ এরিন কার্টার’-এর ক্ষেত্রে।

আরও পড়ুন

এক মায়ের লড়াই

গত ২৫ আগস্ট মুক্তির পর থেকে স্ট্রিমিং সাইটটিতে এক রকম ঝড় বইয়ে দিয়েছে সিরিজটি। নেটফ্লিক্সের বৈশ্বিক টপ চার্টের ইংরেজি সিরিজ বিভাগে শীর্ষে আছে সিরিজটি। গত শনিবার পর্যন্ত এটি দেখা হয়েছে ৭ কোটি ৪৫ লাখের বেশি বার!

‘হু ইজ এরিন কার্টার’ অ্যাকশন, ক্রাইম ঘরানার সিরিজ। আট পর্বের ব্রিটিশ সিরিজটির মূল চরিত্রে আছেন এরিন কার্টার নামের এক স্কুলশিক্ষক। এই নারী যুক্তরাজ্য থেকে এসে থিতু হয়েছেন স্পেনের বার্সেলোনায়। সবকিছু ঠিকভাবেই চলছিল। ঝামেলার সূত্রপাত স্থানীয় এক সুপারমার্কেটে ডাকাতির ঘটনা থেকে। ঘটনাচক্রে সেই সময় মেয়েকে নিয়ে সুপারমার্কেটে ছিলেন এরিন কার্টার। তাঁর অ্যাকশনের কাছে দাঁড়াতেই পারেন না এক ডাকাত সদস্য। এরপর ধীরে ধীরে আরও ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েন এরিন। প্রকাশ্যে আসতে থাকে এরিন কার্টারের অতীত। প্রশ্ন ওঠে, এরিন কি কেবলই নিরীহ গোছের এক স্কুলশিক্ষক? নাকি আড়ালে তাঁর অন্য পরিচয়ও আছে?

আইএমডিবি, রটেন টমেটোজে দর্শকেরা বলছেন, গল্প গতানুগতিক হলেও নারীপ্রধান অ্যাকশন সিরিজটি তাঁদের ভালো লেগেছে। বিশেষ করে অ্যাকশনের পাশাপাশি সিরিজটিতে একটি পারিবারিক ও আবেগের দিকও দেখানো হয়েছে।

‘হু ইজ এরিন কার্টার’ সিরিজের দৃশ্য। আইএমডিবি

সিরিজের শেষ পর্যন্ত যে টান টান উত্তেজনা জিইয়ে রেখেছেন পরিচালক, সেটিও তাঁদের পছন্দ হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সিরিজটি হয়তো কোনো সত্য ঘটনা অবলম্বনে। তবে সিরিজটির স্রষ্টা জ্যাক লোথিয়ান টাইম ডটকমকে জানিয়েছেন, সত্য ঘটনা নয়; বরং গত শতকের পঞ্চাশের দশকের বিভিন্ন নোয়া সিনেমার প্রেরণায় তৈরি হয়েছে সিরিজটি।

‘হু ইজ এরিন কার্টার’-এ কার্টার চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুইডিশ অভিনেত্রী এভিন আহমেদ। কুর্দিশ বংশোদ্ভূত এই অভিনেত্রী নিজের দেশে আগে থেকেই জনপ্রিয় হলেও এই সিরিজের কল্যাণে তিনি বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পেয়েছেন। সিরিজটি যেভাবে শেষ, তাতে অনেকেই মনে করছেন, ‘হু ইজ এরিন কার্টার’-এর সিকুয়েল আসবে। যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে এমন জনপ্রিয় সিরিজের দ্বিতীয় কিস্তি না এলে আশ্চর্য ঘটনাই হবে।